যুদ্ধে ইরানের ৪০ লাখ মানুষ ঘরছাড়া
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলা যুদ্ধে ইরানে এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৯৩৭ জন মারা গেছে। সেই সঙ্গে ঘরছাড়া হয়েছে ৪০ লাখ মানুষ।
জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনার (ইউএনএইচসিআর) বলছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর থেকে ইরানের ভেতরে প্রায় ৩২ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।
ত্রাণ সংস্থাগুলো ও ইরানের প্রতিবেশী দেশগুলো একটি সম্ভাব্য বড় ধরনের শরণার্থী সংকটের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে।
সূত্র: আল জাজিরা

ইরানের পক্ষে যুদ্ধে নামতে প্রস্তুত ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতি
ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতি জানিয়েছে, তারা ইরানের পক্ষে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নামতে প্রস্তুত। প্রয়োজন হলে যেকোনো সময় যুদ্ধ শুরু করার সামরিক প্রস্তুতি রয়েছে বলেও জানিয়েছে গোষ্ঠীটি।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে হুতির একজন নেতা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, ‘আমরা সামরিকভাবে সম্পূর্ণ প্রস্তুত, সব ধরনের বিকল্পসহ প্রস্তুত আছি আমরা।’
তিনি আরও বলেন, ‘এখন পর্যন্ত ইরান ভালো করছে এবং শত্রুকে প্রতিদিন পরাজিত করছে। যদি এর বিপরীত কিছু ঘটে, আমরা বিষয়টি বুঝতে পারব।’
হুতির ওই নেতা জানান, তারা পুরো পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন এবং কখন এগিয়ে যাওয়ার উপযুক্ত সময় তা সহজে বুঝবেন।
হুতি গোষ্ঠী এ যুদ্ধে যুক্ত হলে একটি নতুন ফ্রন্ট খুলে যাবে। হুতিদের লক্ষ্য হবে ইয়েমেনের উপকূলের বাইরের বাব আল-মান্দেব প্রণালি, যা হয়ে সুয়েজ খালের দিকে সমুদ্রযান চলাচল করে।
এ ক্ষেত্রে হরমুজ প্রণালির পর আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ জলপথে ইরান নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পারে। এতে বৈশ্বিক জ্বালানি পরিস্থিতি আরও অস্থির হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এর আগেও হুতি গোষ্ঠী ওই জলপথে বিভিন্ন সময় ট্যাংক ও জাহাজে হামলা চালিয়েছে।
সূত্র: আল জাজিরা
৮০ বছরের মধ্যে বিশ্ব বাণিজ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ বিপর্যয়: ডব্লিউটিও
বৈশ্বিক বাণিজ্য ব্যবস্থা গত ৮০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার মহাপরিচালক এনগোজি ওকোনজো-ইওয়েল্লা।
ডব্লিউটিওর মন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন বলে জানিয়েছে আল জাজিরা।

এনগোজি ওকোনজো-ইওয়েল্লা বলেন, ‘আজকের বিশ্বে যে সমস্যাগুলো মোকাবিলা করছি, তার ব্যাপকতা আমরা অস্বীকার করতে পারি না।’
ইরানে চলমান মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার পর থেকে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ করে দিয়েছে তেহরান।
এই পথ দিয়ে বিশ্বজুড়ে জ্বালানির প্রায় ২০ শতাংশ সরবরাহ করা হয়ে থাকে। ফলে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে বৈশ্বিক বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।
‘বেশি দেরি হওয়ার আগে’ আলোচনা শুরু হোক, ট্রাম্পের হুমকি
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে আলোচনায় ফিরতে আবারও হুমকি দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি বলেন, ‘বেশি দেরি হওয়ার আগে যুদ্ধ বন্ধে আলোচনা শুরু করা উচিত।’
ট্রাম্পের এই মন্তব্য এমন সময়ে এল, যখন ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) নৌপ্রধান আলিরেজা তাংসিরিকে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি করেছে ইসরায়েল।
ট্রাম্প বলেন, ‘দেরি হয়ে যাওয়ার আগেই বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিতে হবে ইরানকে। কারণ একবার এটি ঘটলে ফেরার কোনো পথ থাকবে না এবং এটি ভালো দেখাবে না।’
তিনি আরও দাবি করেন, ইরান ‘সামরিকভাবে ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়েছে’ এবং সেখান থেকে ফেরার কোনো সুযোগ নেই।
সূত্র: এএফপি
যুক্তরাষ্ট্র-ইরানে মধ্যস্থতায় আলাপ করছে পাকিস্তান, থাকছে তুরস্ক-মিশরও
চলমান যুদ্ধে মধ্যস্থতার চেষ্টার অংশ হিসেবে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদানের কথা জানিয়েছেন পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার।
তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ১৫টি প্রস্তাব তুলে ধরেছে, যা ইরান বিবেচনা করে দেখছে।
ইসহাক বলেন, তুরস্ক, মিশর ও আরও কিছু দেশও মধ্যস্থতার উদ্যোগে সহযোগিতার হাত বাড়াচ্ছে।
There has been unnecessary speculation in the media regarding peace talks to end ongoing conflict in the Middle East. In reality, US-Iran indirect talks are taking place through messages being relayed by Pakistan. In this context, the United States has shared 15 points, being…
— Ishaq Dar (@MIshaqDar50) March 26, 2026
ইরানে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১,৯৩৭
ইরানে মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১ হাজার ৯৩৭ জনে দাঁড়িয়েছে।
ইরানের উপস্বাস্থ্যমন্ত্রী আলী জাফারিয়ান আল জাজিরাকে জানিয়েছেন, যুদ্ধে এখন পর্যন্ত অন্তত ১ হাজার ৯৩৭ জন নিহত হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ২৪০ জন নারী এবং ২১২ জন শিশু।
উপস্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, যুদ্ধে এ পর্যন্ত ২৪ হাজার ৮০০-এরও বেশি মানুষ আহত হয়েছে। যার মধ্যে প্রায় ৪ হাজার নারী এবং ১ হাজার ৬২১টি শিশু রয়েছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। জবাবে ইসরায়েলে ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে থাকা মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইরান।
ইরানে টানা ২৭ দিন ইন্টারনেট বন্ধ: নেটব্লকস
সরকারের আরোপিত ডিজিটাল অবরোধে ইরানে টানা ২৭ দিন ধরে ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে বলে জানিয়েছে ইন্টারনেট পর্যবেক্ষণ সংস্থা নেটব্লকস। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে নেটব্লকস জানিয়েছে, ইরান গত ৬২৪ ঘণ্টা ধরে বিশ্বজুড়ে থাকা ইন্টারনেট থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।
বর্তমানে দেশটির ইন্টারনেট সংযোগের মাত্রা ১ শতাংশেরও নিচে নেমে এসেছে বলে জানানো হয়।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা শুরুর পর থেকে এই ইন্টারনেট বন্ধ রয়েছে।
⚠️ Update: #Iran‘s digital blackout has entered its 27th day after 624 hours of isolation from the global internet with connectivity levels at ~1%.
Rights monitors, independent media and the public are sidelined as access is granted only to those on a state-approved whitelist. pic.twitter.com/MU4XFn4AH1
— NetBlocks (@netblocks) March 26, 2026
আইআরজিসি নৌপ্রধানকে হত্যার দাবি ইসরায়েলের
মার্কিন-ইসরায়েলি যৌথ হামলায় ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) নৌবাহিনীর প্রধান আলিরেজা তাংসিরি নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে ইসরায়েল। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজের বিবৃতির বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে আল জাজিরা।
বিবৃতিতে ইসরায়েল কাৎজ বলেন, ইসরায়েলি বিমান বাহিনী সফলভাবে এই অভিযান পরিচালনা করেছে।
তবে এ দাবির বিষয়ে এখন পর্যন্ত ইরানের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

টাইমস অব ইসরায়েলের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের বন্দর শহর বন্দর আব্বাসে এই হামলা চালানো হয়। এতে তাংসিরির মৃত্যু হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।
২০১৮ সাল থেকে আইআরজিসি নৌবাহিনীর নেতৃত্বে ছিলেন তাংসিরি। সম্প্রতি হরমুজ প্রণালি বন্ধের পদক্ষেপে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। হরমুজ প্রণালি-সংক্রান্ত দায়িত্বেও তিনি ছিলেন। এ ছাড়া এর আগে একাধিক মার্কিন-ইসরায়েলি হামলা থেকে বেঁচে যাওয়া শীর্ষ কমান্ডারদের একজন ছিলেন তিনি।
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি আলোচনার আয়োজক হতে প্রস্তুত মিশর
ইরান-ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র মধ্যে চলমান যুদ্ধ বন্ধের সম্ভাবনায় যেকোনো বৈঠক আয়োজন করতে প্রস্তুত মিশর। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আবদেলাত্তি এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, যুদ্ধ পরিস্থিতি ও মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমাতে সহায়ক হলে মিশর যেকোনো সময় এ ধরনের উদ্যোগ নিতে আগ্রহী।
বদর আবদেলাত্তি জানান, মিশরের নেতারা এরইমধ্যে সব পক্ষের মধ্যে দূরত্ব কমাতে কাজ করছে এবং আশা করা হচ্ছে, ইরানের সঙ্গে শান্তি আলোচনা শুরু হলে উত্তেজনাও কমতে শুরু করবে।
তিনি আরও বলেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উদ্যোগকে মিশর সমর্থন করে। পাশাপাশি তুরস্ক, পাকিস্তান, চীন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে উত্তেজনা কমানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে কায়রো।
ইরান ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ১৫ দফা পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান করেছে-এমন খবরের পরও মিশর তাদের প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবে বলেও জানান তিনি। তার মতে, যুদ্ধের সমাধান সামরিক উপায়ে সম্ভব নয়, বরং সংলাপই একমাত্র পথ।
আলবেত্তি বলেন, ‘যুদ্ধ বন্ধে আলোচনার পথ খুলতে কায়রো সরাসরি ওয়াশিংটন ও তেহরানের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে। একই সঙ্গে তিনি জোর দিয়ে বলেন, উপসাগরীয় দেশগুলোর নিরাপত্তা আরব ও মিশরের জাতীয় নিরাপত্তার অবিচ্ছেদ্য অংশ।’
সুত্র: এবিসি নিউজ
নাগরিকদের দ্রুত ইরাক ছাড়ার নির্দেশ যুক্তরাষ্ট্রের

ইরাকে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের দ্রুত দেশ ত্যাগের নির্দেশ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস।
দূতাবাসের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত নতুন নিরাপত্তা সতর্কতায় বলা হয়েছে, ইরানপন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো ইরাকজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক ও স্বার্থ সংশ্লিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে ‘বড় পরিসরে’ হামলা চালাচ্ছে। মূলত ইরাকের কুর্দি অঞ্চলে মার্কিন সেনা ঘাঁটি লক্ষ্য করে এসব হামলা ইরাকে মার্কিন নাগরিকদের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে।
পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস নাগরিকদের বাগদাদে অবস্থিত দূতাবাস কিংবা এরবিলে অবস্থিত কনস্যুলেট কার্যালয়ে না যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, ইরাকের আকাশসীমায় এখনো ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও রকেট হামলার ঝুঁকি রয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় দূতাবাস জানায়, পরিস্থিতি ঝুঁকিপূর্ণ হলেও ইরাকে তাদের পূর্ণ কার্যক্রম চালু রয়েছে এবং প্রয়োজনে নাগরিকদের সহায়তা দিতে তারা প্রস্তুত।
এদিকে, আকাশপথ বন্ধ থাকায় দেশ ছাড়তে ইচ্ছুক নাগরিকদের স্থলপথ ব্যবহার করার পরামর্শ দিয়েছে মার্কিন দূতাবাস। তাদের জর্ডান, কুয়েত, সৌদি আরব ও তুরস্কের পথে স্থলসীমান্ত দিয়ে বেরিয়ে যাওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
ইরান চুক্তি করতে মুখিয়ে আছে, নিজেদের ভয়ে প্রকাশ করছে না: ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের নেতারা যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি করতে মুখিয়ে আছে, তবে তারা ভয় পাচ্ছে নতি স্বীকার করলে ইরানের জনগণই তাদের হত্যা করবে। কাজেই তারা শান্তি চুক্তি আলোচনার কথা বারবার অস্বীকার করছে।
তিনি আরও দাবি করেছেন, হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার বিষয়ে আলোচনায় অংশ নেওয়া ইরানি কর্মকর্তারা যুক্তরাষ্ট্রকে একটি ‘বড় উপহার’ দিয়েছেন, যার আর্থিক মূল্য ‘অত্যন্ত বেশি’। অবশ্য ‘বড় উপহার’ বলতে কি বোঝাচ্ছেন তা তিনি স্পষ্ট করেননি।
বৃহস্পতিবার মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের নতুন সেক্রেটারির শপথ অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।
হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে বক্তব্য দিতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, ইরানের এই নমনীয় পদক্ষেপ থেকে তিনি বুঝেছেন, ইরান সঙ্গে সঠিক পক্ষের সঙ্গেই আলোচনা করছে।
যুক্তরাষ্ট্রের দাবি করা চলমান শান্তি আলোচনা প্রসঙ্গে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, ‘আমি কাউকেই পুরোপুরি বিশ্বাস করি না। তবে তেহরানের এই ‘উপহার’ আমাকে আশ্বস্ত করেছে যে আলোচনায় অগ্রগতি সম্ভব।’
‘তারা একটি চুক্তি করবে। গতকাল তারা এমন কিছু করেছে যা অবিশ্বাস্য। তারা আমাদের একটি উপহার দিয়েছে, যা আজ হাতে পৌঁছেছে। এটি খুব বড় একটি উপহার, যার মূল্য অনেক, তবে আমি তা প্রকাশ করব না।’
ইরান প্রসঙ্গে ট্রাম্প আরও দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র এই যুদ্ধে বড় ধরনের সাফল্য পাচ্ছে এবং ইরানের নেতারা একটি চুক্তি করতে আগ্রহী। তার ভাষায়, ‘যুদ্ধে আমরা বিশালভাবে এগিয়ে আছি। মধ্যপ্রাচ্যে ইরান নিয়ে আমরা যা করছি, তা আগে কেউ দেখেনি। তারা আলোচনা করছে এবং খুব করে চুক্তি করতে চায়, কিন্তু নিজেদের জনগণের ভয়ে তা প্রকাশ করতে পারছে না।’
ট্রাম্প আরও বলেন, ‘ইরানের নেতারা যুক্তরাষ্ট্রকেও ভয় পাচ্ছে। দেশটিতে নতুন নেতৃত্বের আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব নেওয়া এখন সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।’
সুত্র: এবিসি নিউজ
কৃষ্ণসাগরে তুরস্কের তেলবাহী জাহাজে ড্রোন হামলা
কৃষ্ণসাগরে তুরস্ক-পরিচালিত একটি অপরিশোধিত তেলবাহী জাহাজ ড্রোন হামলার শিকার হয়েছে। জাহাজটিতে ২৭ জন তুর্কি নাবিক ছিলেন।
বৃহস্পতিবার এসব তথ্য জানান তুরস্কের পরিবহনমন্ত্রী আবদুলকাদির উরালওগ্লু।
তুরস্কের রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তা সংস্থা আনাদোলুর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই ঘটনায় তাৎক্ষনিকভাবে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
দেশটির সংবাদমাধ্যম এনটিভি জানিয়েছে, জাহাজটি তুরস্কের বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বেসিকতাসের মালিকানাধীন এবং সিয়েরা লিওনের পতাকা বহন করছিল। জাহাজটি রাশিয়ার নোভোরোসিস্ক বন্দর থেকে প্রায় ১০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল নিয়ে যাত্রা শুরু করেছিল।
হরমুজ প্রণালীতে অচলাবস্থা, উপসাগরে আটকে আছে ৬ শতাধিক জাহাজ

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের প্রায় একমাসে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। এতে পারস্য উপসাগর ও ওমানের সামুদ্রিক অঞ্চলে ছয় শতাধিক জাহাজের জট তৈরি হয়েছে।
সামুদ্রিক গোয়েন্দা সংস্থা উইন্ডওয়ার্ডের প্রতিবেদন অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকা সত্ত্বেও পুরো উপসাগর এলাকায় বর্তমানে ৬৮৬টি জাহাজ অবস্থান করছে। এর মধ্যে প্রায় ৪০০টি জাহাজ ওমান উপসাগরে রয়েছে। তবে সীমিত আকারে কিছু চলাচল লক্ষ্য করা গেছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
উইন্ডওয়ার্ড বলছে, এই জাহাজের জট থেকেই বোঝা যায় যে অনেক অপারেটর হরমুজ প্রণালী পার হওয়ার ঝুঁকি না নিয়ে বাইরে অপেক্ষা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তাদের কাছে দীর্ঘ পথ ঘুরে যাওয়ার সুযোগ থাকলেও তারা সেটির পরিবর্তে যুদ্ধ থামার এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার অপেক্ষাকেই শ্রেয় মনে করছে।
সংস্থাটির পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ১৫ মার্চ থেকে ২২ মার্চ পর্যন্ত সময়ে স্বয়ংক্রিয় শনাক্তকরণ ব্যবস্থা (অটোমেটিক আইডেন্টিফিকেশন সিস্টেম) চালু থাকা কেবল ১৬টি জাহাজকে হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করতে দেখা গেছে। অন্য অনেক জাহাজগুলো শনাক্তকরণ ব্যবস্থা বন্ধ রেখে (ডার্ক শিপ) প্রণালী পার হওয়ার ঝুঁকিপূর্ণ চেষ্টা করলেও তাদের সফলতা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ধারণা করা হচ্ছে, প্রণালী এলাকায় ২৯০ মিটারের বেশি দৈর্ঘ্যের অন্তত আটটি ‘ডার্ক শিপ’ বা জাহাজ” চলাচল করছে।
এই ধরনের জাহাজের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয়ের নিষেধাজ্ঞায় থাকা একটি জাহাজও ছিল। সেটিকে সবশেষ গত ১৬ মার্চ সংযুক্ত আরব আমিরাতের খোর ফাক্কান বন্দরের কাছে দেখা যায়। পরে ইরানের হামলা থেকে বাঁচতে জাহাজটি তার শনাক্তকরণ ব্যবস্থা বন্ধ করে দেয়।
হরমুজ প্রণালী পারাপারে টোল আদায়ে নতুন আইন আনছে ইরান
হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী জাহাজ থেকে টোল আদায়ের জন্য নতুন আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে ইরান।
দেশটির ফার্স ও তাসনিম নিউজের খবরে বলা হয়, ইরানের পার্লামেন্টের সিভিল কমিটির প্রধান বলেছেন, এ সংক্রান্ত একটি খসড়া আইন এরইমধ্যে প্রস্তুত করা হয়েছে এবং শিগগিরই আইন প্রণয়নকারী দলের মাধ্যমে তা চূড়ান্ত করা হবে।
ওই কর্মকর্তা জানান, এই পরিকল্পনা অনুযায়ী হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাতায়াতকারী জাহাজগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইরানকে ফি বা টোল আদায় করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, ‘এটি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক বিষয়। অন্যান্য করিডোরে যেমন কোনো দেশের ভেতর দিয়ে পণ্য পরিবহন করলে শুল্ক দিতে হয়, তেমনি হরমুজ প্রণালীও একটি করিডোর। আমরা এর নিরাপত্তা নিশ্চিত করি, তাই জাহাজ ও তেলবাহী ট্যাংকারগুলোর টোল পরিশোধ করাই স্বাভাবিক।’
চলমান যুদ্ধ বন্ধের শর্ত হিসেবে ইরান হরমুজ প্রণালীর ওপর নিজেদের কর্তৃত্বের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি দাবি করছে। এই দাবি তাদের পাঁচটি প্রধান শর্তের একটি।
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনা শুরু হলে ‘শান্তির আশা’ দেখছে চীন

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনা শুরু হলে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তির পরিবেশ ফিরে আসার সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে বলে মনে করছে চীন।
চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই এক বিবৃতিতে জানান, ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে এরইমধ্যে তিনি মিশর ও তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছেন এবং যুদ্ধে জড়িত পক্ষগুলোর মধ্যে সংলাপ জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন।
মিশরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আবদেলাত্তির সঙ্গে আলাপে ওয়াং ই বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান উভয়ই আলোচনায় আগ্রহের ইঙ্গিত দিচ্ছে, যা শান্তির জন্য ‘একটি আশার ঝলক’ তৈরি করছে।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উচিত সংঘাতে জড়িত পক্ষগুলোর মধ্যে সংলাপ এগিয়ে নিতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করা। ওয়াং ই-এর ভাষায়, ‘আলোচনা শুরু হলেই শান্তির আশা তৈরি হয়। আলোচনায় বসাটাই প্রধান।’ সবাইকে ধৈর্য সহকারে যুদ্ধ থেকে বিরত থাকারও আহ্বান জানান তিনি।
তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানের সঙ্গেও একই ধরনের আলোচনা করেন ওয়াং ই। তিনি জানান, সংঘাত নিরসনে মধ্যস্থতার জন্য কায়রো ও আঙ্কারার উদ্যোগকে চীন সমর্থন করে এবং যুদ্ধ বন্ধে তাদের প্রচেষ্টাকে স্বাগত জানায়।
ইরাকে মার্কিন ঘাঁটিতে ২৩টি হামলার দাবি
ইরাকভিত্তিক সশস্ত্র গোষ্ঠী দ্য ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স ইন ইরাকের দাবি, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশটিতে এবং আশপাশের অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে মোট ২৩টি হামলা চালিয়েছে।
এক বিবৃতিতে তারা জানায়, গোষ্ঠীর প্রশিক্ষিত যোদ্ধারা এসব হামলা পরিচালনা করেছে। হামলাগুলোতে তারা ডজনখানেক ড্রোন ব্যবহার করেছে। তবে এসব হামলায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
ইরানের ওপর অস্ট্রেলিয়ার ভিসা নিষেধাজ্ঞা

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ইরানের নাগরিকদের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। বৃহস্পতিবার থেকে এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকরের ঘোষণা দিয়েছে দেশটির সরকার।
অস্ট্রেলিয়ার সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম এসবিএসের খবরে বলা হয়, ইরানের পাসপোর্টধারী যে সকল নাগরিক অস্ট্রেলিয়ায় ভ্রমণ ভিসার আবেদন করেছেন তারা আপাতত দেশটিতে প্রবেশ করতে পারবেন না। এমনকি যাদের কাছে ভিসা আছে তারাও পরবর্তী নির্দেশনা না পাওয়া পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ায় ঢুকতে পারবেন না।
দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানান্নো হয়েছে, এই নিষেধাজ্ঞা সর্বোচ্চ ১২ মাস বা এক বছর স্থায়ী হতে পারে। তবে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক এবং মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে তা আরও আগে প্রত্যাহারেরও সম্ভাবনা রয়েছে।
তবে কিছু ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়া হতে পারে। যেমন- অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক বা স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী-স্ত্রী বা নির্ভরশীল সন্তানদের জন্য বিশেষ অনুমতি থাকতে পারে। দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টনি বার্ক জানিয়েছেন, প্রয়োজন অনুযায়ী ‘অনুমোদিত ভ্রমণ সনদ’ আলাদাভাবে বিবেচনা করে দেওয়া হবে।
অবশ্য স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, অস্ট্রেলিয়ার পার্লামেন্টে সম্প্রতি গৃহীত বিতর্কিত অভিবাসন আইন সংশোধনের ফলেই এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। এতে প্রায় ৬১ হাজার অস্থায়ী ভিসাধারী ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অস্ট্রেলিয়ার পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সাল পর্যন্ত দেশটিতে ইরানের পাসপোর্টধারী প্রায় ৯১ হাজার ৫৮০ জন মানুষ বসবাসের তথ্য রয়েছে।
এদিকে ইরানের নাগরিকদের ওপর নিষেধাজ্ঞাকে ‘লজ্জাজনক’ বলে অস্ট্রেলিয়া সরকারের কঠোর সমালোচনা করেছে শরণার্থী সহায়তা সংস্থা ‘অ্যাসাইলাম সিকার্স সেন্টার’।
তাদের মতে, বৃহস্পতিবার থেকে কার্যকর হওয়া এই নিষেধাজ্ঞা একটি ‘লজ্জাজনক নতুন আইনের’ ফল, যা চলতি মাসের শুরুর দিকে অস্ট্রেলিয়ার পার্লামেন্ট তড়িঘড়ি করে পাস করেছে।
সিডনিভিত্তিক শরণার্থী সহায়তা সংস্থাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় জানায়, এই পদক্ষেপ অস্ট্রেলিয়ার অভ্যন্তরীণ সুরক্ষা কর্মসূচির ভিত্তিকেই আরও হুমকির মুখে ফেলছে।
বার্তায় আরও বলা হয়, বহু বছর ধরে রাজনীতিবিদরা নিরাপত্তা পাওয়ার জন্য তথাকথিত বৈধ পথ ব্যবহার করার গুরুত্বের ওপর জোর দিয়ে আসছিলেন। কিন্তু এখন, একটি আন্তর্জাতিক মানবিক সংকটের সময়ে দেশটির সরকার উল্টো দরজা বন্ধ করে দিচ্ছে এবং নিরাপত্তা খুঁজতে আসা মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি পথ বন্ধ করে দিচ্ছে।


