২০১৩ সালে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) অনুমোদিত ‘খুলনা শিপইয়ার্ড সড়ক প্রশস্তকরণ ও উন্নয়ন’ প্রকল্পের মেয়াদ এক যুগে দফায় দফায় বৃদ্ধি করার পরও কেন কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জিত হয়নি তা তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
একইসঙ্গে এই বিলম্ব ও অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় প্রধানমন্ত্রীর এই নির্দেশনা আসে।
বৈঠক শেষে খুলনা শিপইয়ার্ড প্রকল্পের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী বলেন, ১২ বছরেও প্রকল্পটি দফায় দফায় বাড়ানো হয়েছে। কিন্তু কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জন হয়নি কেন এবং এর পেছনে কী কারণ রয়েছে তা তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, খুলনা শিপইয়ার্ড সড়ক প্রশস্তকরণ ও উন্নয়ন প্রকল্পটি ২০১৩ সালের জুলাই মাসে একনেকে অনুমোদন পায়। তবে বিভিন্ন জটিলতায় প্রকল্পের মূল কাজ শুরু হতে দীর্ঘ বিলম্ব হয়। দীর্ঘ সাড়ে তিন বছরের বেশি সময় ধরে কাজ চলার পর ভৌত অগ্রগতি হয়েছে মাত্র ৭০ শতাংশ।
এর মধ্যে সংশ্লিষ্ট যৌথ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আতাউর রহমান লিমিটেড ও মাহাবুব ব্রাদার্স প্রাইভেট লিমিটেড কাজ অসমাপ্ত রেখে অতিরিক্ত বিল উত্তোলন করে লাপাত্তা হয়ে যায়। সড়ক সংস্কারের কাজ দীর্ঘদিন ফেলে রাখায় গত ৭ আগস্ট তাদের কার্যাদেশ ও চুক্তি বাতিল করা হয়।
৯৮ কোটি ৯০ লাখ টাকা ব্যয়ে দুই বছর মেয়াদি প্রকল্পটি ২০১৫ সালের জুনে শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হওয়ায় প্রথম দফায় এক বছর ও দ্বিতীয় দফায় দুই বছর সময় বাড়িয়ে ২০১৮ সালের মধ্যে কাজ শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়। সেই লক্ষ্যও পূরণ না হওয়ায় পরে নতুন করে তৃতীয় দফায় এক বছর, চতুর্থবার প্রথম সংশোধনীর মাধ্যমে তিন বছর, পঞ্চম দফায় দুই বছর, ষষ্ঠ ধাপে ছয় মাস এবং সপ্তম দফায় আরও ছয় মাস মেয়াদ বাড়ানো হয়।
এই বর্ধিত মেয়াদ ২০২৫ সালের জুনে শেষ হলেও ভৌত অগ্রগতি ৭০ শতাংশে আটকে থাকে। বাকি কাজ শেষ করতে অষ্টম ধাপে আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। অর্থাৎ দুই বছরের প্রকল্পের মেয়াদ গিয়ে ঠেকেছে এক যুগে।
মেয়াদের পাশাপাশি প্রকল্পটির ব্যয়ও বেড়েছে দফায় দফায়। প্রথমবার প্রকল্পটির ব্যয় ২৮ কোটি টাকা বাড়ানো হয়েছিল। দ্বিতীয়বারে বাড়ানো হয় ১৩২ কোটি টাকা। এতে প্রাথমিক পর্যায়ের ৯৮ কোটি ৯০ লাখ টাকার প্রকল্পের ব্যয় এসে দাঁড়ায় ২৫৯ কোটি টাকায়। পরবর্তীতে ব্যয় কিছুটা কমিয়ে ২৫৪ কোটি টাকা পুনর্নির্ধারণ করা হয়।
একনেকের এ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদ, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, বাণিজ্য মন্ত্রী খন্ডকার আব্দুল মুক্তাদির, পানি সম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, কৃষি মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী শেখ রবিউল আলমসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী, উপদেষ্টা এবং সচিবরা।


