দেশে এপ্রিল মাসে সড়ক দুর্ঘটনায় ৫১০ জন নিহত এবং এক হাজার ২৬৮ জন আহত হয়েছেন। বুধবার বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির রোড সেফটি মনিটরিং সেলের প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, একই মাসে ৫৪টি রেল দুর্ঘটনায় ৪৯ জন নিহত ও ১১ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া নৌপথে পাঁচটি দুর্ঘটনায় চারজনের মৃত্যু হয়েছে।
সব মিলিয়ে সড়ক, রেল ও নৌপথে ৫৮৬টি দুর্ঘটনায় ৫৬৩ জন নিহত এবং এক হাজার ২৭৯ জন আহত হয়েছেন।
এর মধ্যে শুধু মোটরসাইকেল দুর্ঘটনাই ঘটেছে ১৩৯টি। এসব দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ১৪২ জন এবং আহত হয়েছেন ১২৪ জন। মোট দুর্ঘটনার ২৬ দশমিক ৩৭ শতাংশ, ২৭ দশমিক ৮৪ শতাংশ মৃত্যু এবং আহতের ৯ দশমিক ৭৭ শতাংশই মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত।
বিভাগভিত্তিক তথ্যে দেখা গেছে, সবচেয়ে বেশি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে চট্টগ্রাম বিভাগে। সেখানে ১৩৫টি দুর্ঘটনায় ১৩৭ জন নিহত এবং ২৬৩ জন আহত হয়েছেন। অন্যদিকে সবচেয়ে কম দুর্ঘটনা ঘটেছে ময়মনসিংহ বিভাগে। সেখানে ১৭টি দুর্ঘটনায় ১৮ জন নিহত এবং ৬৪ জন আহত হয়েছেন।
সড়কের ধরণ অনুযায়ী ৩৮ দশমিক ৫১ শতাংশ দুর্ঘটনা ঘটেছে জাতীয় মহাসড়কে, ৩১ দশমিক ৪৯ শতাংশ আঞ্চলিক সড়কে এবং ২২ দশমিক ৯৬ শতাংশ ফিডার রোডে। শহরাঞ্চলের মধ্যে ৫ দশমিক ৬৯ শতাংশ দুর্ঘটনা ঘটেছে ঢাকায়, ০ দশমিক ৭৫ শতাংশ চট্টগ্রাম শহরে এবং ০ দশমিক ৫৬ শতাংশ রেলক্রসিংয়ে।
সংগঠনটি এপ্রিল মাসে সড়ক দুর্ঘটনার কয়েকটি প্রধান কারণ চিহ্নিত করেছে। এর মধ্যে রয়েছে মোটরসাইকেল ও ব্যাটারিচালিত যানবাহনের অনিয়ন্ত্রিত চলাচল, সড়কে চিহ্ন ও আলোর অভাব, ডিভাইডার না থাকা, ত্রুটিপূর্ণ সড়ক নকশা, উল্টো পথে যান চলাচল, চাঁদাবাজি, পণ্যবাহী যানবাহনে যাত্রী পরিবহন, অদক্ষ চালক, ফিটনেসবিহীন যান, অতিরিক্ত যাত্রী বা মাল বহন, বেপরোয়া গতি এবং বিশ্রাম ছাড়া দীর্ঘ সময় গাড়ি চালানো।
বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি বলেছে, গণমাধ্যম পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে এ তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। তবে অনেক দুর্ঘটনার খবর সংবাদপত্রে প্রকাশ না হওয়ায় প্রকৃত হতাহতের সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে।
বুধবার সংগঠনটির মহাসচিব মো. মোজ্জাম্মেল হক চৌধুরীর সই করা এক বিবৃতিতে বলা হয়, পরিবহন খাত ব্যবস্থাপনায় জরুরি সংস্কার প্রয়োজন।তিনি বলেন, আমলানির্ভর নিয়ন্ত্রণব্যবস্থার পরিবর্তে দেশি-বিদেশি পরিবহন বিশেষজ্ঞদের সম্পৃক্ত করা গেলে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা, যাত্রীভোগান্তি কমানো এবং বাড়তে থাকা প্রাণহানি ঠেকানো সম্ভব হতে পারে।


