লস অ্যাঞ্জেলেসে শেষ ষোলো নিশ্চিত করার হাইভোল্টেজ ম্যাচে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে এগিয়ে থেকে বিরতিতে গেছে স্পেন। প্রথমার্ধ শেষে ম্যাচের স্কোরলাইন স্পেন ১-০ অস্ট্রিয়া। ৩৬ মিনিটে ম্যাচের একমাত্র গোলটি করেছেন মিকেল ওইয়ারসাবাল।
মাঠের লড়াইয়ে শুরু থেকে দাপুটে ফুটবল খেলা স্পেন প্রথমার্ধে একাধিক গোল পেতে পারত। তবে অস্ট্রিয়ান গোলরক্ষক আলেকজান্ডার শ্লাজার ও গোল পোস্ট বাঁধা হয়ে না দাঁড়ালে প্রথম ৪৫ মিনিটেই ম্যাচের ভাগ্য একরকম লিখে ফেলতে পারত স্পেন।
ম্যাচের শুরু থেকে অস্ট্রিয়ার রক্ষণভাগে একের পর এক আক্রমণ শানাতে থাকে স্পেন। সেই আক্রমণের ধারাবাহিকতায় ম্যাচের ৩৬ মিনিটে ডেডলক ভাঙেন মিকেল ওইয়ারসাবাল। মার্ক কুকুয়েরার নিখুঁত পাস থেকে অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় বল জালে জড়ান এই স্প্যানিশ ফরোয়ার্ড।
অবশ্য এর আগে প্রথম হাইড্রেশন ব্রেকের পরপর জোরালো শটে বল জালে জড়িয়েছিলেন মার্ক কুকুরেয়া। তবে স্প্যানিশ শিবিরের সেই গোল উদযাপনের আনন্দ বেশি সময় টেকেনি।
কর্নার থেকে বল আসার সময় স্পেনের একজন খেলোয়াড় অস্ট্রীয় গোলরক্ষক আলেকজান্ডার শ্লাগারের ওপর ফাউল করায় রেফারি সঙ্গে সঙ্গেই বাঁশি বাজিয়ে কুকুরেয়ার গোলটি বাতিল করে দেন।
প্রথমার্ধের প্রথম হাইড্রেশন ব্রেক পর্যন্ত দুই দলই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলার চেষ্টা করলেও সুযোগ তৈরির দিক থেকে অস্ট্রিয়ার চেয়ে অনেকটা এগিয়ে ছিল স্পেন।
ইউরোপের কোনো দলের বিপক্ষে স্পেন সর্বশেষ হেরেছিল ২০২৩ সালের ২৮ মার্চ স্কটল্যান্ডের কাছে ২-০ গোলে। এরপর থেকে ইউরোপীয় প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে টানা ৩৪ ম্যাচে অপরাজিত থাকার অবিশ্বাস্য ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছে তারা। প্রতিপক্ষকে গোলের সুযোগ না দেওয়া এবং শক্তিশালী রক্ষণ স্পেনের এই সাফল্যের সবচেয়ে বড় ভিত্তি।
এই ম্যাচের প্রথমার্ধ পর্যন্ত গোল না হজম করায় স্পেন টানা চারটি বিশ্বকাপ ম্যাচে ‘ক্লিন শিট’ রাখার যৌথ রেকর্ড স্পর্শ করল।
এর আগে ২০১০ সালে শিরোপা জয়ের পথে টানা চার ম্যাচে প্রতিপক্ষকে গোল করতে দেয়নি তারা। বিশ্বকাপ ইতিহাসে টানা পাঁচ ম্যাচে ক্লিন শিট রাখার কীর্তি আছে মাত্র দুটি দলের–১৯৯০ সালে ইতালি এবং ২০০৬ থেকে ২০১০ বিশ্বকাপ মিলিয়ে সুইজারল্যান্ড।
এবারের বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ ক্লিন শিটের তালিকায় সবার ওপরে আছেন মেক্সিকোর গোলরক্ষক রাউল রাঙ্গেল (৪টি)। স্পেনের উনাই সিমোনের ঝুলিতে এখন ৩টি ক্লিন শিট, তবে রাঙ্গেলের চেয়ে একটি ম্যাচ কম খেলেই এই কীর্তি গড়েছেন সিমোন।
উরুগুয়ের বিপক্ষে ১-০ গোলে জয়ের ম্যাচটি থেকে আজকের একাদশে দুটি পরিবর্তন এনেছেন স্পেনের কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে।
মিডফিল্ডে মিকেল মেরিনোর জায়গায় ফিরেছেন দানি ওলমো এবং ডান প্রান্তের রক্ষণে মার্কোস ইয়োরেন্তের বদলে সুযোগ পেয়েছেন পেদ্রো পোরো।
চোটে থাকা নিকো উইলিয়ামসের অনুপস্থিতিতে বাম উইংয়ে আস্থা রাখা হয়েছে আলেক্স বায়েনার ওপর। অন্যদিকে, স্প্যানিশ সেন্টার-ব্যাক এমেরিক লাপোর্তে আজ জাতীয় দলের হয়ে নিজের ৫০তম ম্যাচ খেলতে মাঠে নেমেছেন।
এখন দেখার বিষয়, দ্বিতীয়ার্ধে স্পেন কি গোলের ব্যবধান আরও বাড়াতে পারবে, নাকি শক্তিশালী স্প্যানিশ রক্ষণ ভেঙে অস্ট্রিয়া ঘুরে দাঁড়াতে পারবে।
স্পেনের একাদশ
উনাই সিমোন, পেদ্রো পোরো, পাও কুবারসি, এমেরিক লাপোর্তে, মার্ক কুকুরেয়া, রদ্রি, পেদ্রি, লামিনে ইয়ামাল, দানি ওলমো, আলেক্স বায়েনা, মিকেল ওইয়ারসাবাল।
অস্ট্রিয়ার একাদশ
আলেকজান্ডার শ্লাগার, স্টেফান পশ, কেভিন ডানসো, ডেভিড আলাবা, কনরাড লামের, নিকোলাস সাইভাল্ড, সাভের শ্লাগার, রোমানো স্মিড, পল ভানার, মার্সেল সাবিটসার, মাইকেল গ্রেগরিশ।


