সব রাজনৈতিক দলের নির্বাচনী ইশতেহারেই অনেক প্রতিশ্রুতি বেশ আকর্ষণীয়। তবে এই অঙ্গীকারগুলো বাস্তবায়নের জন্য অর্থায়ন কোথা থেকে আসবে, কোনগুলো অগ্রাধিকার পাবে, পরিস্থিতি চ্যালেঞ্জিং হলে কোন অঙ্গীকারগুলো বাস্তবায়িত হবে- এসব বিষয়ে কোনো সুস্পষ্ট রূপরেখা নেই বলে মনে করেন সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার।
রাজধানী ঢাকার প্রেসক্লাবে সোমবার সুজন আয়োজিত ‘কোন দলের কেমন ইশতেহার’ শিরোনামে সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘দেখতে সুন্দর হলেই হবে না, বাস্তবায়নই আসল। সবকিছুই যেন “আমরা যা যা করব”- এমন একটি তালিকা মাত্র।’
‘যেহেতু ইশতেহারগুলোতে অনেক প্রতিশ্রুতি আছে এবং সেগুলোর অগ্রাধিকার ও বাস্তবায়ন কৌশল কেউ স্পষ্ট করছে না নয়, সেহেতু জনগণের কাছে এসব প্রতিশ্রুতির বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন বদিউল আলম।
তিনি বলেন, ‘নির্বাচন একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক দলিল, যার বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা জরুরি। কেবল ইশতেহার প্রকাশ করাই যথেষ্ট নয়। সেগুলো বাস্তবে কতটা কার্যকর হচ্ছে, তা পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন।’
‘রাজনৈতিক দলগুলোর অঙ্গীকার রক্ষার বিষয়ে অতীত অভিজ্ঞতা আশাব্যঞ্জক নয়’ উল্লেখ করে সুজনের সম্পাদক বলেন, ‘বিশেষ করে নারীর রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রে বড় দলগুলোর প্রতিশ্রুতি বাস্তবে পূরণ হয়নি। ঘোষিত সংখ্যার তুলনায় অনেক কম নারী প্রার্থীকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে, আবার কিছু দল একজন নারী প্রার্থীও দেয়নি।’
‘ইশতেহারকে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে জনগণের একটি লিখিত অঙ্গীকার হিসেবে দেখা উচিত। এই অঙ্গীকার বাস্তবায়নের দায় দলগুলোর এবং তা পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়নের অধিকার জনগণের’, যোগ করেন তিনি।
সাধারণত রাজনৈতিক দলগুলো ক্ষমতায় আসার পর ১০০ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করে। সে কথা মাথায় রেখে নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের ৬০ দিন কিংবা ১০০ দিন পার হওয়ার পর তাদের প্রতিশ্রুতিসমূহের বিষয়ে সুজন আবার মূল্যায়ন করবে বলেও সংবাদ সম্মেলনে জানান বদিউল আলম মজুমদার।


