বিদায় স্কাইপ! বিশ্বখ্যাত প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান মাইক্রোসফট এই সেবা বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে। সোমবার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে। এর মাধ্যমে প্রযুক্তি বিশ্বে অডিও-ভিডিও যোগাযোগ প্ল্যাটফর্মের একটি যুগের সমাপ্তি হলো।
২০০৩ সালে প্রযুক্তি দুনিয়ায় আত্মপ্রকাশ করে স্কাইপ। একসময় এর মাধ্যমে অনলাইন কল ও মেসেজ আদান-প্রদানে বিপ্লব ঘটেছিল। ২০১০-এর দশকে এটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করে। তবে ‘জুম’, ‘হোয়াটসঅ্যাপ’ ও মাইক্রোসফটের ‘টিমস’-এর মতো প্ল্যাটফর্মগুলোর ক্রমবর্ধমান দৌরাত্ম্যে স্কাইপের ব্যবহার আগের তুলনায় ব্যাপক হ্রাস পেয়েছে।
স্কাইপ ব্যবহারকারীরা ২০২৬ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত নিজেদের চ্যাট রেকর্ড, পরিচিতদের নম্বর ও বিভিন্ন ফাইল এক্সপোর্ট দেওয়ার সুযোগ পাবেন। এরপর সমস্ত ডেটা স্থায়ীভাবে মুছে ফেলা হবে বলে জানিয়েছে মাইক্রোসফট।
স্কাইপ বন্ধ করে ব্যবহারকারীদের ‘টিমস’ বেছে নিতে উৎসাহিত করছে মাইক্রোসফট। কারণ নিজেদের যোগাযোগ সেবাগুলো ‘মাইক্রোসফট টিমস’-এর অধীনে একীভূত করার পদক্ষেপ নিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। ‘মাইক্রোসফট টিমস’ প্ল্যাটফর্মটি সাম্প্রতিক সময়ে পেশাদার ও শিক্ষার্থী ব্যবহারকারীদের কাছে উল্লেখযোগ্য জনপ্রিয়তা পেয়েছে।
মাইক্রোসফট জানিয়েছে, ব্যবহারকারীরা নিজেদের বিদ্যমান স্কাইপ পরিচিতি ব্যবহারের মাধ্যমে টিমস প্ল্যাটফর্মে লগ-ইন করতে পারবেন। এক্ষেত্রে স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরিচিতদের নম্বর ও চ্যাট ইতিহাস স্থানান্তরিত হয়ে যাবে। টিমস-এ স্কাইপের বেশিরভাগ মূল বৈশিষ্ট্য থাকছে। সেই সঙ্গে এতে ক্যালেন্ডার ইন্টিগ্রেশন, ফাইল শেয়ারিং ও কমিউনিটি ম্যানেজমেন্টের মতো বাড়তি টুলস অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
স্কাইপ বন্ধ হওয়ার মধ্য দিয়ে একটি যুগের সমাপ্তি ঘটলেও মাইক্রোসফটের আশা, ‘মাইক্রোসফট টিমস’ প্ল্যাটফর্মটি ব্যবহারকারীদের আধুনিক ও সমন্বিত যোগাযোগের অভিজ্ঞতা দেবে।


