ইরান থেকে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম উদ্ধার করতে দেশটির সঙ্গে কোনো চুক্তির প্রয়োজন নেই বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই মন্তব্য করেন।
ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা এখনই এটি (ইউরেনিয়াম) পেয়ে যেতে পারি। যদি চাই, মনে হয় না তারা আমাদের আটকাতে পারবে। তবে এর কোনো প্রয়োজন নেই, কারণ এটি এখন চাপা পড়া বা নিষ্ক্রিয় অবস্থায় আছে।’
মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানান, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা আলী খামেনির সঙ্গে বৈঠক করার কোনো ইচ্ছা তার বর্তমানে নেই। তবে ওয়াশিংটন ও তেহরান যদি কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে পারে, সে ক্ষেত্রে দুই নেতার বৈঠক হওয়া সম্ভব বলে তিনি উল্লেখ করেন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘যদি এমন কিছু ঘটে… তবে আমি অবশ্যই সম্মান প্রদর্শন করব।’
সম্প্রতি রয়টার্সকে দেওয়া এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেছিলেন, ইরান থেকে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম উদ্ধার করে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে আসতে কাজ করবে তার প্রশাসন। তিনি বলেন, ‘আমরা একসঙ্গে এ কাজ করব। ধীরে ধীরে সময় নিয়ে ইরানের ভেতরে ঢুকব এবং বড় বড় যন্ত্রপাতি দিয়ে খননকাজ শুরু করব… এরপর আমরা সেগুলো যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে আসব।’
সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প ‘নিউক্লিয়ার ডাস্ট’ বা পারমাণবিক ধূলিকণা শিগগিরই উদ্ধারের কথা বলেন। ধারণা করা হচ্ছে, গত বছরের জুনে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর তৈরি হওয়া অবশিষ্টাংশের দিকেই তিনি ইঙ্গিত করেছেন। ট্রাম্পের দাবি, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখাই ছিল ওই যুদ্ধের অন্যতম প্রধান কারণ।
তবে ইরানের দাবি, তারা কেবল শান্তিপূর্ণ বেসামরিক উদ্দেশ্যে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ করছে। ট্রাম্প আশা প্রকাশ করেছেন, ইরানের সঙ্গে দ্রুতই একটি চূড়ান্ত সমঝোতা হবে। তবে চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত ইরানের ওপর নৌ-অবরোধ বজায় রাখার ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি চুক্তিটি খুব দ্রুতই হবে। আমরা ইরানের সঙ্গে খুব ভালোভাবে এগোচ্ছি।’
ট্রাম্পের বক্তব্যের কড়া জবাব দিয়েছে তেহরান। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে বলেন, ‘ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম কোথাও স্থানান্তর করা হবে না। যুক্তরাষ্ট্রে ইউরেনিয়াম পাঠানো আমাদের জন্য কোনো বিকল্প হতে পারে না।’
তিনি আরও স্পষ্ট করে বলেন, ইউরেনিয়াম যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানোর কথা কখনোই ভাবা হয়নি। বাঘাইয়ের ভাষায়, ‘ইরানের মাটি যেমন পবিত্র, আমাদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামও ঠিক ততটাই গুরুত্বপূর্ণ।’


