নাটক, চলচ্চিত্র প্রদর্শনী, কনসার্ট, বাউল গান, লোকসংগীত ও নৌকাবাইচসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে শিল্পী, দর্শক ও আয়োজকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারকে আইনি নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সাদ্দাম হোসেন অভি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ও পুলিশের মহাপরিদর্শকসহ সংশ্লিষ্টদের রেজিস্ট্রি ডাকযোগে এই নোটিশ পাঠান। নোটিশ পাওয়ার ১৫ দিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
নোটিশে বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর চাপ কিংবা আপত্তির কারণে আইনসম্মত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান বন্ধ করা যাবে না। একই সঙ্গে এসব অনুষ্ঠানে শিল্পী, সাংস্কৃতিক কর্মী, আয়োজক ও দর্শকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
নোটিশে সংবিধানের ৩১, ৩২, ৩৭ ও ৩৯ অনুচ্ছেদের উল্লেখ করে বলা হয়, নাগরিকের আইনের আশ্রয় লাভ, জীবন ও ব্যক্তিস্বাধীনতা, শান্তিপূর্ণ সমাবেশ এবং চিন্তা, বিবেক ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সংবিধানে নিশ্চিত করা হয়েছে।
আইনজীবী অভির নোটিশে বলা হয়, শান্তিপূর্ণ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, সংগীত, নাটক, লোকসংগীত, বাউল গান, চলচ্চিত্র প্রদর্শনী, সাংস্কৃতিক উৎসব, পহেলা বৈশাখ বা বাংলা নববর্ষ উদযাপন এবং ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ নাগরিক জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। নাটক, বাউল গান, লোকসংগীত, পালাগান, যাত্রা ও লোকনৃত্যের মতো আয়োজন বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও বৈচিত্র্যের অংশ বলেও নোটিশে উল্লেখ করা হয়।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজনকে কেন্দ্র করে বাধা, আপত্তি, নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে অনুষ্ঠান স্থগিত বা বাতিল এবং নৌকাবাইচ বন্ধের দাবির মতো ঘটনা ঘটেছে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়।
উদাহরণ হিসেবে গত মাসে কিশোরগঞ্জে স্থানীয় একটি গোষ্ঠীর আপত্তির পর একটি কনসার্ট প্রশাসনিকভাবে বাতিল হওয়ার কথা বলা হয়েছে। একই সময়ে সিলেটের বিয়ানীবাজারে সুনাই নদীতে আয়োজিত নৌকাবাইচ বন্ধের দাবিও ওঠে। এ ছাড়া অনুপম রায়ের ঢাকার কনসার্ট শেষ মুহূর্তে স্থগিত হওয়ার ঘটনাটিও নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।
এসব ঘটনা সাংস্কৃতিক আয়োজনের ক্ষেত্রে আইন, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত, নিরাপত্তা এবং নাগরিক অধিকারের মধ্যে ভারসাম্যের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে বলে নোটিশে বলা হয়েছে।
নোটিশে বলা হয়, নৌকাবাইচ বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যবাহী গ্রামীণ ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক আয়োজনের অন্যতম অংশ। জননিরাপত্তা ও জনশৃঙ্খলা রক্ষার প্রয়োজনে যুক্তিসংগত ও আইনসম্মত নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা যেতে পারে। তবে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর চাপের কারণে আইনসম্মত সাংস্কৃতিক আয়োজন বেআইনিভাবে বন্ধ করা উচিত নয়।
শিল্পী ও সাংস্কৃতিক কর্মীদের বিরুদ্ধে হুমকি, হামলা, অপমান, হয়রানি অথবা জোরপূর্বক অনুষ্ঠান বন্ধের চেষ্টা হলে তাদের নিরাপত্তা ও আইনগত সুরক্ষা নিশ্চিত করার কথাও নোটিশে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী যেন হুমকি কিংবা সহিংসতার মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করে আইনসম্মত কোনো সাংস্কৃতিক আয়োজন বন্ধ করতে না পারে, সে বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
আইনজীবী সাদ্দাম হোসেন অভি বলেন, বর্তমানে দেশে কনসার্ট, সংগীত অনুষ্ঠান, বাউল গান, নাটক ও সিনেমা প্রদর্শনীতে বিভিন্ন ধরনের বাধা দেওয়ার ঘটনা ঘটছে। তার ভাষায়, তৌহিদি জনতার ব্যানারে কিংবা কিছু সংগঠনের লোকজন এসব বাধা দিচ্ছে।
অভি বলেন, এটি প্রতিরোধের পাশাপাশি আয়োজক, শিল্পী, দর্শক, সাংস্কৃতিক কর্মীদের যেন নিরাপত্তা দেওয়া হয় এবং এ ধরনের অনুষ্ঠানে যেন কোনো ধরনের বাধা প্রদান না করা হয়, এসব বিষয়ে আমি আইনি নোটিশ পাঠিয়েছি।
নোটিশে উত্থাপিত দাবিগুলো বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে হাইকোর্টে রিট করার কথাও জানিয়েছেন তিনি।
‘সংশ্লিষ্টরা যদি বিষয়গুলোতে কোনো নিরাপত্তা নিশ্চিত না করে, তাহলে আমি হাইকোর্টে রিট করব’, বলেন আইনজীবী অভি।


