মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেছেন, কাপ্তাই হ্রদ সংরক্ষণের প্রথম কাজ হলো ড্রেজিং কার্যক্রম পরিচালনা করা এবং এটি এ অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি।
সোমবার সকালে রাঙামাটি জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে কাপ্তাই হ্রদের স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
উপদেষ্টা বলেন, ‘কাপ্তাই হ্রদে ক্রমাগত পলি জমে যাওয়ার কারণে হ্রদটি ধীরে ধীরে ভরাট হয়ে যাচ্ছে। এর ফলে পানির স্তর হ্রাস পাচ্ছে, যার কারণে ওপরের স্তরে চলাচলকারী বড় আকারের মাছগুলো টিকে থাকতে পারছে না। ফলে ছোট মাছের আধিক্য বেড়ে গেছে, কিন্তু বড় মাছের সংখ্যা উদ্বেগজনকভাবে কমে যাচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘কাপ্তাই হ্রদকে রক্ষা করতে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি স্থানীয় জনগণ, মৎস্যজীবী, পরিবেশকর্মী এবং সংশ্লিষ্ট সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন।’
দূষণ প্রসঙ্গে ফরিদা আখতার বলেন, ‘হ্রদে পয়ঃনিষ্কাশন ও ময়লা-আবর্জনা ফেলার কারণে দূষণের মাত্রা দিন দিন বাড়ছে। এই সমস্যা সমাধানে স্থানীয় সরকার, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে দ্রুত বৈঠক করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’
সভায় রাঙামাটি স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক মো. মোবারক হোসেনের সভাপতিত্বে এবং অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. রুহুল আমীনের সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএফডিসি) চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত সচিব) ফারাহ শাম্মী।
এ সময় জেলা সিভিল সার্জন নূয়েন খীসা, জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা তুষার কান্তি চাকমা, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা শেখ মো. এরশাদ বিন শহীদ, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, জেলা মৎস্য ব্যবসায়ী সমিতির প্রতিনিধি, পেশাজীবী মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির প্রতিনিধি এবং সরকারি-বেসরকারি সংস্থার কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সভা শুরুর আগে কাপ্তাই হ্রদের সমস্যা ও সম্ভাবনা তুলে ধরে একটি ভিডিও প্রদর্শন করেন বিএফডিসির ব্যবস্থাপক কমান্ডার মো. ফয়েজ আল করিম।
এদিন বিকালে উপদেষ্টা ফরিদা আখতার কাপ্তাই উপজেলার কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও বাঁধ পরিদর্শন করেন।


