ইন্দোনেশিয়ার জাভা দ্বীপে ধসে পড়া একটি বহুতল বোর্ডিং স্কুলে আর কারও জীবিত থাকার সম্ভাবনা নেই বলে জানিয়েছেন উদ্ধারকারীরা। তিন দিন আগে স্কুলটি ধসে পড়ার পর থেকে নিখোঁজ ছিল ৫৯ জন শিক্ষার্থী।
আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার উদ্ধার অভিযানের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
জাভার সিদোয়ার্জো শহরে সোমবার দুপুরে আল খোজিনি ইসলামিক বোর্ডিং স্কুলের নামাজের জন্য শিক্ষার্থীরা জড়ো হওয়ার সময় হঠাৎ স্কুলের একটি অংশ ধসে পড়ে। উদ্ধারকারীরা জানিয়েছেন, এখন আর জীবিত কাউকে খুঁজে পাওয়ার আশা নেই।
মানবসম্পদ ও সাংস্কৃতিক বিষয়ক সমন্বয়মন্ত্রী প্রাতিকনো বলেন, এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে নিখোঁজদের পরিবারের সঙ্গে পরামর্শ করা হয়েছে। তবে ১৭ বছর বয়সী আহমাদ সুয়াফির বাবা মোহাম্মদ সোলেহোদিন আশা প্রকাশ করেছেন, ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে এখনো তার সন্তানকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হতে পারে।
পূর্বে বুধবার পাঁচজন জীবিত শিক্ষার্থীকে ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাতিকনো জানিয়েছেন, আরও কোনো জীবনের চিহ্ন না থাকলেও কাজ সতর্কতার সঙ্গে চলবে।
স্কুলের দুই তলা ধসে পড়েছে। অনুমতি ছাড়া আরও দুটি তলা নির্মাণ চলছিল।
পুলিশ জানিয়েছে, পুরোনো ভিত্তি অতিরিক্ত কংক্রিটের তলা বহন করতে সক্ষম ছিল না। এ পর্যন্ত পাঁচজন নিহত হয়েছেন, আহত প্রায় ১০৫ জনের মধ্যে দুই ডজনের বেশি এখনো হাসপাতালে রয়েছেন। বেশিরভাগ আহত শিক্ষার্থীর মাথায় আঘাত ও হাড় ভাঙার মতো গুরুতর চোট রয়েছে।
উদ্ধার কাজে প্রায় ২২০ জন কর্মী নিযুক্ত আছেন এবং অ্যাম্বুলেন্স প্রস্তুত রাখা হয়েছে। তবে উদ্ধারকর্মীরা মৃতদেহ বহনের ব্যাগও সঙ্গে নিয়ে এসেছেন।
জাতীয় দুর্যোগ মোকাবিলা সংস্থার প্রধান সুহারিয়ান্তো বলেন, ‘আমরা আর জীবিত থাকার সম্ভাবনা বিবেচনা করছি না, তবে সতর্কতার সঙ্গে কাজ চালিয়ে যাব।’


