জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম সদস্যসচিব ও মিডিয়া সেল সম্পাদক মুশফিক উস সালেহীন দল থেকে পদত্যাগ করেছেন। বৃহস্পতিবার তিনি দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগপত্র জমা দেন। পদত্যাগের বিষয়টি তিনি টাইমস অব বাংলাদেশকে নিশ্চিত করেছেন।
পদত্যাগপত্রে মুশফিক উস সালেহীন উল্লেখ করেন, এনসিপির একজন প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসেবে তিনি সবসময় দলের ঘোষিত লক্ষ্য, আদর্শ, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ও গণতান্ত্রিক নৈতিকতার প্রতি দায়বদ্ধ থেকে দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করেছেন।
যুগ্ম সদস্যসচিব, কার্যনির্বাহী পরিষদ সদস্য, মিডিয়া সেল সম্পাদক এবং পলিসি অ্যান্ড রিসার্চ উইং-এর কো-লিডসহ বিভিন্ন দায়িত্বে থেকে দল গঠনের কাজে তিনি সক্রিয় ছিলেন বলেও জানান তিনি।
তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে একটি তারুণ্যনির্ভর, মধ্যপন্থী ও ভবিষ্যৎমুখী রাজনৈতিক দল গড়ে ওঠার প্রত্যাশা থেকেই তিনি ব্যক্তিগত ও পেশাগত ঝুঁকি নিয়ে এনসিপিতে যুক্ত হয়েছিলেন। তবে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন দশ দলীয় জোটে এনসিপির অন্তর্ভুক্ত হওয়ার সিদ্ধান্তের সঙ্গে তিনি নীতিগতভাবে একমত নন।
পদত্যাগপত্রে তিনি আরও উল্লেখ করেন, এ বিষয়ে তিনি আগে কার্যনির্বাহী পরিষদের সভায় নোট অব ডিসেন্ট এবং পরে স্মারকলিপির মাধ্যমে আপত্তি জানিয়েছেন। তার মতে, এই জোটে যোগদান জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক নাগরিক রাষ্ট্র গঠনের রাজনৈতিক লক্ষ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। স্বল্পমেয়াদে রাজনৈতিক লাভের সম্ভাবনা থাকলেও, এতে দীর্ঘমেয়াদে একটি মধ্যপন্থী ও আত্মনির্ভরশীল দল হিসেবে এনসিপির ভবিষ্যৎ প্রশ্নের মুখে পড়বে বলে তিনি মনে করেন।
দলের অভ্যন্তরে গণতান্ত্রিক চর্চার অভাব, সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ার অস্বচ্ছতা এবং নতুন জোটসঙ্গীদের রাজনৈতিক অবস্থান বিবেচনায় নিয়ে তিনি এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন বলে জানান মুশফিক উস সালেহীন।
তিনি বলেন, এই বাস্তবতায় দলের পদে থেকে দায়িত্ব পালন করা তার নৈতিক বিশ্বাস ও রাজনৈতিক দায়বদ্ধতার সঙ্গে আর সংগতিপূর্ণ নয়।
পদত্যাগপত্রে তিনি এনসিপির সব পদ ও দায়িত্ব থেকে স্বেচ্ছায় সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন। একই সঙ্গে তিনি জানান, তার সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ রাজনৈতিক এবং ভবিষ্যতেও তিনি এনসিপির একজন শুভাকাঙ্ক্ষী হিসেবেই থাকবেন।
চিঠির শেষাংশে তিনি জাতীয় নাগরিক পার্টির ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পথচলার জন্য শুভকামনা জানান এবং আশা প্রকাশ করেন যে, দলটি গণতন্ত্র, সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচারকে রাজনীতির কেন্দ্রে রেখে ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ বিনির্মাণে ভূমিকা রাখবে।


