জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে ঈদুল আজহার প্রধান জামাত সকাল সাড়ে ৭টায় মিনিটে অনুষ্ঠিত হবে। বুধবার সকালে জাতীয় ঈদগাহে ঈদের প্রধান জামাতের প্রস্তুতি পরিদর্শন শেষে উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মীদের এ তথ্য জানান স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
এ সময় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক মো. আবদুস সালাম উপস্থিত ছিলেন।
জাতীয় ঈদগাহের প্রস্তুতি পরিদর্শনে জানানো হয়, এবার ঈদগাহে ১২১টি কাতারে প্রায় ৩৫ হাজার মুসল্লি একসঙ্গে নামাজ আদায় করতে পারবেন। নারীদের জন্য রাখা হয়েছে আলাদা প্রবেশপথ, ওযুখানা ও নামাজের বিশেষ ব্যবস্থা।
মুসল্লিদের স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করতে পুরো প্যান্ডেলে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, পর্যাপ্ত ফ্যান, অজুখানা, বিশুদ্ধ পানি, ভ্রাম্যমাণ টয়লেট এবং প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করা হয়েছে। পাশাপাশি নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে প্রয়োজনীয় সমন্বয় সম্পন্ন হয়েছে।

কোরবানির বর্জ্য সরবে ৮ ঘণ্টায়
জাতীয় ঈদগাহ পরিদর্শন শেষে ডিএসসিসির নান্দনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবে বুয়েট সংলগ্ন পলাশী অন্তর্বর্তীকালীন বর্জ্য স্থানান্তর কেন্দ্রের (এসটিএস) সৌন্দর্যবর্ধন কাজের উদ্বোধন করেন প্রতিমন্ত্রী ও ডিএসসিসি প্রশাসক।
এই এসটিএস-এর দেয়ালে লালবাগ কেল্লা ও আহসান মঞ্জিলের মতো ঐতিহাসিক স্থাপনার দৃষ্টিনন্দন গ্রাফিতি অঙ্কন করে এলাকাটির সৌন্দর্য বহুগুণ বাড়িয়ে তোলা হয়েছে, যার ভূয়সী প্রশংসা করেন প্রতিমন্ত্রী।
এরপর ডিএসসিসির নগর ভবনে কোরবানি বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত এক বিশেষ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী এবং সভাপতিত্ব করেন ডিএসসিসি প্রশাসক।
সভায় জানানো হয়, কোরবানির বর্জ্য দ্রুত অপসারণের লক্ষ্যে ডিএসসিসি একটি সুসংগঠিত কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। ঈদের দিন দুপুর দেড়টায় কলাবাগান এসটিএস থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে মাতুয়াইল ল্যান্ডফিলে বর্জ্য পরিবহন শুরু হবে। লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, প্রথম দিনের বর্জ্য পরবর্তী ৮ ঘণ্টার মধ্যে অর্থাৎ রাত সাড়ে ৯টার মধ্যেই সম্পূর্ণ অপসারণ করা হবে।
ঈদুল আজহার ৩ দিনে ঢাকা দক্ষিণে মোট ৩৩ হাজার ৯৪২ টন বর্জ্য উৎপন্ন হতে পারে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। এই বিশাল কর্মযজ্ঞ সম্পাদনে মোট ১৩ হাজার ৪৫৩ জন জনবল এবং ২ হজার ১১৭টি বিভিন্ন ধরণের যান-যন্ত্রপাতি যেমন ট্রাক, কম্প্যাক্টর ও পে-লোডার নিয়োজিত থাকবে।

সঠিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য ৭৫টি ওয়ার্ডে ৪৬ টন ব্লিচিং পাউডার, ২১০ গ্যালন স্যাভলন এবং ১ লাখ ৪০ হাজার বায়োডিগ্রেডেবল বা পচনশীল ব্যাগ বিতরণ করা হচ্ছে বলেও জানানো হয়।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সামগ্রিক প্রস্তুতি পরিদর্শন করে গভীর সন্তোষ প্রকাশ করেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, রাজনৈতিক প্রশাসক নিয়োগ ছিলো প্রধানমন্ত্রীর দূরদর্শী সিদ্ধান্ত। সিটি করপোরেশনগুলোতে দলীয় প্রশাসক নিয়োগদানের ফলে নাগরিক সেবা যে বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে তার অন্যতম উদাহরণ ডিএসসিসি।
বর্জ্য ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়ন, মশক নিয়ন্ত্রণ ও সবুজায়নের ক্ষেত্রে ডিএসসিসি পূর্বের চেয়ে অনেক বেশি অগ্রগতি অর্জন করেছে, যোগ করেন তিনি।
পরিদর্শন ও মতবিনিময় সভায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


