চোট কাটিয়ে মাঠে ফিরেই নিজের চেনা রূপ দেখালেন স্প্যানিশ ফুটবলের বিস্ময়বালক লামিন ইয়ামাল। হ্যামস্ট্রিং ইনজুরির কারণে দীর্ঘ দুই মাস মাঠের বাইরে থাকার পর প্রথমবারের মতো শুরুর একাদশে সুযোগ পেয়েই জালের দেখা পেলেন বার্সেলোনার এই তরুণ উইঙ্গার। আর তার এই গোলের ওপর ভর করেই বিশ্বকাপে স্পেনের আক্রমণভাগের দীর্ঘ গোলখরা এবং জড়তা দুই-ই কেটেছে। গ্রুপ ‘এইচ’-এর ম্যাচে সৌদি আরবকে ৪-০ গোলে বিধ্বস্ত করে এক দাপুটে জয় তুলে নিয়েছে সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
বিশ্বকাপের শিরোপার অন্যতম দাবিদার হিসেবে মিশন শুরু করলেও, প্রথম ম্যাচে নবাগত কেপ ভার্দের সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করে চরম হতাশ করেছিল স্পেন। বলের দখল থাকলেও আক্রমণে ছিল না কোনো ধার। ফলে বিশ্বমঞ্চে স্পেনের লক্ষ্য পূরণে ইয়ামালের প্রয়োজনীয়তা কতখানি, তা এই ম্যাচেই স্পষ্ট হয়ে ওঠে। কোচের নির্দেশে খেলোয়াড়রা প্রথম ম্যাচের সব সমালোচনা মাঠের পারফরম্যান্স দিয়েই জবাব দিয়েছেন।
ম্যাচের শুরু থেকেই সৌদি আরবকে চেপে ধরে লুইস ডি লা ফুয়েন্তের শিষ্যরা। ম্যাচের মাত্র ১০ মিনিটেই ডেডলক ভাঙেন ইয়ামাল। এরপর মিকেল ওয়ারজাবাল জোড়া গোল করে ২৪ মিনিটের মধ্যেই স্পেনকে ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন।
কোচ লুইস ডি লা ফুয়েন্তে ইয়ামালের খেলার সময় নিয়ে সতর্ক ছিলেন। বার্সেলোনার এই তরুণ তারকাকে বিরতির সময় মাঠ থেকে তুলে নেওয়া হয়। পরে হাসান আল-টামবাকতির আত্মঘাতী গোলে স্কোরলাইন দাঁড়ায় ৪-০।
ডি লা ফুয়েন্তে প্রথম ম্যাচের পর সমালোচনার জবাব দিতে তার খেলোয়াড়দের উদ্বুদ্ধ করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, সমালোচনায় দলটি হতাশ হয়েছে। মাঠে নেমে খেলোয়াড়রা তার জবাব জোরালোভাবেই দিয়েছেন।
ইয়ামালের পাশাপাশি পেড্রো পোরো, ডানি ওলমো ও এ্যালেক্স বায়েনাকেও প্রথম একাদশে সুযোগ দেওয়া হয়। বিশ্বকাপে নিজেদের শেষ গোলের পর থেকে ২,৫০০-এর বেশি পাস এবং ৫০টিরও বেশি শট নেওয়ার পর অবশেষে জালের দেখা পায় স্পেন। আর সেই প্রতীক্ষার অবসান ঘটান ইয়ামাল। ওয়ারজাবাল সৌদি রক্ষণভাগের পেছনে জায়গা বের করে নিচু ক্রস দেন। ১৮ বছর বয়সী ইয়ামাল সহজেই বল জালে পাঠিয়ে দলকে এগিয়ে দেন।
প্রথম ম্যাচে উরুগুয়ের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করা সৌদি আরব এই ম্যাচে অনেকটাই নিষ্প্রভ ছিল। দেশটির ঘরোয়া লিগের মান বাড়াতে বিপুল অর্থ ব্যয় করা হলেও জাতীয় দলে তার ইতিবাচক প্রভাব খুব একটা দেখা যায়নি।
সৌদি কোচ গিওর্গিওস ডোনিস বিশেষভাবে হতাশ ছিলেন, কারণ স্পেনের দুটি গোল কর্নার থেকে আসে। অমারিক লাপোর্তের হেড থেকে বল পেয়ে ওয়ারজাবাল ব্যবধান দ্বিগুণ করেন।
মাত্র তিন মিনিট পর ডানি ওলমোর হেড থেকে আসা বল ভলিতে জালে জড়িয়ে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন ওয়ারজাবাল। এটি ছিল জাতীয় দলের হয়ে শেষ ১৩ ম্যাচে তার ১৪তম গোল।
প্রথমার্ধেই হ্যাটট্রিকের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিলেন ওয়ারজাবাল। কিন্তু তার শট ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে।
বিরতির আগেই ম্যাচের ভাগ্য প্রায় নির্ধারিত হয়ে যাওয়ায় ডি লা ফুয়েন্তে ইয়ামাল ও ওয়ারজাবাল-দুজনকেই বিশ্রাম দেওয়ার সুযোগ পান।
তবে পরিবর্তনের পরও স্পেনের আক্রমণের গতি কমেনি। চতুর্থ গোলটিও আসে কর্নার থেকে। মার্ক কুকুরেলা ফাঁকা জায়গায় শট নেন। সৌদি গোলরক্ষক মোহাম্মদ আল-ওয়েসিস প্রথম শট ঠেকালেও ফিরতি বল দুর্ভাগ্যজনকভাবে আল-তামবাকতির গায়ে লেগে জালে ঢুকে যায়।
নিজের ৬৫তম জন্মদিনে কোচ ডি লা ফুয়েন্তের জন্য এটি ছিল আদর্শ এক ম্যাচ। দীর্ঘদিনের চোট কাটিয়ে ফেরা নিকো উইলিয়ামস ও মিকেল মোরিনোও বদলি হিসেবে নেমে গুরুত্বপূর্ণ কিছু সময় মাঠে কাটানোর সুযোগ পান।
অন্যদিকে এখন চাপ বেড়েছে ডোনিসের ওপর। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে হিউস্টোনে কেপ ভার্দে মুখোমুখি হবে সৌদি আরব। সেই ম্যাচে জয় পেলে ৩২ বছর আগে যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের পর প্রথমবারের মতো নকআউট পর্বে ওঠার সম্ভাবনা তৈরি হবে অ্যারাবিয়ান ফ্যালকন্সদের।
অন্যদিকে স্পেন আগামী শুক্রবার গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে দুইবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন উরুগুয়ের মুখোমুখি হবে।


