আফগানিস্তানের খোসত প্রদেশে পাকিস্তানের বিমান হামলায় নয় শিশু ও এক নারী নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে তালেবান কর্তৃপক্ষ।
তালেবান প্রশাসনের মুখপাত্র জবিউল্লাহ মুজাহিদ মঙ্গলবার জানান, সোমবার মধ্যরাতে খোসত প্রদেশের গুরবুজ জেলার একটি বাড়িতে বোমা হামলা চালিয়েছে পাকিস্তান।
মুজাহিদ এক এক্স পোস্টে লিখেছেন, ‘পাকিস্তানি বাহিনী আফগানের স্থানীয় বেসামরিক বাসিন্দা ওলিয়াত খানের (কাজী মিরের ছেলে) বাড়িতে বোমা ফেলেছে।’
তিনি আরও জানান, নিহত শিশুদের মধ্যে পাঁচজন ছেলে ও চারজন মেয়ে। হামলার শিকার বাড়িটি পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে।
মুজাহিদের দাবি, রাতভর আফগানিস্তানের আরও কিছু শহরে বিমান হামলা হয়েছে। এর মধ্যে উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় কুনার প্রদেশ ও পূর্বাঞ্চলীয় পাকতিকা প্রদেশে বিমান হামলায় অন্তত চারজন বেসামরিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন।
তবে এ হামলার বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি পাকিস্তান।
এর আগে সোমবার পাকিস্তানের পেশওয়ারের ফেডারেল কনস্ট্যাবুলারি বাহিনীর সদর দপ্তরে আত্মঘাতী হামলার ঘটনা ঘটে। সশস্ত্র গোষ্ঠী পাকিস্তান তালেবান (টিটিপি) থেকে আলাদা হয়ে যাওয়া জামাতুল আহরার এই হামলার দায় স্বীকার করে।
পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম পিটিভির খবরে বলা হয়, হামলাকারীরা সবাই আফগান নাগরিক। প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি এই হামলার জন্য ‘বিদেশি সমর্থিত ফিতনা আল-খাওয়ারিজ’ বা টিটিপি যোদ্ধাদের দায়ী করেন। তার দাবি, সংগঠনটি আফগান ভূমি থেকে পাকিস্তানে একের পর এক হামলা চালাচ্ছে।
নভেম্বরের শুরুতে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদের একটি আদালতের সামনে আরেকটি আত্মঘাতী হামলায় অন্তত ১২ জন নিহত হন। সেবারও টিটিপির একটি শাখা ওই হামলার দায় স্বীকার করে।
২০২১ সালে তালেবান আফগানিস্তানে ক্ষমতা নেওয়ার পর থেকেই পাকিস্তান–আফগানিস্তান কূটনৈতিক সম্পর্কে উত্তেজনা দেখা যায়। একের পর এক পাল্টাপাল্টি হামলায় দুই দেশের মধ্যে অঘোষিত যুদ্ধ শুরু হয় গত অক্টোবরে। পাক-আফগান সীমান্তে তালেবান-পাক সেনা সংঘর্ষে দুই দেশের অন্তত ৭০ জন বেসামরিক নাগরিক প্রাণ হারান।
কাতার ও তুরস্কের মধ্যস্থতায় দুই পক্ষ সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে রাজি হলেও কোনো দীর্ঘমেয়াদি সমাধান আসেনি। এর পেছনে আফগানিস্তানের টিটিপি যোদ্ধাদের সমর্থনকেই মূল বাধা হিসেবে উল্লেখ করেছে ইসলামাবাদ।
তাদের অভিযোগ, কাবুলের তালেবান সরকার টিটিপিসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে আশ্রয় দিচ্ছে।
অন্যদিকে, আফগানিস্তান এসব অভিযোগ অস্বীকার করে পাল্টা দাবি করেছে- পাকিস্তানই আফগানবিরোধী দলগুলোকে আশ্রয় দিচ্ছে এবং আফগানিস্তানের সার্বভৌমত্বকে সম্মান করছে না।


