ঋণখেলাপি, দ্বৈত নাগরিকত্ব বা অন্য কোনো বিষয়ে তথ্য গোপন করে কেউ সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলেও পার পাবে না বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার (ইসি) আব্দুর রহমানেল মাছউদ। তিনি বলেন, তথ্য গোপনের প্রমাণ মিললে ভোটের পরেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সোমবার দুপুরে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
ইসি মাছউদ বলেন, ‘নির্বাচনের সময় ঋণখেলাপির অভিযুক্তরা ব্যাংকের সঙ্গে যোগাযোগ করে ঋণ রিশিডিউল করেন। রিশিডিউল অনুযায়ী তিনি বৈধতা পান, কিন্তু রিশিডিউলের পর আর কোনো টাকা দেন না। এ বিষয়ে বাংলাদেশ সংবিধানের ৬৬ (৪) ধারায় বলা হয়েছে, নির্বাচনের পরে যদি এমন অযোগ্যতা দেখা যায়, তাহলে বিষয়টি নির্বাচন কমিশনের কাছে পাঠানো হবে এবং কমিশন সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে। কিন্তু অনেক সময় বিষয়টি সংসদে পাঠানো হয় না। ফলে ঋণখেলাপি থেকেই যায়।’
তিনি বলেন, ‘এই ব্যবস্থাটি জাতির জন্য শুভ নয়। এ জন্য আরপিওতে নতুন করে যুক্ত করা হয়েছে—ঋণখেলাপি বা অন্য কোনো অযোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও কেউ যদি নির্বাচনে জয়ী হয়, তাহলে নির্বাচনের পর নির্বাচন কমিশন স্বউদ্যোগে অথবা কোনো সংবাদের ভিত্তিতে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারবে।’
দ্বৈত নাগরিকত্ব প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘দ্বৈত নাগরিকত্ব সংক্রান্ত ভুল তথ্য দেওয়া হলেও তাদের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশন ব্যবস্থা নেবে। তাদের সংসদ সদস্যপদ বাতিল হয়ে যাবে।’
সরকারের কোনো অসহযোগিতা বা রাজনৈতিক কোনো দলের চাপ রয়েছে কি না—এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘না, কোনো চাপ পাইনি। আমরা অত্যন্ত স্বাধীনভাবে আমাদের সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করছি। লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করার জন্য অনেক বড় দলের একজন চেয়ারম্যান অনেকদিন পরে বিদেশ থেকে এসেছেন। বাড়িতে যাওয়া তার মৌলিক অধিকার। আমরা কারও চলাচল সীমিত করতে পারি না। তিনি কবর জিয়ারত করতে যাবেন, সেটিও আমরা থামাতে পারি না। তবে নির্বাচনের সমতা রক্ষার জন্য কমিশনের পক্ষ থেকে অনুরোধ করা হয়েছিল, যেন তিনি ২১ তারিখের পর এই কর্মসূচি করেন। এটি আমাদের জন্য একটি ভালো বার্তা। রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে একটি পরিবর্তন আসছে। তারা সঙ্গে সঙ্গে বিষয়টি মেনে নিয়েছেন। আমরা মনে করি, ভোটের সংস্কৃতিতে একটি পরিবর্তন আসছে।’
তিনি বলেন, ‘জামায়াতে ইসলামীর আমির সব পোস্টার সরিয়ে ফেলার আহ্বান জানিয়েছিলেন এবং তারা পোস্টারগুলো সরিয়েও ফেলেছেন। এই দুটোই আমাদের জন্য ইতিবাচক দিক। দুই দলকেই নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে সাধুবাদ জানাই। তারা আমাদের পূর্ণ সহযোগিতা করছেন। তাদের সহযোগিতায় ভালো নির্বাচন করতে পারব বলেই আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি।’
ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে আসার আহ্বান জানিয়ে ইসি মাছউদ বলেন, ‘আপনারা দয়া করে ভোটকেন্দ্রে আসবেন। ভোট দিয়ে আপনার পছন্দের প্রার্থীকে নির্বাচিত করবেন। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও ভোটের পরিবেশ খুব ভালো হয়েছে। প্রায় দেড় মাস আগে তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে। এ সময়ের মধ্যে খুব বড় কোনো ঘটনা ঘটেনি।’
বিগত দিনের বিবেচনায় ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে আনা কতটা চ্যালেঞ্জ—এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘ভোটাররা ভোট দিতে আসবেন বলেই আমি বিশ্বাস করি। দীর্ঘদিন ধরে ভোটের প্রতি মানুষের অনীহা রয়েছে। হয়তো কিছুটা সময় লাগবে।’
জাতীয় পার্টিকে নির্বাচনের বাইরে রাখার দাবিতে বিভিন্ন দল ও সংগঠনের আবেদন ও আন্দোলনের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘নিবন্ধিত সব রাজনৈতিক দলের জন্য আমরা সমান সুযোগ সৃষ্টি করেছি। তাদের নির্বাচনে অংশ নিতে কোনো আইনি বাধা নেই।’
জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ফলাফল একসঙ্গে গণনা ও প্রকাশ করা হবে—এতে ফল প্রকাশে দেরি বা বিশৃঙ্খলার আশঙ্কা আছে কি না, এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘না, আমি তা বিশ্বাস করি না। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে একই দিনে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, সদস্য এবং সংরক্ষিত মহিলা আসনের ভোট হয়। তিনটি ভোট আলাদাভাবে গণনা করা সম্ভব হলে এখানে কেন সম্ভব হবে না?’
তফসিল ঘোষণার পর নির্বাচন কমিশন একাধিকবার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেছে—এতে কমিশনের কার্যক্রম প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘মোটেই প্রশ্নবিদ্ধ নয়। প্রয়োজনের তাগিদে আইন পরিবর্তন করা হয়। সুষ্ঠু ও সুন্দর নির্বাচনের স্বার্থেই এসব পরিবর্তন আনা হয়েছে। এতে নির্বাচন কোনোভাবেই বাধাগ্রস্ত হবে না, বরং নির্বাচন পরিচালনা আরও সহজ হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘যারা আচরণবিধি ভঙ্গ করছেন, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’


