ইরানের ড্রোন হামলার পর কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বাণিজ্যিক বিমান চলাচল বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। মঙ্গলবার ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় বিমানবন্দর এলাকায় বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে কুয়েত।
দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৌদ আবদুল আজিজ আল-ওতাইবি বলেন, ‘একাধিক শত্রু ড্রোন কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের যাত্রী ভবন লক্ষ্য করে আঘাত হেনেছে। এতে ভবনটি গুরুতর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং কয়েকজন ব্যক্তি আহত হয়েছেন।’
মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের জেরে এক মাসের বেশি সময় বন্ধ থাকার পর গত সোমবার বিমানবন্দরটি বাণিজ্যিক বিমান চলাচলের জন্য ফের খুলে দেওয়া হয়।
এদিকে রয়টার্সের খবরে বলা হয়, মঙ্গলবার রাতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ইরানের সামরিক ঘাঁটিতে প্রতিশোধমূলক হামলা চালিয়েছে। এ সময় প্রতিশোধ হিসেবে কুয়েতের মার্কিন ঘাঁটিকে লক্ষ্যবস্তু করে দুটি ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে ইরান। তবে সেগুলো মাঝ আকাশেই প্রতিহত করা হয়।
কুয়েতের পাশাপাশি বাহরাইনকে লক্ষ্য করে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনও যুক্তরাষ্ট্র ও বাহরাইনের যৌথ প্রতিরক্ষা বাহিনী প্রতিহত করেছে বলে দাবি করেছে দেশটির সরকার।
অন্যদিকে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী জানিয়েছে, তারা বাহরাইন এবং আরেকটি দেশের মধ্যে মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম ফ্লিটের সদর দপ্তর লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। হরমুজ প্রণালিতে তেলবাহী জাহাজে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জবাবে এই পাল্টা হামলা চালানো হয়েছে।
এক বিবৃতিতে আইআরজিসি বলেছে, ‘আগ্রাসনের ক্ষেত্রে আমাদের প্রতিক্রিয়া ভিন্ন ও কঠোর হবে। আমরা সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নিয়েছি।’
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, তারা হরমুজ প্রণালীর কেশম দ্বীপে ইরানের সামরিক স্থল নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। একই সঙ্গে, ইরান দ্বারা কুয়েতের দিকে লক্ষ্য করে ছোড়া ড্রোনগুলোও ধ্বংস করা হয়েছে।
ইরানী সংবাদমাধ্যম ফারস ও তাসনিম জানিয়েছে, ইরানের কূটনীতিকরা যুদ্ধবিরতি মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে আর কোনো যোগাযোগ রাখছে না। লেবাননের ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে চলমান অভিযান ও উত্তেজনা বৃদ্ধির কারণে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছেন তারা।
ইরানের এক আঞ্চলিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদ সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে জানিয়েছেন, মঙ্গলবার ইরান মধ্যস্থতাকারী ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের সঙ্গে পুরোপুরি যোগাযোগ বন্ধ রেখেছে।
অবশ্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া পোস্টে দাবি করেছেন, ওয়াশিংটন-তেহরান আলোচনার বন্ধ হওয়ার খবর ‘মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর’।
তিনি বলেন, ‘আমাদের মধ্যকার আলোচনা ধারাবাহিকভাবে চলেছে, চার দিন আগে, তিন দিন আগে, দুই দিন আগে, এক দিন আগে এবং আজও। এগুলো কোথায় পৌঁছাবে তা কেউ জানে না, তবে আমি ইরানকে জানিয়েছি, সময় এসেছে, একভাবে বা অন্যভাবে, চুক্তি করতে হবে।’


