রাজধানীর শাহবাগ থানার সামনে ‘কিসের সাংবাদিক’ বলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় অন্তত ১০ জন সাংবাদিক আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
আহত সাংবাদিকদের মধ্যে রয়েছেন কালের কণ্ঠের মানজুর হোসেন মাহি, আগামীর সময়ের লিটন ইসলাম, ঢাকা ট্রিবিউনের শামসুদ্দৌজা নবাব, ঢাকা মেইলের মোহাম্মদ ইফতেখার হোসেন সিফাত, নয়া দিগন্তের হারুন ইসলাম, মানবজমিনের আসাদুজ্জামান খান, ডেইলি অবজারভারের নাইমুর রহমান ইমন।
হামলায় ঢাকা মেইলের মোহাম্মদ ইফতেখার হোসেন সিফাত চোখে এবং মুখে গুরুতর আহত হয়েছেন। পরে তাকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মেডিক্যালে চিকিৎসার জন্য নেওয়া হয়।

জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী কন্যা জাইমা রহমানকে নিয়ে ‘কটূক্তির’ প্রতিবাদে সন্ধ্যার পর শাহবাগে অবস্থান নেন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। এ সময় তারা শিবিরবিরোধী বিভিন্ন স্লোগান দেন। একপর্যায়ে ডাকসু নেতা এবি জুবায়ের ও মুসাদ্দিকের নেতৃত্বে ছাত্রশিবিরের কর্মীরা থানায় গেলে তাদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে তারা থানার ভেতরে আশ্রয় নেন।
এই ঘটনার আগে অভিযুক্ত ঢাবির শিবির নেতা আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ শাহবাগ থানায় যান। অভিযোগ রয়েছে, তিনি ফেসবুকে একটি ফটোকার্ডে জাইমা রহমানকে কটূক্তি করেছেন। তবে তিনি দাবি করেন, ফটোকার্ডটি ভুয়া এবং এ বিষয়ে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে তিনি নিজেই থানায় উপস্থিত হন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল ও অন্যান্য ইউনিটের নেতাকর্মীরা সংঘবদ্ধভাবে এই হামলা চালিয়েছেন। তারাই সাংবাদিক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের কয়েকজন নেতাসহ একাধিক ব্যক্তিকে মারধর করেন বলে অভিযোগ।
ভুক্তভোগীদের একজন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সভাপতি ও কালের কণ্ঠ পত্রিকার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি মনজুর হোসেন মাহী জানান, ঘটনাস্থলে কয়েকজন সাংবাদিক ভিডিও ধারণ করতে গেলে ছাত্রদলের কিছু নেতাকর্মী তাদের বাধা দেন। পরে তিনি সেখানে গিয়ে নিজের পরিচয় দিলে আইন বিভাগের শিক্ষার্থী ও শেখ মুজিবুর রহমান হলের আবাসিক শিক্ষার্থী সফি ওবায়দুর রহমান সামিথ তাকে অশালীন ভাষায় গালাগাল করেন এবং তেড়ে আসেন।

তিনি বলেন, ‘আমি পরিচয় দেওয়ার পরও তারা উত্তেজিত হয়ে ওঠেন। একপর্যায়ে তারা সংঘবদ্ধভাবে সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালান।’
এ ঘটনায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির অন্তত ১০ জন সদস্য আহত হয়েছেন বলে জানান তিনি।
হামলায় জড়িতদের মধ্যে হাজী মুহাম্মদ মুহসিন হল ছাত্রদলের আহ্বায়ক আবু জ্বার গিফারী ইফাত, সদস্য সচিব মনসুর রাফি, শহীদুল্লাহ হলের সদস্য সচিব জুনায়েদ আবরার, বিজয় একাত্তর হল ছাত্রদলের নেতা সাকিব বিশ্বাস ও সাজ্জাদ খান, সূর্যসেন হল ছাত্রদলের আহ্বায়ক মনোয়ার হোসেন প্রান্ত, জিয়াউর রহমান হলের কারিব চৌধুরী, কবি জসিমউদদীন হল ছাত্রদলের নেতা মোহতাসিম বিল্লাহ হিমেল, শেখ মুজিবুর রহমান হল ছাত্রদল নেতা হাসানসহ আরও অনেকে ছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ ছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বজলুর রহমান বিজয় ও ইমাম আল নাসের মিশুক এবং অন্যান্য নেতাকর্মীদেরও তেড়ে এসে সাংবাদিকদের ওপর আক্রমণ করতে দেখা গেছে।
আরেক ভুক্তভোগী সাংবাদিক রাইজিং বিডি ডটকমের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার সৌরভ ইসলাম বলেন, ‘শফিকুর রহমান নামের এক কর্মী সাংবাদিকদের সঙ্গে অপমানজনক আচরণ করলে আমরা এর প্রতিবাদ করি। এরপর কিছু জুনিয়র নেতাকর্মী আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ তোলে যে, আমি নাকি হামলার নির্দেশ দিয়েছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘ওরা আমাকে জোর করে টেনে ভিড়ের মধ্যে নিয়ে যান এবং মারধর করেন। পরে অন্য সাংবাদিকরা এগিয়ে এলে তাদের ওপরও হামলা করা হয়। আমাকে লক্ষ্য করে আক্রমণ করা হচ্ছিল বুঝতে পেরে সেখান থেকে সরে যাই।’
ভুক্তভোগীদের দাবি, ঘটনাস্থলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও বিভিন্ন ইউনিটের প্রায় দেড় শতাধিক ছাত্রদল নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে কেন্দ্রীয় ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের নেতারাও ছিলেন।
এ বিষয়ে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির বলেন, ‘ঘটনাস্থলে আমি উপস্থিত ছিলাম না, একটু আগে চট্টগ্রাম থেকে এসেছি। বিষয়টা আমরা দেখছি।’
এ ঘটনায় এখনো পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।


