‘আমারে হালাইয়া হুতাইছে, পরে চুল কাটছে’

‘আমারে হালাইয়া হুতাইছে, পরে চুল কাটছে’
হালিম উদ্দিন আকন্দ। ছবি: সংগৃহীত
Advertisement
Advertisement

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্প্রতি ভাইরাল হওয়া ‘জোর করে চুল কেটে নেওয়া’ বৃদ্ধের পরিচয় মিলেছে। তার নাম হালিম উদ্দিন আকন্দ, তিনি ময়মনসিংহের তারাকান্দা উপজেলার কাশিগঞ্জের কোদালিয়া এলাকার আপন পাড়ার বাসিন্দা।

যে ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়েছে সেটি নতুন নয়, মাস চারেক আগের।

বিবিসি বাংলার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হালিম উদ্দিন আকন্দ স্থানীয়ভাবে বেশ পরিচিত। সারাদিন সন্ন্যাসীর বেশে এলাকায় ঘুরে বেড়ান, নানান ধরনের তাবিজ-কবজ দেন, জটিবুটির ওষুধ দেওয়ার পাশপাশি বিশ্বাসীদের ঝাড়ফুঁকও করেন। গত ৩৪ বছর ধরে তিনি চুল-দাড়ি লম্বা রাখেন, যে চুল চার মাস আগে কেটে দেওয়া হয়।

ভিডিওটি ভাইরাল হলে খোঁজ পড়ে বৃদ্ধের। কারণ সেখানে কোনো নাম-পরিচয় জানা যাচ্ছিল না। এরপরই বিভিন্ন গণমাধ্যম খুঁজে বের করে বৃদ্ধকে। জানা যায় পরিচয়, সেদিনের ঘটনাও।

সেদিনের ঘটনা প্রসঙ্গে শুক্রবার সকালে টাইমস অব বাংলাদেশের প্রতিবেদককে হালিম উদ্দিন জানান, ৮-১০ জন মানুষ মিলে তাকে চেপে ধরে চুল কেটে দেয়।

তিনি বলেন, ‘আমারে হালাইয়া হুতাইছে, হুতাইয়া পরে চুল কাটছে।’

আরও পড়ুন

এতজন মানুষ মিলে চেপে ধরলে তার কীই বা করার ছিল, প্রশ্ন রাখেন তিনি।

ময়মনসিংহের স্থানীয় ভাষায় বৃদ্ধ হালিম বলেন, ‘তারার ভালা লাগছে করছে, এহন আমি কী করবাম? আট-দশ জনে মিইলা ধইরাইলে আপনের কী করন? করছে তো খারাপই, তারার তো ভালো হইছে।  আমারে হালাইয়া হুতাইছে। হুতাইয়া পরে চুল কাটছে।’

ওই ঘটনার পর তিনি অসুস্থ হয়ে যান জানিয়ে হালিম বলেন, ‘এবেলা আমি মাইনষেরে চিন্তে পারি না।’

সাংবাদিকরা প্রশ্ন করেন তার তরিকা সম্পর্কে, কাকে গুরু মানেন তাও জানতে চান। জবাবে বৃদ্ধ বলেন, ‘কাদরিয়া তরিকাতে আছি। সাঁই বা গুরু হযরত শাহজালাল (র.), মিছামিছি কিছু কইতে পারতাম না।’

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটিতে দেখা যায়, দুইজন সাদা পাঞ্জাবি ও ভেস্ট ব্যক্তি একজন বৃদ্ধের চুল দাঁড়ি কেটে দিচ্ছে, একপর্যায়ে বৃদ্ধ লোকটি হাল ছেড়ে দিয়ে বলছেন ‘আল্লাহ তুই দেহিস’।

যে দুই ব্যক্তি বৃদ্ধ লোকের চুল দাঁড়ি কেটে দিচ্ছিলেন, তাদের মাথায় ছিল পাগড়ি। ভেস্টে ছিল একটি প্রতিষ্ঠানের লোগোও। তাদের জোর করে ওই বৃদ্ধকে এক জায়গায় বসিয়ে ‘ট্রিমার’ বা চুলদাড়ি কাটার মেশিন দিয়ে তার মাথায় চুল কাটতে দেখা যায়।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
টাইমস রিপোর্ট
টাইমস রিপোর্ট

Staff Reporter, Times of Bangladesh

সম্পর্কিত খবর