২০ হাজার পিস বার্মিজ ইয়াবাসহ মো. সজীব বেপারী (২৩) নামে এক পুলিশ সদস্যকে আটক করা হয়েছে। তিনি ৮ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) কনস্টেবল।
শুক্রবার সন্ধ্যায় রামু উপজেলার মরিচ্যা যৌথ চেকপোস্টে বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। উদ্ধার হওয়া ইয়াবার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৬০ লাখ টাকা বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।
সজীব বেপারী উখিয়ার বালুখালী পানবাজার রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকায় কর্মরত ছিলেন।
বিজিবি জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মরিচ্যা যৌথ চেকপোস্টে একটি যাত্রীবাহী সিএনজিচালিত অটোরিকশা থামিয়ে তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় সজীব বেপারীর আচরণ সন্দেহজনক মনে হলে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। প্রথমে তিনি ইয়াবা বহনের বিষয়টি অস্বীকার করেন।
পরে তার সঙ্গে থাকা একটি ব্যাগ তল্লাশি করে বিশেষ কৌশলে লুকিয়ে রাখা ২০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থলেই তাকে আটক করে বিজিবি সদস্যরা।
রামু ব্যাটালিয়নের (৩০ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল কাজী মাহতাব উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মরিচ্যা যৌথ চেকপোস্টে বিশেষ তল্লাশি অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় সন্দেহজনক আচরণের কারণে এক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ ও তল্লাশি করা হলে তার সঙ্গে থাকা ব্যাগ থেকে বিশেষ কৌশলে লুকিয়ে রাখা ২০ হাজার পিস বার্মিজ ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। পরে তাকে আটক করা হয়।’
তিনি আরও জানান, ‘আটক ব্যক্তি নিজেকে ৮ এপিবিএনের একজন কনস্টেবল বলে পরিচয় দিয়েছেন। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।’
উচ্ছৃঙ্খল আচরণ, চাঁদাবাজি ও মাদক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে প্রায় ১৫ দিন আগে সজীব বেপারীকে পানবাজার ক্যাম্প থেকে প্রত্যাহার করে ৮ এপিবিএনে সংযুক্ত করা হয়। একই সঙ্গে তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশও দেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে বাবার অসুস্থতার কথা বলে গত ৩০ এপ্রিল পাঁচ দিনের ছুটি নেন তিনি।
এ বিষয়ে ৮ এপিবিএনের কমান্ডিং অফিসার (সিও) রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ জানান, ‘কনস্টেবল সজীব বেপারী বৃহস্পতিবার ছুটি নিয়ে কর্মস্থল ছাড়েন। পরে শুক্রবার রাতে বিভিন্ন মাধ্যমে জানতে পারি, তিনি ইয়াবাসহ বিজিবির হাতে আটক হয়েছেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘আগেও সজীবের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ পাওয়া গিয়েছিল। তাকে শোকজ করার পাশাপাশি কর্মস্থল থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছিল। তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সুপারিশ করা হবে।’
৮ এপিবিএনের সিওআরও জানান, বাহিনীর শৃঙ্খলা পরিপন্থী কোনো কর্মকাণ্ড প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আটক সজীব বেপারীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।


