জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ আবু সাঈদকে যারা গুলি করেছিলেন, তাদের অমানুষ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন আদালত। বৃহস্পতিবার আবু সাঈদ হত্যা মামলার রায় ঘোষণার আগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরী এ বিষয়ে মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, ‘আবু সাঈদ দুই হাত প্রসারিত করে অকুতোভয় চিত্তে দাঁড়িয়েছিলেন। তিনি বিশ্বাস করেছিলেন, তার সামনে যারা দাঁড়িয়ে আছে তারা মানুষ, তাই তার কোনো ক্ষতি হবে না। কিন্তু তিনি তখন বুঝতে পারেননি যে, সেই মানুষগুলো অমানুষ হয়ে গেছে।’
এর আগে ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বলেন, ‘আজ আমরা এমন একটি মামলার রায় ঘোষণা করছি, সেটি হলো ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ আবু সাঈদ হত্যা মামলা।’
ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বলেন, ‘যে মানুষগুলোর সামনে আবু সাঈদ বুক পেতে দাঁড়িয়েছিলেন, তিনি ভেবেছিলেন সবাই মানুষ। কিন্তু না, তারা সেদিন সবাই অমানুষে পরিণত হয়েছিল।’
এরপর রায় ঘোষণা করা হয়। রায়ে সাবেক সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আমির হোসেন ও সাবেক কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়কে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। এই দুই আসামি আবু সাঈদকে গুলি করেছেন বলে বিচারে প্রমাণ হয়েছে।
এ ছাড়া সাবেক সহকারী কমিশনার মো. আরিফুজ্জামান, সাবেক পরিদর্শক (নিরস্ত্র) রবিউল ইসলাম ও সাবেক উপপরিদর্শক এসআই (নিরস্ত্র) বিভূতিভূষণ রায়কে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এ ছাড়া বাকি ২৫ আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে।


