প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর শিশুদের আনন্দ ও বিনোদনের সঙ্গে লেখাপড়া নিশ্চিত এবং ঝরে পড়া রোধ করতে টাঙ্গাইলের ১২ উপজেলার ১৬০টি স্কুলে নির্মাণ করা হচ্ছে খেলার মাঠ।
জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এরই মধ্যে এসব মাঠ তৈরির কার্যক্রম শুরু করেছে ১২টি উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তারা (ইউএনও)। শিশুদের আত্মবিশ্বাসী, সুখী, দলবদ্ধভাবে কাজ করতে দক্ষ, সৃজনশীল চিন্তাভাবনা ও দৃঢ় মানসিকতা সম্পন্ন হিসেবে গড়ে তুলতে এ উদ্যোগ অনন্য ভূমিকা পালন করবে বলে আশা সংশ্লিষ্টদের।
জেলা প্রশাসন জানায়, প্রতিটি শিশু অমূল্য এবং সম্ভাবনাময়। বিশেষ করে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর শিশুদের অনেক ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত বিনোদনের সুযোগ নেই। শিশুদের যত্নের সঙ্গে বিকশিত হওয়ার সুযোগ দিলে ভবিষ্যতে তাদের নিজেকে এবং দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে একটি দক্ষ ও সক্ষম জনগোষ্ঠী হিসেবে তৈরি করা সম্ভব হবে।
সেই লক্ষ্যেই ‘বিশ্বকে বদলে দিতে, বিকশিত হই আনন্দের সাথে’ প্রতিপাদ্য ধারণ করে জেলার প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে শিশুদের ঝরে পড়া রোধ করতে এবং শিশুদের আনন্দের সঙ্গে পাঠদান সুনিশ্চিত করতে টাঙ্গাইলের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর শিক্ষার্থীদের জন্য এই উদ্যোগ নিয়েছেন জেলা প্রশাসক শরীফা হক।

টাঙ্গাইল সদর উপজেলার ১৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খেলার মাঠ তৈরির জন্য নির্বাচন করা হয়েছে।
টাঙ্গাইল সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহীন মিয়া জানান, নির্ধারিত প্রতিটি স্কুলে খেলার মাঠে দোলনা, স্লাইডার ও মানচিত্র থাকবে। পর্যায়ক্রমে উপজেলার প্রান্তিক পর্যায়ের আরও প্রাথমিক বিদ্যালয় ও মাদ্রাসাকে এই কর্মসূচির আওতায় আনা হবে।
জেলা প্রশাসক শরীফা হক জানান, শিশুদের আনন্দের সঙ্গে বিকশিত হওয়ার সুযোগ দিলে ভবিষ্যতে তারা একটি দক্ষ ও সক্ষম জনগোষ্ঠী হিসেবে তৈরি হতে পারে। এ ছাড়াও খেলাধুলা শিশুদের আত্মবিশ্বাসী, সৃজনশীল, টিম ওয়ার্ক, সমস্যা সমাধানের সক্ষমতা বাড়ায় ও দৃঢ় মানসিকতাসম্পন্ন হিসেবে গড়ে তোলে।
সম্প্রতি শিক্ষার্থীদের পরিবেশ সচেতন নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে ‘একটি শিশু একটি স্বপ্ন ফুলের সঙ্গে বিকশিত হোক আগামীর প্রজন্ম’ এই প্রতিপাদ্যকে ধারণ করে জেলার এক হাজার ৬২৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তিনটি করে মোট চার হাজার ৬৯টি ফুলের গাছ (কৃষ্ণচূড়া, জারুল, সোনালু) রোপণ করেছে জেলা প্রশাসন।


