ক্যারিবিয় সাগরে আবারও সন্দেহভাজন মাদকবাহী এক নৌযানে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী।বৃহস্পতিবার এ হামলায় অন্তত চারজন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন।
আল জাজিরার খবরে বলা হয়, আন্তর্জাতিক সমুদ্রসীমায় নৌযানে হামলা নিয়ে নতুন করে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ও তার প্রশাসন।
এর আগে ২ সেপ্টেম্বর ক্যারিবিয় সাগরে আরও একটি নৌযানে পরপর দুইবার হামলা চালায় পেন্টাগন। এ তথ্য সামনে আসার পর ক্যারিবিয় সাগরে মাদকের বিরুদ্ধে ট্রাম্প প্রশাসনের পুরো অভিযান ঘিরেই নতুন করে তদন্তের মুখোমুখি হয়েছেন মার্কিন সেনারা।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ধরনের হামলা সম্ভাব্য যুদ্ধাপরাধ হিসেবে গণ্য হতে পারে। সেপ্টেম্বরের হামলার ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর মার্কিন কংগ্রেস এসব অভিযানের বিষয়ে নতুন করে তদন্ত শুরু করেছে।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রে মাদক পাচার ও মাদককারবারিদের আশ্রয়দাতা হিসেবে লাতিন আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলে। মাদক ব্যবসায়ীরা যুক্তরাষ্ট্রে পাচারকাজ পরিচালনার জন্য ক্যারিবিয় সাগরের পথকে বেছে নিয়েছে দাবি করে ভেনেজুয়েলার সমুদ্রসীমার কাছে ব্যাপক সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোর ঘোষণা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় বিমানবাহী রণতরীও ক্যারিবিয় সাগরে মোতায়েন করে পেন্টাগন। এরপর সেপ্টেমবরের শুরু থেকে মাদকবহনের অভিযোগ এনে ক্যারিবিয় ও পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে একের পর এক মাছ ধরা নৌকা লক্ষ্য করে বোমা হামলা চালিয়ে যাচ্ছে মার্কিন সেনারা।
এসব হামলায় এখন পর্যন্ত ৮০ জনের বেশি নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে ভেনেজুয়েলার সরকার। এমনকি জাহাজডুবির পর জীবিতদের লক্ষ্যবস্তু করে গুলি চালানোরও অভিযোগ আনে তারা। এসব হামলাকে বিচার ‘বহির্ভূত হত্যা’ অভিহিত করে অবিলম্বে তা বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া একটি পোস্টে ইউএস সাউদার্ন কমান্ড জানান, সবশেষ হামলার নির্দেশ দেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। আন্তর্জাতিক জলসীমায় একটি ‘সন্ত্রাসী সংগঠনের’ পরিচালিত নৌযানে তারা প্রাণঘাতী হামলা চালিয়েছে।
অন্যদিকহোয়াইট হাউসের দাবি, ‘সশস্ত্র সংঘাতের আইন’ মেনেই অপরাধীদের নিষ্ক্রিয় করতে এসব হামলা করা হয়েছে। পেন্টাগন প্রধান পিট হেগসেথ নৌযানগুলোতে দ্বিতীয়বার হামলার নির্দেশ দেননি বলেও দাবী করে ট্রাম্প প্রশাসন। তারা জানান, জীবিতদের ওপর হামলার নির্দেশ দিয়েছেন অ্যাডমিরাল ফ্রাঙ্ক মিচ ব্রাডলি। ওই দ্বিতীয় হামলায় প্রথম হামলা থেকে বেঁচে যাওয়া দুই ব্যক্তি নিহত হয়েছেন বলেও ধারণা করা হচ্ছে।
তবে আইন বিশ্লেষকদের মতে, নিরস্ত্র ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো যুদ্ধাপরাধের শামিল। এক্ষেত্রে তারা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ম্যানুয়ালে জাহাজডুবির পর জীবিতদের ওপর গুলি চালানোকে অবৈধ ঘোষণার আইনেরও উল্লেখ করেছেন।


