বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকারকে এখন স্পষ্ট সিদ্ধান্ত নিতে হবে—তারা কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক শক্তির আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে কাজ করবে, নাকি ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে একটি জবাবদিহিমূলক সরকার প্রতিষ্ঠার পথে এগোবে।
তিনি বলেন, যদি সরকার সত্যিই গণতন্ত্র ও জনগণের অধিকার নিশ্চিত করতে চায়, তবে ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকেই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে।
তারেক রহমান অভিযোগ করেন, কিছু রাজনৈতিক দল নানান পূর্বশর্ত দিয়ে নির্বাচনের পথ জটিল করার চেষ্টা করছে।
তিনি বলেন, নির্বাচন প্রক্রিয়া জটিল করা মানে একদিকে রাষ্ট্রযন্ত্রের সুবিধা ভোগ করা, আবার নির্বাচনে অংশ না নিয়ে পরাজিত, পলাতক স্বৈরশক্তির পুনর্বাসনের পথ খুলে দেওয়া।
সম্প্রতি রাজধানীতে অগ্নিসংযোগের ঘটনাগুলোকে ‘সতর্ক সংকেত’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, পতিত স্বৈরাচারের সহযোগীরা যেভাবে সহিংসতা চালিয়েছে, তা ফ্যাসিবাদবিরোধী সব শক্তির জন্য সতর্কবার্তা।
তারেক আরও বলেন, এটি এখন প্রমাণিত যে, ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে থাকা একটি পক্ষ এক সময় নিপীড়ন থেকে বাঁচতে স্বৈরশক্তির কাছেই আশ্রয় নিয়েছিল। রাজনৈতিক বাস্তবতায় এখন সেই পতিত ও পলাতক শক্তি ওই একই পক্ষের ছত্রছায়ায় আশ্রয় নিতে পারে—এমন আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
তিনি গণভোট পরিচালনার দাবি প্রসঙ্গে বলেন, গণভোটের নামে পরাজিত ও পলাতক স্বৈরশক্তিকে রাজনীতিতে পুনর্বাসনের সুযোগ করে দেওয়া হচ্ছে কি না, গণতন্ত্রকামী জনগণকে সে বিষয়ে সজাগ থাকতে হবে।
অন্তর্বর্তী সরকারের ভূমিকা প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, এই সরকার স্বল্প সময়ের জন্য এসেছে। সব ক্ষেত্রে সাফল্য দেখানো তাদের প্রধান দায়িত্ব নয়। তাদের মূল দায়িত্ব ফেব্রুয়ারিতে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করা।
এ সময় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, গণভোট নিয়ে যে সংকট তৈরি হয়েছে, তা অপ্রয়োজনীয় ও পরিকল্পিত। সরকারকে দ্রুত এই সংকট সমাধানে উদ্যোগ নিতে হবে।
‘আলু চাষিদের যে পরিমাণ ভর্তুকি প্রয়োজন, সেই অর্থ দিয়েই গণভোট আয়োজনের চিন্তা করা হচ্ছে। অথচ গণভোটের চেয়ে আলু চাষিদের ন্যায্যমূল্য পাওয়া বেশি প্রয়োজন’ বলেও মন্তব্য করেছেন তারেক রহমান।
তিনি বলেন, জনগণের হাজার হাজার কোটি টাকা দিয়ে গণভোট আয়োজনের চেয়ে পেঁয়াজ সংরক্ষণাগার তৈরি করা বেশি জরুরি। দুর্ভাগ্যজনকভাবে, এসব বাস্তব সমস্যার কথা বলার মতো দেশে কেউ নেই।
দেশের অর্থনীতি ও শিক্ষানীতিও তার গুরুত্বাপূর্ণ বক্তব্যের অংশ ছিল, গ্লোবাল ভিলেজ যুগে তথাকথিত গণভোট নিয়ে গবেষণার বদলে দেশের শিক্ষাব্যবস্থা ও অর্থনীতিকে টেকসই করার ওপর বেশি জোর দেয়ার আহ্বান জানান তিনি।
নারী কর্মসংস্থান ইস্যুতেও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তারেক রহমান। তিনি প্রশ্ন তোলেন, কর্মঘণ্টা কমানোর নামে নারীদের চাকরিতে নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে না তো? পোশাক কারখানায় যদি নারীরা ৮ ঘণ্টার বদলে ৫ ঘণ্টা কাজ করেন, তাহলে বাকি সময়ের মজুরি কে দেবে? এতে কি তাদের কাজের সুযোগ সংকুচিত হচ্ছে না?
তিনি বলেন, গণভোটের চেয়ে নারীদের মধ্যে চাকরি সংকুচিত হওয়ার আতঙ্ক দূর করা বেশি প্রয়োজন। একজন কর্মহীনের চাকরি সৃষ্টি করাই আজ সবচেয়ে জরুরি।
তারেক রহমান বলেন, ভবিষ্যতে আর কেউ যেন জনগণের অধিকার হরণ করে দেশকে তাবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করতে না পারে তার জন্য প্রয়োজন জাতীয় ঐক্য।
তিনি বলেন, বীর জনতার গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ফ্যাসিবাদের বিদায় হয়েছে এবং কোনো একটি গোষ্ঠী বা রাজনৈতিক দলের সুবিধার জন্য মানুষ রাজপথে জীবন দেয়নি। তিনি সরকারের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে কিছু রাজনৈতিক গোষ্ঠী জনগণের বিরুদ্ধে অবস্থান গ্রহণ করছে বলে সমালোচনা করেন।
বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারকে হুমকি-ধামকি না দিয়ে আগামী ফেব্রুয়ারিতে জনগণের মুখোমুখি হতে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আহবান জানিয়ে তিনি বলেন, সরকারকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে একটি দলের আকাঙ্খা বাস্তবায়ন করবে, না কি ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণকে অগ্রাধিকার দিবে।
অনুষ্ঠানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ, ড. আবদুল মঈন খান, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, খন্দকার মোশাররফ হোসেন, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, গণসংহতি আন্দোলনের সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি এবং লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির সভাপতি কর্নেল অলি আহমদসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।


