ভারতের পর এবার পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে আত্মঘাতী বোমা হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন। আইনজীবীসহ আহত হয়েছেন অন্তত ২৭ জন।
ইসলামাবাদের এক জেষ্ঠ্য পুলিশ কর্মকর্তার বরাতে সংবাদমাধ্যম ডনের খবরে বলা হয়, মঙ্গলবার দুপুর ১টার দিকে জি-ইলেভেন এলাকার জেলা ও সেশন আদালত ভবনের বাইরে ওই আত্মঘাতী হামলা চালানো হয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, আদালতের বাইরে একটি নিরাপত্তা ব্যারিকেডের পেছনে বিস্ফোরণের শিকার একাধিক গাড়ি থেকে আগুন ও ধোঁয়ার কুণ্ডলী উঠছে।
জিও নিউজের খবরে বলা হয়, নিরাপত্তারক্ষীরা জানান, সন্দেহভাজন ওই হামলাকারী ১০ থেকে ১৫ মিনিট ধরে আদালতের ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করছিলেন। এতে ব্যর্থ হয়ে তিনি একটি পুলিশের গাড়িকে লক্ষ্যবস্তু করেন। আদালত প্রাঙ্গণে পুলিশের গাড়িটি প্রবেশের সঙ্গে সঙ্গে বিস্ফোরণ ঘটান ওই হামলাকারী।
আদালতের আইনজীবী রুস্তম মালিক ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি-কে বলেন, ‘আমি যখন গাড়ি পার্ক করে কমপ্লেক্সে ঢুকছিলাম, তখনই গেটের পাশে এক প্রচণ্ড বিস্ফোরণের শব্দ শুনতে পাই। সঙ্গে সঙ্গে চারপাশে বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে পড়ে। আইনজীবী ও সাধারণ মানুষ প্রাণ বাঁচাতে দিগ্বিদিক ছুটতে থাকেন। আমি গেটের পাশেই দুজনের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেছি।’
পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারি ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রী খাজা আসিফ ওই হামলাকে ‘আত্মঘাতী’ হিসেবে উল্লেখ করে তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।
এক এক্স পোস্টে প্রেসিডেন্ট জারদারি নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর শোক প্রকাশ করেছেন ও আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেছেন। সরকারের পক্ষ থেকে আহতদের সুচিকিৎসার সম্পূর্ণ দায়িত্ব নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি। এ ঘটনায় অন্য কোনো দেশের সন্ত্রাসীগোষ্ঠী জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ারও হুঁশিয়ারি দেন পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রী খাজা আসিফও ঘটনাটিকে ‘সতর্কতা’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা যুদ্ধাবস্থায় আছি। কেউ যদি মনে করেন, পাকিস্তান সেনাবাহিনী কেবল আফগান-পাকিস্তান সীমান্ত অঞ্চলে বা বেলুচিস্তানের দুর্গম এলাকায় এই যুদ্ধ লড়ছে তাহলে আপনারা ভুল ভাবছেন। ইসলামাবাদে জেলা আদালতের সামনে আজকের আত্মঘাতী হামলা তাদের জন্য সেই বার্তা- আমাদের সেনারা সব জায়গায় লড়াই করছে।’
এমন পরিস্থতিতে আফগানিস্তানের তালেবান সরকারের সঙ্গে সফল ‘শান্তি আলোচনার’ আশায় থাকা অর্থহীন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সিন্ধু প্রদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জিয়াউল হাসান লানজারও ইসলামাবাদের এই ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়ে নিহত পরিবারের প্রতি গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, ‘আত্মঘাতী হামলাকারী ও সন্ত্রাসীদের কোনো ধর্ম নেই, তারা মানবতার শত্রু।’
সিন্ধু পুলিশকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘প্রদেশের প্রবেশ ও প্রস্থান পথ, গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়ক, রাস্তা এবং বিকল্প সড়কে তল্লাশি ও নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি অপরাধপ্রবণ এলাকায় গোয়েন্দা কার্যক্রমের পরিধিও বাড়ানো হয়েছে।’


