রাঙ্গুনিয়ার কর্ণফুলী নদীতে ডুবে থাকা একটি বালু উত্তোলন করা ড্রেজারের সঙ্গে ধাক্কা লেগে পর্যটকবাহী একটি স্টিমার ডুবে গেছে। এ ঘটনায় স্টিমারে থাকা শতাধিক যাত্রী নদীতে পড়ে গেলে দ্রুত উদ্ধার তৎপরতায় সবাই বেঁচে যান।
শনিবার সকালে উপজেলার বেতাগী ইউনিয়নের গোলাম বেপারী হাট এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, কর্ণফুলী উপজেলার চরপাথরঘাটা ব্রিজঘাট থেকে ছেড়ে আসা কাপ্তাইমুখী স্টিমারটি গোলাম বেপারী হাট এলাকায় পৌঁছালে নদীতে ডুবে থাকা বালু উত্তোলনকারী ড্রেজারের সঙ্গে ধাক্কা লাগে। ধাক্কার পরপর স্টিমারটি ডুবে যায়। এতে যাত্রীরা নদীতে ঝাঁপিয়ে পড়েন।
খবর পেয়ে আশপাশের স্থানীয়রা নৌকা নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে যাত্রীদের উদ্ধার করে নিরাপদে তীরে নিয়ে আসেন।
স্থানীয় মো. মহিউদ্দিন বলেন, ‘ডুবে থাকা ড্রেজারটিতে কোনো ধরনের বিপদসংকেত বা সতর্কতামূলক চিহ্ন ছিল না। এর আগেও একই ড্রেজারের সঙ্গে একাধিক নৌযানের ধাক্কার ঘটনা ঘটেছে।’ উদ্ধার কার্যক্রম শেষে ড্রেজারটিতে লাল পতাকা টানানো হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বেতাগী এলাকায় বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত আরও কয়েকটি ড্রেজার কর্ণফুলী নদীতে ডুবে রয়েছে, যা নৌযান চলাচলের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ। তারা দ্রুত এসব ড্রেজার অপসারণের দাবি জানান।
স্থানীয় মো. মিনার জানান, উদ্ধার হওয়া যাত্রীদের দুটি বাসে করে তাদের গন্তব্যে পাঠানো হয়েছে।
জানা গেছে, কর্ণফুলী উপজেলার ‘প্রত্যাশা’ নামের একটি সামাজিক সংগঠনের শতাধিক সদস্য ও শুভাকাঙ্ক্ষী বার্ষিক বনভোজনের উদ্দেশে স্টিমারে করে কাপ্তাই যাচ্ছিলেন।
সংগঠনের সদস্য নুরুল ইসলাম বলেন, ‘সবাই নিরাপদে থাকলেও অনেকের মোবাইল ফোন ও খাবারপত্র নষ্ট হয়েছে। দুর্ঘটনার কারণে বনভোজন কর্মসূচি স্থগিত করা হয়েছে।’
রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আরমান হোসেন জানান, এ ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি। স্থানীয়দের সহযোগিতায় সবাইকে নিরাপদে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।


