কুষ্টিয়ার মিরপুরে শ্রেণিকক্ষ থেকে অচেতন অবস্থায় এক স্কুলছাত্রীকে উদ্ধার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে তাকে উদ্ধার করা হয়।
জানা গেছে, উদ্ধারের পর ওই কিশোরীকে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পরবর্তীতে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। প্রাথমিক পরীক্ষায় চিকিৎসকেরা ধর্ষণের আলামত পাওয়ার কথা জানালেও এ ঘটনায় এখনো পর্যন্ত থানায় কোনো অভিযোগ দায়ের হয়নি।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার সকালে ছত্রগাছা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এসএসসি ২০২৬ ব্যাচের বিদায় অনুষ্ঠানে অংশ নিতে যায় ভুক্তভোগী ছাত্রী। অনুষ্ঠান শেষে বাড়ি না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।
পরিবারের দাবি, অনেক খোঁজাখুঁজির পর রাত ৮টার দিকে বিদ্যালয়ের পিয়ন হামিদুলের কাছে জানতে চাইলে তিনি প্রথমে বিদ্যালয়ে কেউ নেই বলে জানান এবং চাবি দিতে অস্বীকৃতি জানান। এতে সন্দেহ হলে স্থানীয়রা তার কাছ থেকে চাবি নিয়ে জোরপূর্বক বিদ্যালয়ে প্রবেশ করে ওই কিশোরীকে খোঁজা শুরু করেন। পরে বিদ্যালয়ের তৃতীয় তলার একটি কক্ষ থেকে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধারের পর প্রথমে তাকে মিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। বর্তমানে সে হাসপাতালের গাইনি বিভাগে চিকিৎসাধীন।
কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক হোসেন ইমাম বলেন, ভুক্তভোগী ওই কিশোরীকে রাতের দিকে হাসপাতালে আনা হয়। প্রয়োজনীয় নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। শুক্রবার সকালে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে প্রাথমিকভাবে ধর্ষণের আলামত পাওয়া গেছে।
ভুক্তভোগীর বলেন, ‘অনুষ্ঠান শেষে আমার মেয়ে শ্রেণিকক্ষে ব্যাগ আনতে যায়, সেখান থেকে তৃতীয় তলায় গিয়েছিল। এরপর কী ঘটেছে, সে বিষয়ে এখন কিছু বলতে পারছি না।’
এদিকে জ্ঞান ফেরার পর ভুক্তভোগী ওই কিশোরী গণমাধ্যমকর্মীদের জানায়, সে সিঁড়ির কাছে বসে ছিল, এরপর তার আর কিছুই মনে নেই।
ভুক্তভোগী ওই কিশোরীর মামা জানান, তারা আপাতত বিষয়টি সামাজিকভাবে মীমাংসার চেষ্টা করছেন। তবে সঠিক বিচার না পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেবেন।
মিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত শুরু করেছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য দেখা দিয়েছে। স্থানীয়রা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের পাশাপাশি ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।


