ভোটযুদ্ধে নামার আগে নিজের নির্বাচনী এলাকা ঢাকা-১৭ আসনে কড়াইলবাসীদের কাছে দোয়া চাইলেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
তিনি বলেন, ‘আমি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ছেলে। এখানে অনেক মুরব্বি আছেন, যারা জিয়াউর রহমানকে দেখেছেন। আমি দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার সন্তান, আমি বিএনপির একজন কর্মী। যেহেতু আমরা রাজনীতি করি, এই রাজনীতিটা কাদের জন্য? এটা আপনাদের মতো সাধারণ মানুষের জন্য।’
মঙ্গলবার বিকালে মহাখালী টিঅ্যান্ডটি কলোনি মাঠে বিএনপির সদ্যপ্রয়াত চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফিরাত কামনায় এক দোয়া মাহফিলপূর্ব অনুষ্ঠানে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে এসব কথা বলেন তারেক রহমান।
এ সময় তারেক রহমানের সহধর্মিণী জুবাইদা রহমানও উপস্থিত ছিলেন। বিএনপি চেয়ারম্যানের প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট আবদুস সালামের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন ফরহাদ হালিম ডোনার, আমিনুল হক প্রমুখ।
তারেক রহমান বলেন, ‘আপনাদের দৈনন্দিন জীবন কীভাবে একটু ভালো হতে পারে সেটি হচ্ছে আমাদের কাজ, সেটি হচ্ছে আমাদের লক্ষ্য, সেটি হচ্ছে আমাদের উদ্দেশ্য। তাই আজকে হাজির হয়েছি আপনাদের কাছে, আমি দোয়া চাই, আল্লাহর রহমত চাই। তবে ক্ষমতায় গেলে কড়াইলবাসীর জন্য হাসপাতালসহ শিশুদের স্কুল ও খেলার মাঠ করা হবে। কড়াইলবাসীদের শিক্ষা ও চিকিৎসা নিশ্চিত করা হবে।’

তিনি বলেন, ‘আপনারা এখানে কড়াইল বস্তিতে অনেক কষ্ট করছেন। আমরা ধীরে ধীরে সমাধান করতে চাই। এখানে উঁচু উঁচু বড় বড় বিল্ডিং করে দিতে চাই। এখানে যে মানুষগুলো থাকেন, তাদের নাম রেজিস্ট্রি করে প্রত্যেকের নামে আমরা ফ্ল্যাট দিতে চাই। এখানকার যারা বহু বছর ধরে আছেন, তাদেরকে আমরা সেগুলো দিতে চাই, যাতে করে তাদের ঢাকা শহরে মাথা গোঁজার ঠাঁই হয়। সবকিছু নির্ভর করছে আপনাদের দোয়ার ওপর।’
ঢাকা-১৭ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী তারেক রহমান এলাকাবাসীর কাছে দোয়া কামনা করে বলেন, ‘আজ এখানে হাজার হাজার মা-বোন বসে আছেন। সারা দেশে মা-বোনেরা কষ্টের মধ্যে আছেন। আল্লাহ যদি আমাদের তৌফিক দেন, আমরা সেই মা-বোনদের জন্য ফ্যামিলি কার্ড দিতে চাই। কৃষকদের জন্য কৃষক কার্ড দিতে চাই। আগামী প্রজন্মের জন্য শিক্ষাব্যবস্থার উন্নতি করতে চাই।’
তারেক রহমান বলেন, ‘কড়াইলবাসীরা এখানে বসবাস করেন। আপনাদেরও সন্তান আছে, আমারও সন্তান আছে। আমাদের ভবিষ্যৎ হচ্ছে আজকের সন্তানেরা। আমরা চাই, দালানে যে থাকে তার সন্তান যেমন শিক্ষার সুযোগ-সুবিধা পাবে, ঠিক একইভাবে কড়াইল বস্তিতে যে মানুষগুলো থাকে তাদের সন্তানেরাও যেন লেখাপড়ার সুযোগ পায়, খেলাধুলার সুযোগ পায়, বিদেশি ভাষা শিখতে পারে এবং চিকিৎসা সুবিধা পেতে পারে। আল্লাহ যদি রহম করেন, আমরা আপনাদের জন্য সেই ব্যবস্থা করতে চাই।’
তিনি বলেন, ‘আমরা রাজনীতি করি মানুষের জন্য, আপনাদের জন্য। এর আগেও বিএনপি যতবার রাষ্ট্র পরিচালনা করেছে, মানুষের কাছে যে জবান দিয়েছে, আমরা আমাদের সাধ্য অনুযায়ী সেই জবান রক্ষা করার চেষ্টা করেছি।’

কড়াইল বস্তিতে শিশুদের জন্য দুটি স্কুল ও খেলার মাঠ তৈরির ব্যবস্থার কথাও বলেন বিএনপি চেয়ারম্যান।
তিনি বলেন, ‘এই কাজগুলো করতে হলে আপনাদের দোয়া করতে হবে। আল্লাহর রহমত চাই। আল্লাহ যদি সহায় হন, প্রত্যেকটি কাজ ইনশাআল্লাহ আমরা বাস্তবায়ন করতে সক্ষম হব। এই এলাকার মানুষ—আপনারা যেমন বহু মানুষ এই এলাকায় ছোট থেকে বড় হয়েছেন, আমিও এই এলাকায় ছোট থেকে বড় হয়েছি। আমরা যদি ঐক্যবদ্ধ থাকি, একসঙ্গে থাকি, তাহলে এই এলাকার সমস্যাগুলো সমাধান করতে পারব।’
‘আপনাদের ওপর কেউ যদি কষ্ট দিয়ে থাকে, কেউ যদি অত্যাচার-নির্যাতন করে থাকে, তাদের বিরুদ্ধে আমরা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে পারব। আপনাদের কাছ থেকে কেউ যদি জোর করে কারেন্ট বিল, পানির বিল বা গ্যাসের বিল আদায় করে থাকে, আমরা যদি ঐক্যবদ্ধ থাকি, তাহলে কেউ জোর করে আপনাদের কাছ থেকে কিছু নিতে পারবে না। মিটারে যে বিল আসবে, আপনারা শুধু সেটাই দেবেন,’যোগ করেন তিনি।

তারেক রহমান আরও বলেন, ‘আমি আপনাদের পাশেই থাকি। কাজেই আমি আপনাদেরই সন্তান। আমি আপনাদের বলতে পারি, যতদিন বেঁচে থাকব, যতদিন আল্লাহর রহমত থাকবে আমার ওপর, আপনাদের পাশে আছি, ইনশাআল্লাহ আপনাদের পাশেই থাকব। যতটুকু পারি, আমার সাধ্য অনুযায়ী আমি কড়াইলবাসীর পক্ষে থাকব।’
রাতে বনানীর চেয়ারম্যান বাড়িতে বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার স্মরণে আরেকটি দোয়া মাহফিলেও যোগ দেন তারেক রহমান। জুবাইদা রহমানও এতে অংশ নেন।
বৃহস্পতিবার সিলেটে হযরত শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহপরান (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করে আনুষ্ঠানিক প্রচারাভিযান শুরু করবেন তারেক রহমান।


