জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রেশ কাটতে না কাটতেই দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে বইতে শুরু করেছে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আগাম হাওয়া। ঈদ, স্বাধীনতা দিবস, পহেলা বৈশাখের মত দিবস–উৎসব ব্যবহার করে তৃণমূল পর্যায়ে নিজেদের মাঠ গোছাতে শুরু করেছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা।
সরেজমিন অনুসন্ধানে দেখা গেছে, সরকারি দল বিএনপি এবং প্রধান বিরোধী দল জামায়াত ও এনসিপির স্থানীয় নেতারা পবিত্র ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময়ের আড়ালে নির্বাচনী প্রচারে ব্যাপকভাবে সক্রিয় হয়ে উঠেছেন। উপজেলা, পৌরসভা, ইউনিয়ন পরিষদের সম্ভাব্য প্রার্থীরা নিজ নামে ব্যানার, পোস্টার ও ফেস্টুন টাঙানোর পাশাপাশি ঈদের দিন থেকে বিশেষ জনসংযোগ কর্মসূচিও হাতে নিয়েছেন।
তৃণমূলের নেতারা বলছেন, আসন্ন স্থানীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে ঈদের সময়টিকে তারা কৌশলগতভাবে কাজে লাগাতে চাইছেন। সম্প্রতি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী এবং বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর চলতি বছরের মধ্যেই স্থানীয় নির্বাচন আয়োজনের কথা জানিয়েছেন। সরকারের এই অবস্থানকে গুরুত্ব দিয়ে বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপির নেতারা ধারণা করছেন, ঈদের পরপরই হয়তো উপজেলা পরিষদের নির্বাচনের মাধ্যমে এই প্রক্রিয়া শুরু হবে। ফলে সম্ভাব্য প্রার্থীরা কোনো সুযোগই হাতছাড়া করতে চাইছেন না।
নেতাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী, আসন্ন দিনগুলোতে ধাপে ধাপে উপজেলা, ইউনিয়ন পরিষদ, সিটি কর্পোরেশন এবং জেলা পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে। এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে এখন থেকেই সংগঠনের তৃণমূল গোছানো এবং ভোটারদের কাছে নিজেদের পরিচিতি বাড়ানোর কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। তবে জেলা পরিষদ ও সিটি কর্পোরেশনে প্রশাসক নিয়োগের বিষয়টি নিয়ে জামায়াত ও এনসিপির মধ্যে কিছুটা অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। দল দুটির নেতাদের অভিযোগ, নির্বাচনের আগে প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে সরকারি দল সব জায়গায় নিজেদের পছন্দের প্রশাসক বসাচ্ছে, যা নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে।
যশোর জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক জানান, উৎসবের সময় মানুষের কাছাকাছি যাওয়া একটি স্বাভাবিক রাজনৈতিক সৌজন্য। তাদের নেতাকর্মীরা ঈদের শুভেচ্ছার পাশাপাশি স্থানীয় নির্বাচনের প্রস্তুতিমূলক কাজও চালিয়ে যাচ্ছেন। কেন্দ্র থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা না এলেও সম্ভাব্য প্রার্থীরা নিজ উদ্যোগে মাঠে সক্রিয় রয়েছেন।
অন্যদিকে জামায়াত ও এনসিপিও তাদের তৃণমূলকে নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত হওয়ার বার্তা দিয়েছে। জামায়াত ইতিমধ্যে জেলা পর্যায়ে সম্ভাব্য প্রার্থীদের একটি প্রাথমিক তালিকা তৈরির কাজও শুরু করেছে।
যশোর জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি ও নির্বাচনী পরিচালক গোলাম কুদ্দুস বলেন, ঈদের ছুটিতে মানুষের বাড়ি ফেরার সুযোগে বড় ধরনের জনসংযোগের সুযোগ তৈরি হয়। তারা এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে নির্বাচনী প্রচারণার প্রাথমিক ধাপগুলো সম্পন্ন করছেন।
একইভাবে তৎপরতা চালাচ্ছে নতুন দল জাতীয় নাগরিক পার্টি– এনসিপিও। গত সংসদ নির্বাচনে জামায়াতের সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে ছয়টি আসনে জয়ী হওয়া এই দলটি এবার স্থানীয় পর্যায়ে নিজেদের শক্তি বাড়াতে চায়। এনসিপির যুগ্ম–মুখ্য সমন্বয়ক আরিফুর রহমান তুহিন জানিয়েছেন, স্থানীয় নির্বাচন পর্যবেক্ষণে তাদের দল থেকে বিশেষ টিম গঠন করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে দুই–তৃতীয়াংশ আসন পেয়ে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট বর্তমানে রাষ্ট্রক্ষমতায় রয়েছে। বিপরীতে জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোট অতীতের সকল রেকর্ড ভেঙে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক আসনে জয়ী হয়ে জাতীয় সংসদে প্রধান বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করছে। এই জোটের শরিক হিসেবে এনসিপিও বিরোধী দলে রয়েছে।
সব মিলিয়ে ঈদের আনন্দের আবহে তৃণমূল পর্যায়ে এখন পুরোদমে স্থানীয় নির্বাচনের লড়াইয়ের প্রস্তুতি দেখা যাচ্ছে।


