খাগড়াছড়িতে মারমা জনগোষ্ঠীর এক স্কুলছাত্রীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনার পর ডাকা অবরোধ কর্মসূচি প্রত্যাহার করেছে পাহাড়ি সংগঠন জুম্ম ছাত্র জনতা। শনিবার সকালে সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে এক বিবৃতিতে এ ঘোষণা দেয় তারা।
এর আগে শারদীয় দুর্গোৎসব এবং প্রশাসনের আশ্বাসে অবরোধ ৫ অক্টোবর পর্যন্ত স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছিল পাহাড়ি সংগঠনটি। প্রশাসনের সঙ্গে দ্বিতীয় দফায় বৈঠকের পর স্থগিত করা অবরোধ প্রত্যাহার করা হয় বলে জানান আন্দোলনরতরা।
বিবৃতিতে বলা হয়, প্রশাসন তাদের ৮ দফা দাবি মেনে নেওয়ার আশ্বাস দেওয়ায় ওই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ সময় সব দাবি দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য প্রশাসনকে অনুরোধও করে জুম্ম ছাত্র জনতা।
খাগড়াছড়ি সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল বাতেন মৃধা জানান, অবরোধ প্রত্যাহরের ফলে পাহাড়ি অঞ্চলের জনজীবনে প্রাণ ফিরেছে। রাস্তায় যানবাহন দেখা যাচ্ছে। দোকান-পাট, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে চলছে বেচা-কেনা। সেইসঙ্গে নতুন করে যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি ঠেকাতে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নির্বিঘ্ন রাখতে পুলিশি নিরাপত্তা অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান তিনি।
গত ২৩ সেপ্টেম্বর মারমা জনগোষ্ঠীর এক স্কুলশিক্ষার্থীকে তুলে নিয়ে ধর্ষণের অভিযোগে এনে জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবিতে উত্তাল হয়ে ওঠে পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়ি।
ধর্ষকদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চেয়ে মিছিল, সমাবেশ ও সড়ক অবরোধসহ বিভিন্ন প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করে জুম্ম ছাত্র জনতা। এক পর্যায়ে আন্দোলন সহিংসতায় গড়ালে ২৮ সেপ্টেম্বর গুইমারায় তিন জন নিহত হন। দুইপক্ষের সংঘর্ষ ও অগ্নিসংযোগে ৯০টির বেশি ঘরবাড়ি, দোকানপাট ও স্থাপনা পুড়ে যায়। এর মধ্যে বেশিরভাগই মারমাদের। কয়েকটি সরকারি ও বেসরকারি অফিসও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
এ ঘটনায় তিনটি মামলা করেছে পুলিশ। এসব মামলায় প্রায় এক হাজার জনকে আসামি করা হয়েছে। এর মধ্যে খাগড়াছড়ি থানার মামলায় আসামি করা হয়েছে ছয়শ থেকে সাতশ অজ্ঞাত ব্যক্তিকে। আর গুইমারা থানার দুই মামলার আসামি দুই থেকে আড়াইশ জন।


