ইসরায়েলি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর ইরানের আকাশসীমা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক বিমান চলাচলে বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা দিয়েছে।
ইসরায়েলের হামলার পর শুক্রবার সকাল থেকেই ইরান, ইরাক ও ইসরায়েলের আকাশসীমা ফাঁকা হয়ে পড়ে। ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্ম ‘ফ্লাইট রাডার টোয়েন্টিফোর’ জানায়, বেশিরভাগ বিমান ওই অঞ্চলের আকাশ এড়িয়ে চলতে শুরু করেছে।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের এক কর্মকর্তা টাইমস অব বাংলাদেশকে জানান, মধ্যপ্রাচ্যগামী সব ফ্লাইটকে ইরান ও ইসরায়েলের আকাশ এড়িয়ে চলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ফ্লাইট রুট পুনর্নিধারণের কারণে গন্তব্যে পৌঁছাতে দেরি হতে পারে বলে জানান তিনি।
ভারতের বিমান সংস্থাগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। পাকিস্তানের আকাশসীমা আগেই ভারতীয় ফ্লাইটের জন্য বন্ধ ছিল, এখন ইরানও বন্ধ হওয়ায় সংকট আরও বেড়েছে।
দ্য হিন্দুস্তান টাইমস জানায়, শুক্রবার একদিনেই এয়ার ইন্ডিয়ার অন্তত ১৫টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ঘুরিয়ে দেওয়া হয়। এরমধ্যে মুম্বাই থেকে লন্ডনগামী এআইসিআই-২৯ ফ্লাইটটি মাঝপথ থেকে ফেরত এসেছে।
দিল্লি বিমানবন্দর জানিয়েছে, ফ্লাইট চলাচল স্বাভাবিক থাকলেও আকাশসীমা পরিস্থিতির কারণে কিছু শিডিউলে প্রভাব পড়েছে।
এদিকে, ইরানে অবস্থানরত ভারতীয়দের জন্য সতর্কতা জারি করেছে তেহরানের ভারতীয় দূতাবাস। তাদের অপ্রয়োজনীয় চলাচল পরিহার ও স্থানীয় নির্দেশনা মানার আহ্বান জানানো হয়েছে।
ইসরায়েলের বেন গুরিয়ন বিমানবন্দর সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার পাশাপাশি দেশটির বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা রয়েছে সর্বোচ্চ সতর্কতায়। ইসরায়েলের জাতীয় বিমান সংস্থা এল আল ফ্লাইট চলাচল বন্ধ ঘোষণা করেছে।
ইরান জানিয়েছে, তারা অনির্দিষ্টকালের জন্য আকাশসীমা বন্ধ রেখেছে।
ইসরায়েলের দাবি, তারা ইরানের পারমাণবিক ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। এটি একটি দীর্ঘ সামরিক অভিযানের সূচনা বলে ইঙ্গিত দিয়েছে তারা।


