প্রকৌশলী নবম গ্রেড বা সহকারী প্রকৌশলী বা সমমান পদে প্রবেশের ক্ষেত্রে কোটা বা অন্য নামে সমমান পদ তৈরি না করার দাবি জানিয়ে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থীরা বলছেন, এসব পদের জন্য ন্যূনতম বিএসসি ডিগ্রিধারী হতে হবে এবং অবশ্যই নিয়োগ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার মধ্য দিয়ে আসতে হবে।
মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. এম এ রশিদ প্রশাসনিক ভবনের সামনে এসব দাবিতে প্রায় তিন ঘণ্টাব্যাপী অবস্থান ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন তারা।
লিখিত বক্তব্যে তারা তারা জানান, বর্তমানে প্রকৌশল খাতে চরম বৈষম্য চলছে। নিয়ম বহির্ভূতভাবে অতিরিক্ত পদোন্নতির কারণে বিএসসি প্রকৌশলীদের প্রবেশ পর্যায়ের পদ সংকুচিত হয়ে যাচ্ছে। নবম গ্রেডে সহকারী প্রকৌশলী পদে ডিপ্লোমাধারী উপসহকারী প্রকৌশলীরা নিয়মের বাইরে অভ্যন্তরীণ কোটার মাধ্যমে অতিরিক্ত পদোন্নতি পাচ্ছেন। ফলে সহকারী প্রকৌশলী পদে নিয়োগ পরীক্ষায় বিএসসি প্রকৌশলীদের প্রবেশ সংকুচিত হচ্ছে।
এমনকি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেওয়ার পরও তা বাতিল করে ডিপ্লোমাধারী উপসহকারী প্রকৌশলীকে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। অনেক প্রতিষ্ঠানে পদোন্নতির হার শূন্যপদের বিপরীতে ৩৩ শতাংশ উল্লেখ থাকলেও তা লঙ্ঘন করে ৪০ থেকে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত পদোন্নতি দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে নবম গ্রেডে প্রকৃত প্রবেশ পর্যায়ের পদগুলো কমে যাচ্ছে এবং বিএসসি প্রকৌশলীদের প্রবেশাধিকার বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, যা সংবিধানের সুযোগ্যর সমতা নীতির পরিপন্থি।

১০ গ্রেডে কেবল ডিপ্লোমাধারীরা আবেদন করতে পারেন। বাংলাদেশে ন্যাশনাল কোয়ালিফিকেশন ফ্রেমওয়ার্ক (বিএনএফকিউ) অনুসারে, ডিপ্লোমা ডিগ্রি লেবেল ছয়ের অন্তর্ভুক্ত; যেখানে বিএসসি লেবেল সাতের অন্তর্ভুক্ত। নিম্নতর লেবেলের ডিগ্রিধারী যেখানে আবেদন করতে পারেন, সেখানে উচ্চতর লেবেলর ডিগ্রিধারী আবেদনের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। প্রতিবেশী দেশগুলোতেও এমন নেই, যোগ করেন তারা।
তাদের তিন দফা দাবি হলো- ইঞ্জিনিয়ারিং ৯ম গ্রেড বা সহকারী প্রকৌশলী বা সমমান পদে প্রবেশের জন্য সবাইকে পরীক্ষা দিয়ে উত্তীর্ণ হতে হবে এবং বিএসসি ডিগ্রিধারী হতে হবে। কোটার মাধ্যমে কোনো পদোন্নতি নয়, এমনকি অন্য নামে সমমান পদ তৈরি করেও পদোন্নতি দেওয়া যাবে না; টেকনিক্যাল ১০ম গ্রেড বা উপসহকারী প্রকৌশলী বা সমমান পদ সবার জন্য উন্মুক্ত করতে হবে অর্থাৎ ডিপ্লোমা ও বিএসসি উভয় ডিগ্রিধারীদের পরীক্ষার সুযোগ দিতে হবে; বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রি ছাড়া কেউ ইঞ্জিনিয়ার পদবি ব্যবহার করতে পারবেন না, এই মর্মে আইন পাস করে গেজেট প্রকাশ করতে হবে।
তারা বলেন, ২০১৩ সাল থেকে এ আন্দোলন শুরু হয়েছে। যারা ডিপ্লোমায় আছেন, তারা সে সময় একটি মব তৈরি করে তাদের এই দাবি আদায় করে নিয়েছেন।
পরে রেজিস্ট্রার বিল্ডিংয়ের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে পলাশী মোড় প্রদক্ষিণ করে বুয়েট শহীদ মিনারে গিয়ে কর্মসূচি শেষ করেন শিক্ষার্থীরা। সে সময় তারা ‘জুলাইয়ে গেল হাজার প্রাণ, করতে কোটার পুনর্বাসন?’ ‘কোটার নামে অবিচার বন্ধ করো, বন্ধ করো’ ‘প্রকৌশলীদের সব পদ, শুধুই প্রকৌশলীদের অধিকার’সহ বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন।


