আসন্ন ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের বাজেটে কোনো ধরনের প্রশ্ন করার সুযোগ না রেখে ‘নিঃশর্ত ক্ষমা’ ঘোষণার মাধ্যমে কালো টাকা সাদা করার বিষয়টি সরকার সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করছে বলে গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদে গভীর হতাশা ও ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।
সংস্থাটি এই দুর্নীতিসহায়ক ও বৈষম্যমূলক সুযোগ চিরতরে বন্ধ করার দাবি জানিয়েছে। একইসঙ্গে, ‘সাধারণ ক্ষমা’ ঘোষণার মাধ্যমে পাচার হওয়া অর্থ ফেরানোর পরিকল্পনার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট মানদণ্ড অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে।
বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, স্বাধীনতার পর প্রায় প্রতিটি সরকার কোনো না কোনো পন্থায় কালো টাকা বৈধ করার এই সংবিধান পরিপন্থী বিধান অব্যাহত রেখেছে। বিগত কর্তৃত্ববাদী শাসনামলে এই অনৈতিক চর্চাকে প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ করা হয়েছিল, যার ফলে দেশে করফাঁকির সংস্কৃতি দৃঢ়তর হয়েছে।
অন্তর্বর্তী সরকার বিভিন্ন ধাপে কালো টাকা সাদা করার বিধান বন্ধ করলেও বর্তমান সরকারের সেটি পুনরায় ফিরিয়ে আনার চেষ্টা এক ধাপ এগিয়ে দুই ধাপ পিছিয়ে পড়ার মতো। এটি রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় দুর্নীতিকে প্রাতিষ্ঠানিক বৈধতা দেওয়ারই শামিল, যা বর্তমান সরকারকে বিতর্কিত করার সুযোগ সৃষ্টি করছে, যোগ করেন তিনি।
দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের অঙ্গীকার করে বিপুল জনরায়ে নির্বাচিত সরকারের এই অনৈতিক চর্চার পুনরাবৃত্তি থেকে বিরত থাকা জরুরি।
ইফতেখারুজ্জামান আরও উল্লেখ করেন, জাতীয় জুলাই সনদ ২০২৫ এর ৬৭ ধারায় ব্যক্তির অনুপার্জিত আয় ভোগ করার সুযোগ বন্ধের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার পরিপূর্ণ বাস্তবায়নে বিএনপিসহ সকল রাজনৈতিক দল সর্বসম্মতভাবে অঙ্গীকার করেছে।
তিনি বলেন, বিএনপি তাদের নির্বাচনী ইশতেহারেও দুর্নীতির সঙ্গে কোনো আপস না করার অঙ্গীকার করেছে। দুদক সংস্কার প্রতিবেদনেও কালো টাকা সাদা করার সুযোগ চিরতরে বন্ধ করার সুপারিশ করা হয়েছে, যার প্রতি সব রাজনৈতিক দল একমত হয়েছে।
ইফতেখারুজ্জামান আরও বলেন, ‘অতীত অভিজ্ঞতা বলছে, বারবার এই সুযোগ দিয়েও রাজস্ব আদায়ে উল্লেখযোগ্য ফল পাওয়া যায়নি, বরং অনিয়ম-দুর্নীতিকে সুরক্ষা দেওয়ার বার্তা গেছে।’
সাধারণ ক্ষমা ঘোষণার মাধ্যমে পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনার পরিকল্পনার বিষয়ে তিনি বলেন, যারা অবৈধভাবে উপার্জিত অর্থ পাচারের সঙ্গে জড়িত তারা যেন এ সুযোগ নিতে না পারেন এবং যাদের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে তাদের জন্য কোনো বিবেচনায়ই সাধারণ ক্ষমা প্রযোজ্য হবে না-এটি সরকারকে নিশ্চিত করতে হবে।
বিগত শাসনামলে এই পদ্ধতি ব্যর্থ হয়েছে উল্লেখ করে তিনি আশা প্রকাশ করেন, বর্তমান সরকার কালো টাকা বৈধ করার অসাংবিধানিক ও বৈষম্যমূলক বিধান করা থেকে বিরত থেকে দুর্নীতির বিরুদ্ধে নিজেদের অবস্থানের যথার্থতার উদাহরণ স্থাপন করবে, যোগ করেন তিনি।


