রাজধানীর উত্তরা দিয়াবাড়িতে মাইলস্টোন স্কুলে যুদ্ধবিমান বিধ্বস্তে সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী নাজিয়া (১১) মারা গেছে। তার ছোট ভাই নাফি (৭) জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে জীবন মৃত্যুর সন্দিক্ষণে। নাফি ওই স্কুলেরই তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র। তাদের বাবা আশরাফুল ইসলাম নিরব উত্তরা কামারপাড়া রাজাবাড়ি এলাকায় বাড়ি করে পরিবার নিয়ে থাকতেন।
মঙ্গলবার দুপুরে জোহরের নামাজের পর রাজাবাড়ি এলাকায় নাজিয়ার জানাজা শেষে দাফন সম্পন্ন হয়েছে। সোমবার মাঝরাতে হাসপাতালে মারা যায় নাজিয়া।
নাজিয়া-নাফির বাসায় মঙ্গলবার দুপুরে গিয়ে দেখা যায়, বাবা-মা কাঁদছেন। কাঁদছে গোটা পরিবার। শোকে মুহ্যমান গোটা এলাকা। বাড়িতে পাড়া-প্রতিবেশী ও স্বজনদের ভিড়।
একমাত্র মেয়েকে হারিয়েছেন আর ছেলে হাসপাতালে মৃত্যু শয্যায়। কোনো সান্ত্বনার বাণীই কানে যাচ্ছে না নিরব-তাহমিনা দম্পতির। বারবার মুর্ছা যাচ্ছেন তাহমিনা আক্তার। আহাজারি করে নিরব বলছেন, ‘আমিই তো ওদের স্কুলে রেখে এসেছিলাম। আমার সব শেষ হয়ে গেছে। আমি কী নিয়ে বাঁচব।’
নিরবের বাড়ি ভোলা জেলার দৌলতখান উপজেলায়। সন্তান হারিয়ে বাকরুদ্ধ তিনি। তার বাল্যবন্ধু মিজানুর রহমান জানান, গত বছর সেনাবাহিনীর সার্জেন্ট পদ থেকে অবসর নিয়ে রাজাবাড়িতে বাড়ি করেন নিরব। তিনি ব্যবসা করতেন। দুই সন্তান নিয়ে তাদের ছিল সুখের সংসার। এক বুক স্বপ্ন নিয়ে দুই সন্তানকে ঢাকার নাম করা এই স্কুলে ভর্তি করান। বিমান দুর্ঘটনায় তাদের সব স্বপ্ন শেষ হয়ে গেছে।
মিজান বলেন, ‘অন্য দিনের মতো সোমবার সকালে নিরব তার দুই সন্তানকে স্কুলে দিয়ে আসেন। ছুটির পর দুপুরে আনতে যান। সোমবার দুপুরে সন্তানদের আনতে স্কুলের উদ্দেশে বের হন তিনি। কাছাকাছি যেতেই বিকট শব্দ শুনতে পান। পরক্ষণেই স্কুলে বিমান বিধ্বস্তের কথা শুনতে পান। স্ত্রীকে মোবাইল ফোনে দুর্ঘটনার খবর জানিয়ে পাগলের মতো দৌড়ে ছুটে যান স্কুলের সামনে। ভেতরে কালো ধোঁয়া ও দাউদাউ আগুন দেখতে পান। স্থানীয়রা উদ্ধারে নেমে পড়েন। পরক্ষণেই ছুটে আসে ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের গাড়ি। ততক্ষণে দুই সন্তানের মা তাহমিনা সেখানে ছুটে গিয়ে বিলোপ করতে থাকেন।
দুপুরে স্কুল থেকে যখন একে একে পোড়া দেহগুলো বের করা হয় তাদের মধ্যে সহোদর ভাইবোন, নাজিয়া-নাফি ছিল। সন্তানের পোড়া মুখ দেখে দিশেহারা হয়ে পড়েন নিরব। অ্যাম্বুলেন্সে সন্তানদের সঙ্গে তারা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে যান। সোমবার রাত সাড়ে তিনটায় নাফিসাকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক। নাফির দেহে এখনো প্রাণ আছে। স্বজনেরা আছেন হাসপাতালে।
এখন পর্যন্ত মাইলস্টোন ট্র্যাজেডিতে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩১ জন। এ ঘটনায় আহত হয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে এখনো চিকিৎসা নিচ্ছেন ১৬৫ জন।


