এক দশক ধরে নানা জটিলতায় আটকে থাকা ‘সাপোর্টিং ইনফ্রাস্ট্রাকচার প্রজেক্ট ফর চাইনিজ ইকোনমিক জোন’ শীর্ষক প্রকল্পটি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদন পায়নি।
মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত একনেক সভায় প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হলেও এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, চলতি মাসে প্রধানমন্ত্রীর নির্ধারিত চীন সফরের আগে প্রকল্পটি অনুমোদনের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে প্রত্যাশা ছিল। তবে সভায় প্রকল্পটি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়নি। এর বিভিন্ন দিক নিয়ে চীনের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আরও আলোচনা করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। আলোচনা শেষে প্রয়োজনীয় সমঝোতা ও পর্যালোচনার ভিত্তিতে প্রকল্পটি পুনরায় একনেকে উপস্থাপন করা হতে পারে।
পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর পূর্ব তীরে আনোয়ারা উপজেলার বেলচূড়া এলাকায় প্রায় ৮০০ একর জমির ওপর অর্থনৈতিক ও শিল্পাঞ্চলটি গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। বঙ্গবন্ধু টানেলের কাছাকাছি অবস্থানের কারণে এলাকাটি ভৌগোলিক ও বাণিজ্যিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে।
প্রকল্পটির মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৪ হাজার ১৮৯ কোটি টাকা। এর মধ্যে ২ হাজার ৪৬৭ কোটি টাকা চীনা ঋণ সহায়তা হিসেবে পাওয়ার কথা রয়েছে। অবশিষ্ট অর্থ সরকারি তহবিল থেকে জোগান দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০১৬ সালে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের ঢাকা সফরের সময় এ অর্থনৈতিক অঞ্চলের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। তবে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের অনাগ্রহ থাকার কারণে ডিপিপি অনুমোদনে বিলম্ব, ডেভেলপার পরিবর্তন, অর্থায়ন জটিলতা এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক কারণে দীর্ঘদিন প্রকল্পটির অগ্রগতি স্থবির ছিল। সর্বশেষ একনেকে অনুমোদন না পাওয়ায় প্রকল্পটির বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া আরও পিছিয়ে গেল।
মঙ্গলবারের একনেক সভায় এই প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া না হলেও ৩ হাজার ৮৯০ কোটি ৯৭ লাখ টাকা ব্যয় সম্বলিত ১০টি প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে। এর মধ্যে নতুন প্রকল্প ৫টি ও সংশোধিত প্রকল্প ৩টি এবং মেয়াদ বৃদ্ধি প্রকল্প ২টি।
এসব প্রকল্পে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন ৩ হাজার ৮১০ কোটি ৬২ লাখ টাকা এবং সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন ৮০ কোটি ৩৫ লাখ টাকা।
সভায় অনুমোদন পাওয়া ১০টি প্রকল্প হলো: পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের ‘বরিশাল সেচ প্রকল্পের রক্ষণাবেক্ষণ ও পুনর্বাসন (১ম পর্যায়)’ প্রকল্প। ভূমি মন্ত্রণালয়ের ‘সমন্বিত উপজেলা ভূমি কমপ্লেক্স নির্মাণ’ প্রকল্প। পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের ‘ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের নগর ভবন নির্মাণ’ প্রকল্প। সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের ‘আনোয়ারা-বাঁশখালী-টইটং-পেকুয়া-বদরখালী-চকরিয়া (ঈদমনি) (আর-১৭০) আঞ্চলিক মহাসড়ক (কালাবিবির দিঘী থেকে ঈদমনি) যথাযথমান ও প্রশস্ততায় উন্নীতকরণ)’ প্রকল্প।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ‘বাংলাদেশের ৩৩টি জেলায় সার্কিট হাউজ এবং জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, ঠাকুরগাঁও এ লিফট সংযোজন’ প্রকল্প। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ‘বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট সম্প্রসারণ প্রকল্প-২’ প্রকল্প। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের ‘ঢাকা সিএমএইচ এ ক্যান্সার সেন্টার নির্মাণ (২য় পর্যায়) (১ম সংশোধন)’ প্রকল্প। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ‘মাদ্রাসা এডুকেশন ম্যানেজমেন্ট এন্ড ইনফরমেশন সিস্টেম (এমইএমআইএস) সাপোর্ট (৩য় সংশোধন)’ প্রকল্প এবং ‘দেশের ৬৫৩টি মাদ্রাসায় মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম স্থাপন (৩য় সংশোধিত)’ প্রকল্প। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের ‘বিদ্যমান গ্রিড উপকেন্দ্র ও সঞ্চালন লাইনের ক্ষমতাবর্ধন (১ম সংশোধিত’।


