ঈদুল ফিতরের টানা ছুটিতে পর্যটন নগরী কক্সবাজার যেন উৎসবের শহরে পরিণত হয়েছে। লাখো পর্যটকের আগমনে সাগরের ঢেউয়ের সঙ্গে মিশেছে মানুষের ঢেউ। ঈদের দিন কিছুটা ভিড় কম থাকলেও দ্বিতীয় দিন রোববার সকাল থেকেই সমুদ্রসৈকতের লাবনী, কলাতলী, সুগন্ধাসহ সব পয়েন্টে উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।
এবার ঈদে টানা ৭ দিনের সরকারি ছুটির সঙ্গে মিলিয়ে অনেকেই প্রায় ১০ দিনের অবকাশ পেয়েছেন। এই সুযোগে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ভ্রমণপিপাসু মানুষ ছুটে এসেছেন কক্সবাজারে। ফলে পুরো শহরজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে লোকসমুদ্র-সাগরতীরজুড়ে পা ফেলার জায়গাও মিলছে না। পরিবার-পরিজন নিয়ে কেউ নোনাজলে, কেউ বালিয়াড়িতে কাটাচ্ছেন আনন্দঘন সময়। পর্যটকদের নিরাপত্তায় লাইফগার্ড ও ট্যুরিস্ট পুলিশ সার্বক্ষণিক তৎপর রয়েছে।
ঈদের দিন বৃষ্টির কারণে কিছুটা ভাটা থাকলেও দ্বিতীয় দিনে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় পর্যটকদের উপস্থিতি আরও বেড়েছে। উজ্জ্বল রোদে সমুদ্রসৈকত ফিরে পেয়েছে তার চেনা রূপ। মাদ্রাসা পয়েন্ট থেকে কলাতলী পর্যন্ত প্রায় ৩ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে দেখা গেছে শুধু মানুষ আর মানুষ।

গাজীপুর থেকে আসা পর্যটক আব্দুর রহমান বলেন, ‘ভাবছিলাম ভিড় কম হবে, কিন্তু এসে দেখি সাগরতীরে দাঁড়ানোর জায়গা নেই। এত মানুষের আনন্দ দেখে ভালো লাগছে।’
সিলেট থেকে আসা সাত বন্ধুর একটি দলও সৈকতে আনন্দে মেতে উঠেছেন। তাদের একজন রাহাতুল ইসলাম ড্রোন উড়িয়ে পর্যটকের সংখ্যা দেখার চেষ্টা করে বলেন, ‘ওপরে উঠলেই শুধু মানুষ আর মানুষ—মনে হচ্ছে দুই লাখের কাছাকাছি হবে।’
তবে পর্যটকদের আনন্দের মাঝে কিছুটা ভোগান্তির চিত্রও সামনে এসেছে। অভিযোগ রয়েছে, অধিক পর্যটকের সুযোগ নিয়ে কিছু অসাধু হোটেল মালিক অতিরিক্ত ভাড়া নিচ্ছেন। দুই-তিন হাজার টাকার কক্ষ ৮ থেকে ১০ হাজার টাকায় ভাড়া দেওয়া হচ্ছে। খাবার ও পরিবহন খরচও বেড়েছে।
নোয়াখালী থেকে আসা পর্যটক মুহিব উল্লাহ বলেন, ‘আগাম বুকিং না থাকায় একটি সাধারণ কক্ষ নিতে হয়েছে ৮ হাজার টাকায়, যা স্বাভাবিক সময়ে দুই হাজার টাকার বেশি নয়।’ এমন অভিযোগ করছেন অনেক পর্যটকই।
এদিকে, পর্যটকের চাপ সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছেন লাইফগার্ড কর্মীরা। সি সেফ লাইফ গার্ডের প্রজেক্ট কর্মকর্তা মো. ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, ‘লাখের বেশি পর্যটকের নিরাপত্তায় মাত্র ২৭ জন কর্মী কাজ করছেন। তবুও আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি।’
ট্যুরিস্ট পুলিশ জানায়, সৈকত, হোটেল-মোটেল জোন এবং বিভিন্ন বিনোদনকেন্দ্রে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। একই সঙ্গে মেরিন ড্রাইভ, হিমছড়ি, ইনানী ও পাতুয়ারটেক এলাকাতেও পর্যটকদের ভিড় দেখা গেছে।
পর্যটকের ঢলে প্রাণ ফিরে পেয়েছে পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়। বার্মিজ মার্কেটের ব্যবসায়ীরা বলছেন, রমজানে ব্যবসা বন্ধ থাকলেও এখন বিক্রি বাড়তে শুরু করেছে।
হোটেল-মোটেল মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম সিকদার জানান, শহরের প্রায় ৫ শতাধিক আবাসিক প্রতিষ্ঠানের কোথাও কোনো কক্ষ খালি নেই এবং ৩০ মার্চ পর্যন্ত অধিকাংশ হোটেল অগ্রিম বুকড। তিনি বলেন, পর্যটকদের হয়রানি না করতে এবং ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে হোটেল মালিকদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান বলেন, ‘পর্যটকরা আমাদের অতিথি। তাদের নিরাপত্তা ও সেবায় জেলা প্রশাসন সর্বোচ্চ সহযোগিতা দেবে।’


