এগিয়ে আসছে আরও বড় ভূমিকম্প!

এগিয়ে আসছে আরও বড় ভূমিকম্প!
প্রতীকী ছবি
Advertisement
Advertisement

বাংলাদেশে যে কোনো সময় প্রচণ্ড মাত্রার ভূমিকম্প হতে পারে। প্রায় এক দশক আগে থেকেই এমন আশংকা করে সতর্কবার্তা দিয়ে আসছেন ভূতত্ত্ববিদরা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ববিদ্যা বিভাগের সাবেক অধ্যাপক সৈয়দ হুমায়ুন আখতার ‘টাইমস অব বাংলাদেশ’কে জানান, এই অঞ্চলের ভূগর্ভে টেকটোনিক প্লেট ঘর্ষণের জায়গায় বিপুল পরিমাণ শক্তি সঞ্চয় হচ্ছে। এই শক্তি যে কোনো সময় বড় আকারের ভূমিকম্প হিসাবে বের হয়ে আসতে পারে। ভূতত্ত্ববিদরা ২০১৬ সাল থেকে একথা বলে আসছেন।

তিনি ব্যাখ্যা করে জানান, যখন একটি টেকটোনিক প্লেট আরেকটি টেকটোনিক প্লেটের নিচ থেকে সরে যায় তখন এই ঘর্ষণ হয়। যখন ক্রমাগত এই ঘর্ষণ হতে থাকে, তখন অনেক সময় টেকটোনিক প্লেটে জট লেগে যায়, যা বছরের পর বছর ধরে প্রচণ্ড চাপ তৈরি করে। যখন এই চাপ সহনীয় অবস্থার বাইরে চলে যায়, তখনই সেটি ব্যাপক ভূমিকম্প আকারে বের হয়ে আসে।

অধ্যাপক সৈয়দ হুমায়ুন আখতার বলেন, ভূগর্ভের ইন্ডিয়ান টেকটোনিক প্লেট ও বার্মিজ টেকটোনিক  প্লেটের মধ্যে অনবরত ঘর্ষণ হচ্ছে। এই ইন্ডিয়ান প্লেট বাংলাদেশের সিলেটের পাহাড়ি এলাকা থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত বিস্তৃত। আর বাংলাদেশের এই অঞ্চলটি সক্রিয় ঘর্ষণ এলাকা।

আরও পড়ুন

তিনি আরও বলেন, মনোযোগ দিয়ে ভূমিকম্পের এলাকাগুলোর দিকে লক্ষ্য করলে আমাদের সামনে কী আছে তার একটি সতর্কবার্তা পাওয়া যায়। গত দু’দিনের ভূমিকম্প পরিষ্কারভাবে বুঝিয়ে দিচ্ছে, সামনে আরো অনেক বড় ভূমিকম্প আসছে।

ভূমিকম্প নিয়ে কাজ করেছেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের(বুয়েট) পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক মেহেদী আহমেদ আনসারী। তিনি ‘টাইম’কে বলেন, আগামী তিন-চারটি দিন খুব ভালভাবে পর্যক্ষবেক্ষণে রাখতে হবে। তাহলে গত দু’দিনে হয়ে যাওয়া ভূমিকম্পগুলো আগামীতে অনেক বড় কোনো ভূমিকম্পের অগ্রবর্তী ভূমিকম্প কিনা সেটি বোঝা যাবে।

তিনি বলেন, ভূমিকম্প নিয়ে নানা রকম তাত্ত্বিক ব্যাখ্যা রয়েছে। এর একটি হচ্ছে ছোট ছোট ভূমিকম্প পরবর্তী বড় ভূমিকম্পেরই প্রাথমিক ধাপ। ইতিহাস পর্যালোচনায় দেখা যায়, প্রতি একশ’ থেকে দেড়শ’ বছরের মধ্যে প্রচণ্ড মাত্রার ভূমিকম্প হয়। বাংলাদেশ অঞ্চলে ১৯৩০ সালের পর  গত প্রায় একশ’ বছরে কোন বড় ভূমিকম্প হয়নি। তাই, গত দু’দিনের মত আরো ছোট বা মাঝারি ভূমিকম্প হলে এর পর বড় ভূমিকম্পের সম্ভাবনা থাকে।

বাংলাদেশে গত দু’দিন ভূমিকম্প হয়েছে চারটি। এরমধ্যে ২১ নভেম্বর শুক্রবারের ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল পাঁচ দশমিক সাত। আর ২২ নভেম্বর শনিবার সকালে তিন দশমিক তিন এবং বিকালে এক সেকেন্ডের ব্যবধানে প্রথমে তিন দশমিক সাত ও চার দশমিক তিন মাত্রার ভূমিকম্প হয়।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad