কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে ‘পীর’ আখ্যা দিয়ে এক ব্যক্তিকে পিটিয়ে হত্যা, তার দরবারে ভাঙচুর ও আগুন ধরিয়ে দেওয়ার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও নিন্দা জানিয়েছে আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)।
‘ধর্ম অবমাননার’ অভিযোগ তুলে সংঘবদ্ধ হামলা চালিয়ে হত্যায় জড়িতদের কঠোর শাস্তি দাবি করেছে সংগঠনটি।
স্থানীয়দের বরাতে জানা যায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি পুরোনো ভিডিওকে কেন্দ্র করে রোববার এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয় এবং পরে তা ভয়াবহ সহিংসতায় রূপ নেয়। এক পর্যায়ে দরবার চালানো ‘পীর’ শামীমের ওপর মব সন্ত্রাস করে তাকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইন শৃঙ্খলাবাহিনী মোতায়েন থাকলেও তাদের সামনেই শামীমের দরবারে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে উচ্ছ্বাস করতে থাকে উত্তেজিত জনতা।
পুলিশের উপস্থিতিতেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতায় উদ্বেগ জানিয়ে আসক বলেছে, বাংলাদেশের সংবিধান প্রত্যেক নাগরিকের জীবন, স্বাধীনতা ও নিরাপত্তার অধিকার নিশ্চিত করেছে। আইনানুগ প্রক্রিয়া ব্যতিরেকে কোনো ব্যক্তিকে জীবন বা ব্যক্তিস্বাধীনতা থেকে বঞ্চিত করা যাবে না। একইভাবে প্রত্যেক নাগরিকের আইনের আশ্রয় লাভ ও আইনের সমান সুরক্ষার অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে।
এ বাস্তবতায় কোনো অভিযোগ বা মতবিরোধের ক্ষেত্রে আইনি প্রক্রিয়ার বাইরে গিয়ে সংঘবদ্ধ জনতার (মব) নামে এ ধরনের কর্মকাণ্ড কার্যত সংবিধানের সরাসরি লঙ্ঘন এবং আইনের শাসনের পরিপন্থী বলে মনে করে মানবাধিকার সংগঠনটি।
‘এ ধরনের নৃশংস হামলা ও হত্যাকাণ্ড রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে’ উল্লেখ করে আসক জানায়, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় অজ্ঞাত ইন্ধনে পরিকল্পিতভাবে মব তৈরি করে সুফি সাধক, মাজার ও ধর্মীয় আস্তানাগুলোর ওপর ধারাবাহিক হামলা চালানো হয়েছে। সেসব ঘটনায় ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ এবং পিটিয়ে হত্যার মতো চরম মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে।
ওই সময় এসব সহিংসতা প্রতিরোধ ও বন্ধে রাষ্ট্রের ব্যর্থতা বর্তমানে মব সন্ত্রাসের ঝুঁকি কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে বলেও দাবি করে আসক।
সংগঠনটির বিবৃতিতে বলা হয়, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা ব্যতীত একটি গণতান্ত্রিক সমাজে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। কোনোভাবেই ‘মব’ এর নামে বা জনতার হাতে আইন তুলে নেওয়ার সংস্কৃতি মেনে নেওয়া যায় না; বরং এ ধরনের প্রবণতা সমাজে ভয়, অস্থিরতা এবং বিচারহীনতার সংস্কৃতিকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয়।
কুষ্টিয়ার এ হত্যাকাণ্ডে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত সবাইকে নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে উল্লেখ করে অপরাধীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করারও দাবি জানায় আসক।
একইসঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উসকানিমূলক, বিভ্রান্তিকর বা বিদ্বেষমূলক কনটেন্ট প্রচারের মাধ্যমে সহিংসতা উসকে দেওয়ার সঙ্গে জড়িতদেরও চিহ্নিত করে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানায় সংগঠনটি।


