দীর্ঘ ১৬ বছর পর ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের (ডিপিএল) শিরোপা জিতেছে মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব। বৃষ্টি ও ডাকওয়ার্থ-লুইস (ডিএলএস) পদ্ধতির রোমাঞ্চকর ফাইনালে মোহামেডান ৬৩ রানে হারিয়েছে টানা তিনবারের চ্যাম্পিয়ন আবাহনী লিমিটেডকে। ২০০৯ সালের ২১ ডিসেম্বরের পর মোহামেডানের এটিই প্রথম ডিপিএল শিরোপা, একই সঙ্গে টুর্নামেন্টটি লিস্ট ‘এ’র মর্যাদা পাওয়ার পর এটি তাদের প্রথম ট্রফি।
মোহামেডানের এই শিরোপার ভাগ্য কেবল নিজেদের ম্যাচেই নির্ধারিত হয়নি, পাশের মাঠে ঢাকা লেপার্ডস ডাকওয়ার্থ-লুইস পদ্ধতিতে প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাবকে ৯ রানে হারিয়ে দিলে নিশ্চিত হয় মোহামেডানের ট্রফি। খবরটি আসার পরপরই উল্লাসে ফেটে পড়েন মোহামেডানের খেলোয়াড় ও কোচেরা।
সকালে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৪ উইকেটে ৪০৬ রানের পাহাড় গড়ে মোহামেডান। এটি ঐতিহ্যবাহী মোহামেডান-আবাহনী লড়াইয়ের ইতিহাসে সর্বোচ্চ এবং বাংলাদেশের লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটের ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দলীয় রান। দলের হয়ে দ্বিতীয় উইকেটে মাত্র ২০২ বলে ২৪৮ রানের রেকর্ড জুটি গড়েন এনামুল হক বিজয় ও পারভেজ হোসেন ইমন।
ওপেনার বিজয় ১১৫ বলে ১৪১ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলেন, যাতে ছিল ১১টি চার ও ৯টি ছক্কা। এই সেঞ্চুরির মাধ্যমে বিজয় লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে ২৫টি সেঞ্চুরি করে তামিম ইকবালের ২৪টি সেঞ্চুরির রেকর্ড ভেঙে বাংলাদেশের এককভাবে সর্বোচ্চ সেঞ্চুরির মালিক হন। অন্যপ্রান্তে তিন নম্বরে নামা ইমন ১১৬ বলে ১০টি চার ও ১২টি ছক্কায় ১৫০ রানের টর্নেডো ইনিংস খেলেন। এরপর চার নম্বরে নেমে আফিফ হোসেন ৩৩ বলে খেলেন ৬১ রানের ঝড়ো ইনিংস এবং আনিসুল ইসলাম ১৬ বলে ৩০ রানে অপরাজিত থাকেন।
৪০৭ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই বিপদে পড়ে আবাহনী। সাব্বির হোসেন (১৯), জিসান আলম (৫) এবং অধিনায়ক মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন (৯) দ্রুত বিদায় নিলে ৭৯ রানে ৩ উইকেট হারায় তারা। তবে ওপেনার অনিক সরকার ৬৪ বলে ৮৫ রানের লড়াকু ইনিংস খেলে সাব্বির রহমানের সঙ্গে জুটি গড়েন।
আবাহনীর রান যখন ২৪ দশমিক ৪ ওভারে ৪ উইকেটে ১৭৮, তখন তীব্র বজ্রপাত ও বৃষ্টির কারণে খেলা বন্ধ হয়ে যায়। পরে আর খেলা শুরু করা সম্ভব না হওয়ায় ডাকওয়ার্থ-লুইস পদ্ধতিতে মোহামেডানকে ৬৩ রানে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। ম্যাচের ফল নিশ্চিত হতেই মাঠে আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। সমর্থকরা সাদা-কালো পতাকা ও আলোকবাজি নিয়ে উৎসবে মাতেন এবং দীর্ঘ ১৬ বছরের আক্ষেপ ভুলে বাঁধভাঙা বিজয়োল্লাসে মেতে ওঠে পুরো দল।


