চলতি সপ্তাহে পরপর দুই দিনে ফরিদপুর ও চট্টগ্রামে পুলিশ হেফাজতে দুই তরতাজা তরুণের মৃত্যুর ঘটনা অত্যন্ত মর্মান্তিক ও পীড়াদায়ক। এসব নির্মম ঘটনার অর্থ কি এই যে, সরকার জাতিসংঘের নির্যাতনবিরোধী সনদ (ইউএনসিএটি) এবং এর ঐচ্ছিক প্রোটোকল (ওপিক্যাট) বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না?
পুলিশ হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনা আবারও নতুন করে একটি উদ্বেগজনক ও পুরোনো প্রশ্নকে সামনে নিয়ে এসেছে। বাংলাদেশ কি জাতিসংঘের নির্যাতনবিরোধী সনদ (ইউনাইটেড নেশনস কনভেনশন অ্যাগেইনস্ট টর্চার-ইউএনসিএটি) এবং এর ঐচ্ছিক প্রোটোকল (অপশনাল প্রোটোকল টু দ্য কনভেনশন অ্যাগেইনস্ট টর্চার- ওপিক্যাট)- এর অধীনে আমাদের অঙ্গীকার ও দায়বদ্ধতা যথাযথভাবে পালন করছে?
পুলিশ হেফাজত, কারাগার বা অন্য কোনো বন্দিশালায় যে কোনো বন্দীর মৃত্যু গুরুতর উদ্বেগের বিষয়। এ ধরনের ঘটনা শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বা কারা কর্তৃপক্ষের আচরণ নিয়ে প্রশ্ন তোলে না; বরং আইনের শাসন, মানবাধিকার এবং আন্তর্জাতিক আইনগত বাধ্যবাধকতার প্রতি বাংলাদেশের প্রতিশ্রুতিকেও প্রশ্নবিদ্ধ করে। অন্য সবার মতো কোনো গ্রেপ্তার বা আটক ব্যক্তি তার মানবিক মর্যাদা, মানবিক আচরণ এবং আইনের সুরক্ষা পাওয়ার অধিকার সর্বদা সংরক্ষণ করেন।
বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ব্যবস্থার একটি অতি সক্রিয় দেশ। গত বছরও পর্যন্ত বাংলাদেশ জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশনের ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছে।
১৯৮৪ সালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে গৃহীত ইউএনসিএটি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মানবাধিকার চুক্তি। এতে নির্যাতন ও নিষ্ঠুর, অমানবিক বা অবমাননাকর আচরণ ও শাস্তিকে সুস্পষ্টভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই নিষেধাজ্ঞার কোনো ব্যতিক্রম নেই। যুদ্ধ, রাজনৈতিক অস্থিরতা, জরুরি অবস্থা কিংবা জাতীয় নিরাপত্তার অজুহাতে কোনো অবস্থাতেই নির্যাতন বা হেফাজতে নির্যাতনকে বৈধতা দেওয়া যায় না।
বাংলাদেশ ১৯৯৮ সালে জাতিসংঘের নির্যাতনবিরোধী সনদ (ইউএনসিএটি) অনুসমর্থন করে। পরবর্তীতে ২০২৫ সালের শেষ দিকে বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে ওপিক্যাটে যোগ দেয়। এর মাধ্যমে নির্যাতন ও অমানবিক আচরণ প্রতিরোধে বাংলাদেশ অতিরিক্ত কিছু গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনে অঙ্গীকারবদ্ধ হয় যা শুধু প্রতীকী নয়, এগুলো আইনগত ও নৈতিকভাবে বাধ্যতামূলক।
ওপিক্যাট কাঠামোতে স্বীকৃত যে, নির্যাতন প্রতিরোধের জন্য কেবল আইন প্রণয়ন যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন কার্যকর তদারকি, স্বচ্ছতা এবং স্বাধীন পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা প্রণয়ন ও এর সঠিক ও নিরপেক্ষ বাস্তবায়ন। তাই ওপিক্যাট এমন একটি প্রতিরোধমূলক কাঠামো যার আওতায় আটক ব্যক্তিদের রাখার স্থানে নিয়মিত ও পূর্বঘোষণাবিহীন পরিদর্শনের ব্যবস্থা সন্নিবেশিত, যার মধ্যে পুলিশ লক-আপ, কারাগার, আটক কেন্দ্র, অভিবাসন হেফাজত কেন্দ্র, কিশোর সংশোধনাগার, মানসিক স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান, পুনর্বাসন কেন্দ্র এবং রাষ্ট্রের কর্তৃত্বে পরিচালিত অন্য যেকোনো স্থান যেখানে মানুষ স্বাধীনতাবঞ্চিত অবস্থায় থাকে। এর উদ্দেশ্য খুবই স্পষ্ট, কোনো ধরনের নির্যাতন বা অপব্যবহার ঘটার পর শুধু তদন্ত নয়; বরং তা ঘটার আগেই প্রতিরোধের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা।
দুঃখজনকভাবে, বাংলাদেশের সাম্প্রতিক বাস্তবতায় আন্তর্জাতিক অঙ্গীকার এবং এর বাস্তব প্রয়োগের মধ্যে এখনো একটি বড় ধরনের ব্যবধান রয়ে গেছে।
২০২৪ সালের আগস্টে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন এবং আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার মানবাধিকার লঙ্ঘন ও হেফাজতে নির্যাতনসংক্রান্ত দীর্ঘদিনের উদ্বেগ দূর করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। অনেক নাগরিক ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক আশা করেছিলেন, এর মাধ্যমে জবাবদিহি, স্বচ্ছতা এবং মানবাধিকারের প্রতি অধিক শ্রদ্ধাশীল একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হবে।
যদিও দেশি-বিদেশি মানবাধিকার সংস্থাগুলো এবং মানবাধিকার রক্ষার অগ্রদূত পশ্চিমা দেশগুলো পূর্ববর্তী আওয়ামী লীগ সরকারের তুলনায় ইউনূস সরকারের চরম মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাসমূহের প্রতি অনেকটাই উদাসীন ছিল বা যে কোনো কারণে সদয় ছিল। এরপরেও তাদের প্রকাশিত তথ্য ভিন্ন চিত্র তুলে ধরে।
আসক, হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস) এবং অন্যান্য মানবাধিকার সংগঠনের প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০২৫ সালে বাংলাদেশে প্রায় ৯২টি হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। ২০২৬ সালের প্রথম চার মাসেই আরও ৮০টির বেশি হেফাজতে মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এই সময়কাল অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ পর্যায় এবং বর্তমান বিএনপি নেতৃত্বাধীন নির্বাচিত সরকারের আড়াই মাস অন্তর্ভুক্ত।
এই পরিসংখ্যান কিছুটা কম-বেশী হলেও হেফাজতে মৃত্যুর সামগ্রিক উর্ধ্বমুখী প্রবণতা গভীর উদ্বেগের কারণ। যে দেশ সম্প্রতি ওপিক্যাটে যোগ দিয়েছে, সেখানে হেফাজতে মৃত্যুর সংখ্যা কমার কথা; কিন্তু বাস্তবে তার ধারাবাহিকতা কিংবা বৃদ্ধি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। মনে হচ্ছে এটি ইউনূসের শাসনকালেরই একটি বর্ধিত সংস্করণ।
হেফাজতে মৃত্যু কোনো বিশেষ রাজনৈতিক দলের সমস্যা নয়। অতীতের সরকারগুলোর আমলেও হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ও ঘটেছে এবং বর্তমান সরকারের সময়ও ঘটছে। ফলে এটি শুধু একটি প্রাতিষ্ঠানিক সমস্যা নয়; বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এটির কারণ রাজনৈতিক। যার ফলে অপরাধের দুর্বল বা অপর্যাপ্ত অভিযোগের ভিত্তিতে কাউকে গ্রেপ্তার করার পর হেফাজতে নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে।
তবে মূলত এই সমস্যা জবাবদিহির ঘাটতি, আটক কেন্দ্রগুলোর দুর্বল তদারকি, ত্রুটিপূর্ণ তদন্ত প্রক্রিয়া, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের অপর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ এবং অপরাধীর দায়মুক্তির সংস্কৃতির প্রতিফলন।
মানবাধিকার রক্ষায় বাংলাদেশের অঙ্গীকারের মূল্যায়ন কেবল ঘোষণার ভিত্তিতে হওয়া উচিত নয়; বরং এটি হওয়া উচিত বাস্তব ফলাফলের ভিত্তিতে।
ওপিক্যাটের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বাধ্যবাধকতাগুলোর একটি হলো, কার্যকর ও স্বাধীন জাতীয় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা (ন্যাশনাল প্রিভেনটিভ মেকানিজম-এনপিএম) প্রতিষ্ঠা করা। এই ব্যবস্থাই ওপিক্যাট কাঠামোর মূল ভিত্তি। এর কাজ হবে দেশের সব ধরনের আটক কেন্দ্র নিয়মিত পরিদর্শন করা, আটক ব্যক্তিদের সঙ্গে গোপনীয়ভাবে কথা বলা, ঝুঁকি চিহ্নিত করা, সুপারিশ প্রদান এবং নির্যাতন প্রতিরোধে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কাজ করা।
একটি কার্যকর এনপিএমের জন্য প্রয়োজন স্বাধীনতা, দক্ষতা, পর্যাপ্ত সম্পদ এবং অবাধ প্রবেশাধিকার। এই ব্যবস্থা অবশ্যই রাজনৈতিক প্রভাব বা প্রাতিষ্ঠানিক প্রভাব ও হস্তক্ষেপমুক্ত হতে হবে। আটক কেন্দ্রসমূহে অবাধ প্রবেশাধিকার এবং আটক ব্যক্তিদের সঙ্গে একান্তে কথা বলার সুযোগ থাকতে হবে। এর পর্যবেক্ষণ ও সুপারিশসমূহ যথাসম্ভব জনসমক্ষে প্রকাশ করা উচিত। এমন একটি ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠাকে এখন জাতীয় অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনা করা জরুরি।
একই সঙ্গে, হেফাজতে কোনো মৃত্যু ঘটলে জবাবদিহি নিশ্চিত করার ব্যবস্থাও শক্তিশালী করতে হবে। হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে একটি স্বাধীন বিচারিক তদন্ত শুরু হওয়া উচিত, যা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বাইরে কোনো নিরপেক্ষ কর্তৃপক্ষ পরিচালনা করবে। কেবল অভ্যন্তরীণ তদন্তের ওপর নির্ভরশীলতা সাধারণত জনআস্থা সৃষ্টি করতে ব্যর্থ হয় এবং আন্তর্জাতিক নিরপেক্ষতার মানদণ্ডও পূরণ করে না।
ভুক্তভোগী পরিবারের অধিকার সত্য জানা, ন্যায়বিচার পাওয়া এবং পূর্ণ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা। একইভাবে সমাজেরও জানার অধিকার রয়েছে যে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানই আইনের ঊর্ধ্বে নয়।
সরকারের উচিত হেফাজতে মৃত্যুর ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলক ফরেনসিক মানদণ্ড চালু করা। এর মধ্যে থাকবে দ্রুত স্বাধীন ময়নাতদন্ত, প্রমাণ সংরক্ষণ এবং তদন্তের ফলাফল প্রকাশ করা। পাশাপাশি পুলিশ লক-আপ ও আটক কেন্দ্রগুলোতে আধুনিক সিসিটিভি নজরদারি ব্যবস্থা সম্প্রসারণ করতে হবে এবং নিশ্চিত করতে হবে যে, এসব ফুটেজ কোনোভাবেই বিকৃত বা ধ্বংস করা যাবে না এবং যদি কেউ এটি করে তবে তাকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।
আরও গুরুত্বপূর্ণ হলো প্রশিক্ষণ ও পেশাগত সক্ষমতা বৃদ্ধি। পুলিশ কর্মকর্তা, কারা কর্মকর্তা, তদন্তকারী এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের মানবাধিকার, আটক ব্যক্তিদের অধিকার এবং ইউএনসিএটি এবং ওপিক্যাটের বাধ্যবাধকতা সম্পর্কে নিয়মিত ও বিস্তৃত প্রশিক্ষণ দিতে হবে। জাতিসংঘ এ ধরনের প্রশিক্ষণের জন্য সাহায্য দিতে প্রস্তুত। নির্যাতন প্রতিরোধকে কেবল আইনগত দায়িত্ব হিসেবে নয়, পেশাদার আইন প্রয়োগের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে দেখতে হবে।
জাতীয় সংসদেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সংসদীয় কমিটিগুলোর উচিত নিয়মিতভাবে হেফাজতে মৃত্যুর পরিসংখ্যান, আটক কেন্দ্রগুলোর অবস্থা এবং ওপিক্যাট বাস্তবায়নের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা। এ বিষয়ে বার্ষিক জনসম্মুখে প্রতিবেদন প্রকাশ স্বচ্ছতা ও জনআস্থা বৃদ্ধি করবে।
একই সঙ্গে নাগরিক সমাজ, মানবাধিকারকর্মী, চিকিৎসক, আইনজীবী এবং বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোকে পর্যবেক্ষণ, গবেষণা এবং নীতি প্রণয়নে আরও সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত করতে হবে। মানবাধিকার সুরক্ষা তখনই সবচেয়ে কার্যকর হয়, যখন এটি কেবল সরকারের একক দায়িত্ব না হয়ে জাতীয়ভাবে ভাগাভাগি করা একটি অঙ্গীকারে পরিণত হয়।
বাংলাদেশ শান্তিরক্ষা কার্যক্রম, জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন এবং জনস্বাস্থ্যের মতো নানা আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে নেতৃত্ব প্রদর্শন করে যাচ্ছে। ওপিক্যাটে যোগদানের মাধ্যমে মানবাধিকার সুরক্ষা এবং নির্যাতন প্রতিরোধের ক্ষেত্রেও অনুরূপ নেতৃত্ব প্রদর্শনের একটি সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। এই সুযোগ হাতছাড়া করা উচিত নয়।
বাংলাদেশের ইউএনসিএটি এবং ওপিক্যাট প্রতিশ্রুতির প্রকৃত পরীক্ষা আন্তর্জাতিক চুক্তিতে স্বাক্ষর করার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। প্রকৃত পরীক্ষা হলো যারা পুলিশ হেফাজত, কারাগার বা অন্য কোনো আটক কেন্দ্রে প্রবেশ করেন, তারা জীবিত, নিরাপদ এবং মর্যাদাসম্পন্ন অবস্থায় সেখান থেকে বেরিয়ে আসেন কি না।
প্রতিটি হেফাজতে মৃত্যু শুধু একটি পরিবারের জন্য ব্যক্তিগত ট্র্যাজেডি নয়; এটি রাষ্ট্রের দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতারও প্রতীক। তাই ফরিদপুর ও চট্টগ্রামে দুই তরুণের মৃত্যু নীতিনির্ধারক, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং রাজনৈতিক নেতৃত্বের জন্য একটি সতর্কবার্তা হিসেবে বিবেচিত হওয়া উচিত।
বাংলাদেশ আজ একটি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে। দেশ চাইলে এসব ঘটনাকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখিয়ে আগের মতো চলতে পারে। আবার চাইলে ওপিক্যাটের প্রকৃত চেতনাকে ধারণ করে একটি স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক এবং মানবিক আটকব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারে।
পছন্দটি স্পষ্ট হওয়া উচিত। হেফাজতে মৃত্যুর অবসান ঘটাতে হলে স্বাধীন তদন্তকে নিয়মে পরিণত করতে হবে। বিলম্ব না করে জাতীয় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা (এনপিএম) প্রতিষ্ঠা করতে হবে। এবং দেশের প্রতিটি আটক কেন্দ্রে মানবিক মর্যাদার সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ নীতি হিসেবে গ্রহণ করতে হবে।
তবেই বাংলাদেশ বিশ্বাসযোগ্যভাবে বলতে পারবে যে, তারা জাতিসংঘের নির্যাতনবিরোধী সনদ (ইউএনসিএটি এবং এর ঐচ্ছিক প্রোটোকল (ওপিক্যাট) এর অক্ষর ও চেতনা – উভয়ের প্রতিই পূর্ণ আনুগত্য ও দায়বদ্ধতা পালন করছে।
ওপিক্যাটে অঙ্গীকারের প্রকৃত অর্থ হোক হেফাজতে মৃত্যুর অবসান। এটি বন্ধ করতে না পারলে অদূর ভবিষ্যতে বাংলাদেশকে জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশনে এর জন্য জবাবদিহি দিতে হতে পারে।
লেখক: ড. খলিলুর রহমান, সাবেক রাষ্ট্রদূত ও বাংলাদেশ সরকারের সচিব, সাবেক জ্যেষ্ঠ জনস্বাস্থ্য নীতি উপদেষ্টা এবং জাতিসংঘের ইএসসিএপি ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিনিধি


