গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলায় দাবি করা চাঁদা না দেওয়ায় টোক ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ও সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী শফিকুল ইসলাম কবিরের ওপর স্থানীয় ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ উঠেছে।
গত রোববার রাত ১০টার দিকের এই হামলায় শফিকুল ইসলামসহ শ্রীপুর পৌর যুবদলের সভাপতি সোহেল তালুকদার গুরুতর আহত হয়েছেন।
এই ঘটনার প্রতিবাদে বুধবার সকালে টোক নগর গ্রামে শফিকুল ইসলাম কবিরের বাসভবনে হামলাকারীদের বিচারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী। সংবাদ সম্মেলন শেষে স্থানীয়রা জড়ো হয়ে হামলার প্রতিবাদ জানান।
শফিকুল জানান, তিনি বর্তমান সময়সহ বিগত তিন মেয়াদে টোক ইউনিয়ন পরিষদের ১ নম্বর ওয়ার্ডের নির্বাচিত সদস্য। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে টোক ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি আব্দুর রশিদ ও তার ছেলে টোক কলেজ শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সাজরাতুল ইসলাম রাফি তার কাছে বিভিন্ন সময়ে চাঁদা দাবি করে। চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় তাকে ইউনিয়ন পরিষদে যাতায়াত করতে ও দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়া হয়।
সম্প্রতি তিনি চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করার ঘোষণা দেওয়ার পর থেকে তাকে নানাভাবে হয়রানি ও হুমকি দিয়ে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করা হচ্ছে। এমনকি তিনি বিভিন্ন ধর্মীয়, সামাজিক প্রতিষ্ঠান ও পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দিতে গেলে এবং সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে রাস্তার পাশে পোস্টার, বিলবোর্ড টানাতে গেলেও বাধা দেওয়া হচ্ছে। এর কারণ জানতে চাইলে আবারও মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করা হয়।
তিনি বলেন, ‘গত রোববার রাত ১০টার দিকে কিছু প্রয়োজনীয় জিনিস কিনতে টোক বাজারে একটি দোকানে গেলে রশিদ ও তার ছেলে রাফির নেতৃত্বে একদল দুষ্কৃতকারী দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আমার ওপর হামলা চালায়। এ সময় আশপাশে থাকা সোহেল তালুকদার, রাজীব, এরশাদ, ফুয়াদ আহমেদ তনয়, মঞ্জু, সাদেক ও মাহাবুবসহ অনেকে রক্ষা করতে এগিয়ে আসলে তারাও হামলার শিকার হন।’
পরে স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় সোহেল ও কবিরকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক সোহেলকে তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান এবং কবিরকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী কবির বাদী হয়ে কাপাসিয়া থানায় রশিদ ও তার ছেলে রাফিসহ চারজনের নাম উল্লেখ করে এবং সাত থেকে আটজনের নামে হামলা ও সাত লাখ টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগে একটি মামলা করেন।
অভিযোগের বিষয়ে রশিদ বলেন, ‘টোক ইউনিয়ন যুবলীগের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি কবির নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মীদের নিয়ে টোক বাজারে রাত ১২টার দিকে সভা করছিল। বাজারের একজন ইজারাদার হিসেবে আমার কাছে এ খবর আসলে কয়েকজন বুঝিয়ে বের করে দিই। সে সময় কোনো মারামারির ঘটনা ঘটেনি এবং চাঁদাবাজির অভিযোগও ভিত্তিহীন। বাজারের সিসিটির ফুটেজগুলো চেক দিলে এর সত্যতা নিশ্চিত করা সম্ভব।’
টোক তদন্ত কেন্দ্রের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. মিনহাজ উদ্দিন জানান, এ ঘটনায় একটি অভিযোগ পাওয়া গেছে এবং বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। এ বিষয়ে পরবর্তীতে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


