জালিয়াতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে ২৪ কোটি টাকা ঋণ নিয়ে আত্মসাতের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা মামলায় এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাইফুল আলম, রিলায়েন্স ফাইন্যান্স লিমিটেডের (বর্তমানে আভিভা ফাইন্যান্স লিমিটেড) সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রশান্ত কুমার (পি কে) হালদারসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে চার্জগঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছে আদালত। একই সঙ্গে আগামী ১ মার্চ সাক্ষ্যগ্রহণের তারিখ ধার্য করেছে আদালত।
বুধবার শুনানি শেষে ঢাকা বিশেষ জজ আদালতের ৮ নম্বর বিচারক নূরে আলম ভুঞা এ আদেশ দেন। দুদকের প্রসিকিউটর দেলোয়ার জাহান রুমি এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
বিচার শুরু হওয়া অপর আসামিরা হলেন, এস আলম গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুস সামাদ, পরিচালক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ হাসান ও শাহানা ফেরদৌস।
এ ছাড়া রিলায়েন্স ফাইন্যান্স লিমিটেডের (বর্তমানে আভিভা ফাইন্যান্স লি.) সাবেক ইভিপি রাশেদুল হক, সাবেক ম্যানেজার নাহিদা রুনাই, সাবেক এসভিপি কাজী আহমেদ জামাল, সাবেক ডেপুটি ম্যানেজার জুমারাতুল বান্না এবং মারিন ভেজিটেবল অয়েলসের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক জহির আহমেদ, পরিচালক টিপু সুলতান, মো. ইসহাক ও মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন। তাদের মধ্যে নাহিদা রুনাই ও রাশেদুল হক কারাগারে আছেন। বাকিরা পলাতক রয়েছেন।
চার্জগঠনের সময় আসামি নাহিদা রুনাই ও রাশেদুল হক নিজেদের নির্দোষ দাবি করে ন্যায়বিচারের প্রার্থনা করেন। তবে মামলার অন্যান্য আসামিরা পলাতক থাকায় তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত।
দুদকের প্রসিকিউটর দেলোয়ার জাহান রুমি বলেন, শুনানিকালে দুই আসামিকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। অন্য আসামিরা পলাতক থাকায় তারা চার্জগঠন শুনানিতে অংশ নিতে পারেননি। দুই আসামির পক্ষে মামলাটি থেকে অব্যাহতির আবেদন জানানো হলেও আদালত তা নামঞ্জুর করে চার্জগঠনের আদেশ দেন।
এর আগে গত ১১ জানুয়ারি মামলার চার্জশিট গ্রহণ করেন ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালত। সেদিনই মামলাটি বিচারের জন্য ঢাকার বিশেষ জজ-৮ নম্বর আদালতে বদলির নির্দেশ দেওয়া হয়।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০১৩ সালের ৩ অক্টোবর মেসার্স সাইফুল অ্যান্ড কোং-এর অনুকূলে তাসনিম ফ্লাওয়ার মিলস লিমিটেড প্রতিষ্ঠানের নামে ২৪ কোটি টাকার একটি মেয়াদি ঋণ অনুমোদন করা হয় এবং ২০১৩ সালের ৪ নভেম্বর তা বিতরণ করা হয়। একই পদ্ধতিতে এই অর্থ এস আলম সুপার এডিবল অয়েল লিমিটেডে স্থানান্তরিত হয়। এ মামলায় ১৩ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
ওই ঘটনায় গত বছরের ২ জুলাই সংস্থাটির উপপরিচালক মো. আনোয়ার হোসেন ১৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। মামলাটি তদন্ত করে একই বছরের ১৬ অক্টোবর দুদকের সহকারী পরিচালক মো. ইসমাঈল ১৩ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন।


