ঢাকার উত্তরার দুইটি বার এবং টঙ্গীর একটি হোটেলে চাঁদা ও বিনামূল্যে মদ পানের দাবিতে সশস্ত্র হামলা চালিয়েছে স্থানীয় একটি চক্র, যাদেরকে ‘কিশোর গ্যাং’ বলা হলেও পুলিশের দাবি তারা প্রাপ্তবয়স্ক।
শুক্রবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে উত্তরার প্যারাডাইস টাওয়ারের ‘মার্গারিটা বার’, বিএনএস সেন্টারের ‘ক্যাম্পফায়ার বার’ এবং টঙ্গীর ‘জাভান হোটেলে’ এই হামলার ঘটনা ঘটে।
হামলায় দুই বারের অন্তত ৬ জন নিরাপত্তাকর্মী ও কর্মচারী আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে একজনের অবস্থা গুরুতর।
স্থানীয় সূত্র জানান, দীর্ঘদিন ধরে ‘ছোট সানি’ ও ‘সোহেল’ গ্রুপের সদস্যরা উত্তরার এই কমার্শিয়াল বিল্ডিংগুলোতে চাঁদা দাবি এবং বিনামূল্যে মদ সরবরাহ করার জন্য হুমকি দিয়ে আসছিল। দাবি পূরণ না হওয়ায় শুক্রবার ভোরে ছোট সানির নেতৃত্বে ২০-৩০ জনের একটি সশস্ত্র দল প্রথমে উত্তরার প্যারাডাইস টাওয়ারে প্রবেশের চেষ্টা করে।
নিরাপত্তাকর্মীরা বাধা দিলে হামলাকারীরা দেশীয় অস্ত্র (চাপাতি, ছুরি, ক্ষুর) নিয়ে তাদের ওপর চড়াও হয়। এতে মার্গারিটা বারের ৩-৪ জন নিরাপত্তাকর্মী গুরুতর আহত হন। এদের মধ্যে শামীম নামের এক কর্মীর হাতের চারটি রগ কেটে গেছে এবং তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এছাড়াও সাদ্দাম, মাসুদ, হেকিমসহ বেশ কয়েকজনের মাথায় ও হাতে সেলাই লেগেছে।
মার্গারিটা বারে হামলার পর দলটি বিএনএস সেন্টারে অবস্থিত ‘ক্যাম্পফায়ার বারে’ হামলা চালায়। সেখানেও বাধা পেয়ে তারা অন্তত ৫ জন নিরাপত্তাকর্মীকে কুপিয়ে জখম করে।
উত্তরায় তাণ্ডব চালানোর পর দলটি টঙ্গীর আমতলী এলাকায় কানকুন গ্রুপের মালিকানাধীন ‘জাভান হোটেল অ্যান্ড বারে’ হামলা চালাতে যায়। হোটেল বন্ধের সময় তারা জোরপূর্বক প্রবেশের চেষ্টা করলে নিরাপত্তাকর্মীদের সঙ্গে তর্ক হয়। এরপর তারা টঙ্গীর আরেক গ্রুপকে ডেকে এনে হোটেলের সামনে হামলা চালায় এবং বেশ কয়েকটি ককটেলসদৃশ বস্তুর বিস্ফোরণ ঘটায়। পরে নিরাপত্তাকর্মী ও স্থানীয়দের প্রতিরোধের মুখে হামলাকারীরা পিছু হটে।
হামলায় জাভান হোটেলের নিরাপত্তাকর্মী, কর্মচারী ও এক এলাকাবাসী আহত হন। পাল্টা প্রতিরোধে ঢাকার উত্তরার গ্যাং লিডার সানি এবং টঙ্গীর গ্যাং লিডার ভাদাইম্মা সবুজ ও তার সহযোগী জাকিরও আহত হন। হামলায় ব্যর্থ হয়ে ছোট সানি জাভান হোটেলের মালিক সায়মন খানকে মুঠোফোনে প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
হামলায় সানি, সোহেল, শাওন, কামাল, মুন, সাইফুল, নাজমুল, রনি, আরাফাত, ফারুক, রোমান, শান্ত, বড় শান্ত, অনিক, রাকিবসহ অজ্ঞাত আরও ২০-৩০ জন অংশ নেয় বলে জানা গেছে।
উত্তরা পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ খালিদ মনসুর টাইমসকে বলেন, ‘হামলায় জড়িতদের “কিশোর গ্যাং” বলার সুযোগ নেই, কারণ তাদের সবার বয়স ২০ থেকে ২৫ বছরের মধ্যে। তারা মূলত বিনামূল্যে মদ পানের জন্য বারগুলোতে চাপ সৃষ্টি করত। বার কর্তৃপক্ষ রাজি না হওয়ায় এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।’
ওসি আরও জানান, হামলাকারীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করছে এবং সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করা হচ্ছে। বার কর্তৃপক্ষের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। টঙ্গী পূর্ব থানা পুলিশও জাভান হোটেলে হামলার ঘটনা তদন্ত করছে।


