প্রযুক্তি খাতে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির লক্ষ্যে আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে ল্যাপটপ, ডেস্কটপ কম্পিউটার, সার্ভার, কম্পিউটার প্রিন্টার ও মনিটরের আমদানি শুল্ক, রেগুলেটরি শুল্ক, সম্পূরক শুল্ক ও ভ্যাট প্রত্যাহারের প্রস্তাব করা হয়েছে।
একই সঙ্গে এসএসডি আমদানিতে পাঁচ শতাংশ আমদানি শুল্ক বহাল রেখে বাকি সব শুল্ক ও ভ্যাট তুলে নেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে ল্যাপটপের খুচরা দাম গড়ে ১০ থেকে ১৫ শতাংশ এবং ডেস্কটপ কম্পিউটারের দাম ৮ থেকে ১২ শতাংশ কমতে পারে।
বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির (বিসিএস) সভাপতি মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, বর্তমানে ল্যাপটপ আমদানিতে করভার প্রায় ২২ থেকে ২৩ শতাংশ এবং ডেস্কটপে ১৭ থেকে ১৮ শতাংশ। সার্ভারে করভার প্রায় ১৮ শতাংশ। প্রিন্টারে তা ৩৫ শতাংশ ও মনিটরে ৩৩ শতাংশ। সবচেয়ে বেশি করভার এসএসডিতে, প্রায় ৬০ শতাংশ।
তিনি বলেন, ‘মনিটরে ৩৩ শতাংশ কর থাকায় কম্পিউটারের সামগ্রিক দাম আরও বেড়ে যাচ্ছে। আপনি মনিটর ছাড়া কম্পিউটার চালাবেন কীভাবে? একটার শুল্ক কমালে আরেকটায় যদি বেশি থাকে, ভোক্তার সুবিধা হয় না।’
এই করহারের ভিত্তিতে হিসাব করলে প্রস্তাবিত শুল্ক প্রত্যাহার কার্যকর হলে ল্যাপটপের খুচরা দাম গড়ে ১০ থেকে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত কমতে পারে। ডেস্কটপ কম্পিউটারের দাম ৮ থেকে ১২ শতাংশ, সার্ভারের দাম ১০ থেকে ১৫ শতাংশ এবং প্রিন্টারের দাম ১৫ থেকে ২০ শতাংশ কমার সুযোগ তৈরি হতে পারে। মনিটরের দাম ২০ শতাংশের বেশি কমার সম্ভাবনা রয়েছে। বর্তমানে এসএসডিতে প্রায় ৬০ শতাংশ করভার থাকলেও অধিকাংশ শুল্ক প্রত্যাহার করে শুধু ৫ শতাংশ আমদানি শুল্ক রাখা হলে এর দাম ২৫ থেকে ৩৫ শতাংশ পর্যন্ত কমতে পারে।
উদাহরণ হিসেবে, বর্তমানে এক লাখ টাকার একটি ল্যাপটপের দাম শুল্ক সুবিধার ফলে ৮৫ থেকে ৯০ হাজার টাকায় নেমে আসতে পারে। ১৫ হাজার টাকার একটি মনিটরের দাম কমে ১২ থেকে ১৩ হাজার টাকার মধ্যে আসতে পারে। একইভাবে ১০ হাজার টাকার একটি এসএসডির দাম সাত থেকে আট হাজার টাকার মধ্যে নেমে আসার সম্ভাবনা রয়েছে।
জহিরুল ইসলামের মতে, শুধু শুল্ক কমালেই হবে না, কম্পিউটারকে শিক্ষা উপকরণ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে শিক্ষার্থীদের কাছে আরও সহজলভ্য করতে হবে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, বইয়ে যদি শূন্য শুল্ক থাকতে পারে, তাহলে কম্পিউটারে কেন নয়। কারণ বর্তমানে কম্পিউটারও একটি শিক্ষা উপকরণ।
তবে তিনি মনে করেন, শুধু ডিভাইসের দাম কমালেই প্রযুক্তি খাতে কর্মসংস্থান বাড়বে না, এর জন্য দক্ষ জনশক্তি তৈরির দিকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে। তিনি বলেন, ‘আমাদের অধিকাংশ মানুষই কম্পিউটারে দক্ষ না। সারা বিশ্ব যখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে, তখন আমাদের অনেক মানুষের কাছে কম্পিউটারই নেই।’


