বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া আর নেই। তিনি আজ সকাল ৬টায় রাজধানী ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮০ বছর।
মৃত্যুর সময় তিনি ছেলে তারেক রহমান ও তার স্ত্রী জুবাইদা রহমান, তাদের মেয়ে জাইমা রহমান এবং প্রয়াত ছেলে আরাফাত রহমানের স্ত্রী সৈয়দা শামিলা রহমান সিঁথি ও তাদের দু্ই মেয়ে জাহিয়া রহমান ও জাফিয়া রহমানকে রেখে গেছেন।
হাসপাতালে অত্যন্ত সংকটময় সময় কাটাচ্ছিলেন খালেদা জিয়া। সোমবার রাতে তাকে দেখতে যান ছেলে তারেক রহমানসহ পরিবারের সকল সদস্য ও ঘনিষ্ঠ আত্মীয় স্বজন। সবসময় খালেদা জিয়ার পাশে ছিলেন পুত্রবধূ সৈয়দা শামিলা রহমান।
খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন ধরে লিভার সিরোসিস, কিডনি জটিলতা, হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, আর্থ্রাইটিস, ফুসফুসের সমস্যা, চোখের রোগসহ বিভিন্ন জটিল অসুস্থতায় ভুগছিলেন। সর্বশেষ নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে গত ২৩ নভেম্বর তিনি এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি হন। এখানে যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও বাংলাদেশি চিকিৎসকদের সমন্বয়ে গঠিত মেডিকেল বোর্ড তার চিকিৎসা করছিল।
তিনি এর আগে একাধিকবার বিদেশে গিয়ে আর্থ্রাইটিসের চিকিৎসা নেন। আওয়ামী লীগ শাসনামলে তার শারীরিক অবস্থা বেশি খারাপ হতে থাকে। ২০১৭ সালে চিকিৎসার জন্য তিনি লন্ডনে যান। দুর্নীতির মামলায় আদালতে কারাদণ্ডের পর তিনি কারাগারে আরও অসুস্থ হয়ে পড়েন। কারাবন্দি অবস্থাতেই একাধিকবার তিনি বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসা নেন। এক পর্যায়ে সরকার নির্বাহী আদেশে তাকে মুক্তি দিলে তিনি এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে শুরু করেন। এসময় আওয়ামী লীগ সরকার তাকে চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার অনুমতি দেয়নি।
আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর সকল মামলা থেকে খালাস পেলে বিদেশে গিয়ে চিকিৎসার সুযোগ পান খালেদা জিয়া। চলতি বছরের ৮ জানুয়ারি চিকিৎসার জন্য যুক্তরাজ্যে গিয়ে লন্ডন ক্লিনিকে ভর্তি হন। সেখানে তিনি ১৭ দিন ধরে চিকিৎসা নেন। এরপর ২৫ জানুয়ারি থেকে তার বড় ছেলে তারেক রহমানের বাসভবনে লন্ডন ক্লিনিকের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক প্রফেসর প্যাট্রিক কেনেডি এবং প্রফেসর জেনিফার ক্রসের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা চালিয়ে যান। লন্ডন থেকে ৬ মে তিনি দেশে ফিরে আসেন।
খালেদা জিয়া ১৯৪৬ সালে দিনাজপুরে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা ইস্কান্দার মজুমদার ফেনী থেকে ব্যবসা সূত্রে প্রথমে জলপাইগুড়ি যান। সেখান থেকে পরে দিনাজপুরে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। খালেদা জিয়া ছিলেন তিন বোন ও দুই ভাইয়ের মধ্যে তৃতীয়। ১৯৬০ সালে সেনাকর্মকর্তা জিয়াউর রহমানের সঙ্গে তার বিয়ে হয়।
প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার দুই সন্তান। বড় ছেলে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান যুক্তরাজ্যের লন্ডনে ছিলেন। সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে গ্রেপ্তার হওয়ার পর অসুস্থ অবস্থায় জামিনে মুক্তি পেয়ে ২০০৮ সালের সেপ্টেম্বরে চিকিৎসার জন্য লন্ডনে যান। দীর্ঘ প্রায় ১৮ বছর পর গত ২৫ ডিসেম্বর তিনি দেশে ফিরে আসেন।
ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকো সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে গ্রেপ্তার হন। কারাগারে অসুস্থ হয়ে পড়লে উচ্চ আদালতের অনুমতি নিয়ে ২০০৮ সালের জুলাই মাসে তিনি চিকিৎসার জন্য প্রথমে থাইল্যান্ড যান। পরে সেখান থেকে মালয়েশিয়া গিয়ে চিকিৎসা ও বসবাস শুরু করেন। ২০১৫ সালের জানুয়ারি মাসে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে কুয়ালালামপুরের একটি হাসপাতালে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।


