মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) আজমান শহরে বিস্ফোরণে বড়লেখার প্রবাসী সালেখ উদ্দিন ওরফে আহমদ আলী (৪৮) নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন স্বজনেরা। তাদের দাবি, ইরানের ছোড়া একটি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে তিনি প্রাণ হারান।
নিহত সালেখ উদ্দিন মৌলভীবাজারের বড়লেখা পৌরসভার গাজিটেকা (বাঁশতলা) গ্রামের মৃত সবর আলীর ছেলে। রোববার রাতে দেশে থাকা পরিবারের সদস্যরা তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেন।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে সালেখ উদ্দিন আমিরাতের আজমান শহরে বসবাস করছিলেন। সেখানে তিনি পানিবাহী গাড়ির চালক হিসেবে কাজ করতেন। শনিবার সন্ধ্যার দিকে কর্মরত অবস্থায় বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন বলে স্বজনদের ভাষ্য।
দেশে থাকা তার ছোট ভাইয়ের স্ত্রী শেলি বেগম মুঠোফোনে বলেন, ‘শনিবার রাত থেকেই নানা জনের কাছে মৃত্যুর খবর শুনছিলাম। কিন্তু নিশ্চিত হতে পারিনি। আজ দুপুরে ওখানে থাকা স্বজনরা হাসপাতালে গিয়ে মরদেহ দেখে নিশ্চিত করেছেন।’
কীভাবে ঘটনাটি ঘটেছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমরা শুনেছি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে বিস্ফোরণ হয়েছে।’
সালেখ উদ্দিনের পরিবারে স্ত্রী, তিন ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। তার মৃত্যুর খবর গ্রামের বাড়িতে পৌঁছাতেই নেমে আসে শোকের ছায়া। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ। প্রতিবেশীরা জানান, পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন সালেখ। সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে এখন দুশ্চিন্তায় পড়েছেন স্বজনেরা।
বড়লেখা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান খান বলেন, আমিরাতের আজমানে বিস্ফোরণের ঘটনায় তার মৃত্যুর বিষয়টি তারা জেনেছেন। মরদেহ সেখানে সংরক্ষিত রয়েছে। চলমান পরিস্থিতির কারণে ফ্লাইট চলাচল স্বাভাবিক না থাকায় মরদেহ দেশে আনতে সময় লাগতে পারে। প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে লাশ দেশে আনার ব্যবস্থা করা হবে।


