১৭ বছরের নির্বাসিত জীবন কাটিয়ে দেশে ফিরেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন তিনি। এরপর ৩০০ ফিটের জুলাই-৩৬ এক্সপ্রেসওয়েতে গণসংবর্ধনায় লাখো নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন।

তারেক রহমানের দেশে ফেরার খবরটি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে উল্লেখযোগ্যভাবে উঠে এসেছে।
বিশ্বের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে তাকে আগামী নির্বাচনে বাংলাদেশের ‘সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী’ এবং ‘গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের শীর্ষ নেতা’ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে।
কয়েকটি গণমাধ্যমে তার দেশে ফেরার খবর নিচে তুলে ধরা হলো।
এএফপি
বার্তা সংস্থা এএফপি তাদের প্রতিবেদনের শিরোনাম করেছে, ‘খালেদা জিয়ার উত্তরসূরি নির্বাসনের অবসান ঘটিয়ে ১৭ বছর পর দেশে ফিরলেন’।
প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশের দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা একটি রাজনৈতিক পরিবারের উত্তরসূরি এবং দেশের অন্যতম শক্তিশালী রাজনৈতিক দলের নেতা তারেক রহমান দেশে ফিরেছেন।
প্রতিবেদনে তার মা বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার কথাও উল্লেখ করে বলা হয়, ভবিষ্যতে তারেক রহমান দলের দায়িত্ব আরও সরাসরি হাতে নিতে পারেন–এমন ধারণা করা হচ্ছে।
এপি
এপি তাদের প্রতিবেদনের শিরোনাম করেছে, ‘১৭ বছরের নির্বাসন শেষে ফিরলেন বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রীর ছেলে, রয়েছে দেশ পরিচালনার সম্ভাবনা’।
প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশের একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রীর ছেলে ১৭ বছরেরও বেশি সময়ের স্বেচ্ছায় নির্বাসন কাটিয়ে দেশে ফিরেছেন। আসন্ন নির্বাচনে দেশের পরবর্তী নেতা হওয়ার দৌড়ে শীর্ষস্থানে থাকা এই নেতা একটি নিরাপদ দেশ গড়ার লক্ষ্যে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

তারেক রহমান ২০০৮ সালে উন্নত চিকিৎসার জন্য অনুমতি নিয়ে লন্ডনে পাড়ি জমিয়েছিলেন। ২০০৬ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকা সামরিক সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে হেফাজতে থাকাকালীন নির্যাতনের শিকার হওয়ার পর তিনি বিদেশে যান।
তারেক রহমান বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান, যা ১৭ কোটিরও বেশি মানুষের এই দক্ষিণ এশীয় দেশটির অন্যতম প্রধান দুটি রাজনৈতিক দলের একটি।
বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনের আগে তার এই প্রত্যাবর্তনকে রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
রয়টার্স
বার্তা সংস্থা রয়টার্স প্রকাশিত প্রতিবেদনের শিরোনাম ছিল ‘ভোটের আগে নির্বাসন থেকে ফিরলেন শীর্ষ প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী হিসেবে বিবেচিত বাংলাদেশ নেতা’।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ১৭ বছর নির্বাসনে থাকার পর ঢাকায় ফিরেছেন তারেক রহমান। তার দেশে ফেরা দলের সমর্থকদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করবে বলে দলটি আশা করছে।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনে তাকে সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শীর্ষ প্রার্থী হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এ ছাড়া তার প্রত্যাবর্তন উপলক্ষে সড়কজুড়ে লাখো সমর্থকের উপস্থিতি এবং কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার কথাও তুলে ধরা হয়।
বিবিসি
ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসি শিরোনাম করেছে ‘১৭ বছর নির্বাসনে থাকার পর দেশে ফিরেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী’।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ১৭ বছর নির্বাসনে থাকার পর জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে দেশে ফিরেছেন বাংলাদেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পথে এগিয়ে থাকা তারেক রহমান।
তারেক রহমানের নেতৃত্বে আগামী বছর অনুষ্ঠেয় জাতীয় নির্বাচনে অংশ নেওয়ার মধ্য দিয়ে ক্ষমতায় ফিরতে চায় বিএনপি। ২০০৮ সাল থেকে লন্ডনে বসবাস করা তারেক রহমান দেশের নতুন নেতা হতে পারেন বলে মনে করা হচ্ছে।
আল জাজিরা
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার শিরোনাম ‘বাংলাদেশের বিরোধীদলীয় নেতা তারেক রহমান ১৭ বছর নির্বাসনে থাকার পর দেশে ফিরেছেন’।
প্রতিবেদনে বলা হয়ে, দীর্ঘদিন বাংলাদেশের ক্ষমতায় থাকা পরিবারের উত্তরাধিকারী এবং দেশের প্রভাবশালী বিরোধী দলের নেতা তারেক রহমান প্রায় ১৭ বছর নির্বাসনে থাকার পর দেশে ফিরেছেন।
৬০ বছর বয়সী তারেক রহমান বাংলাদেশের সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী। ২০০৮ সালে দেশ ছাড়ার পর থেকে তিনি লন্ডনে ছিলেন। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে তাঁর ওপর নিপীড়ন চালানো হয়েছিল বলে অভিযোগ করেছিলেন তিনি।
আনাদোলু এজেন্সি
তুরস্কের আনাদোলু এজেন্সি লিখেছে, ‘১৭ বছর নির্বাসিত থাকার পর দেশে ফিরেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর পদপ্রার্থী তারেক রহমান।’
দ্য ডন
পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম ডনের শিরোনাম ‘১৭ বছর নির্বাসনের পর নির্বাচনের আগে দেশে ফিরলেন বাংলাদেশের সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী’।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রায় ১৭ বছর নির্বাসনে থাকার পর বৃহস্পতিবার ঢাকায় ফিরেছেন।
দলটির আশা, তার এই প্রত্যাবর্তন সমর্থকদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করবে। ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় নির্বাচনে তারেক রহমানকে প্রধানমন্ত্রী পদে শীর্ষ প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এনডিটিভি
ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভি তাদের প্রতিবেদনে শিরোনাম করেছে ‘খালেদা জিয়ার পুত্র তারেক রহমান বাংলাদেশে ফিরলেন, নির্বাসনের সময়টি যেমন ছিল’।
প্রতিবেদনে বলা হয়, তারেক রহমানের দেশে ফেরা উপলক্ষে সারা দেশ থেকে নজিরবিহীন মানুষের ঢল নেমেছে।
পাশাপাশি ২০০৮ সাল থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত তার রাজনৈতিক জীবন, নির্বাসনকাল এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার বিশ্লেষণ তুলে ধরা হয়েছে।
হিন্দুস্তান টাইমস
হিন্দুস্তান টাইমস তারেক রহমানের দেশে ফেরার পর দেওয়া বক্তব্যের একটি বিশেষ অংশকে শিরোনাম করেছে।
দ্য হিন্দু
ভারতের দৈনিক দ্য হিন্দুর শিরোনাম ‘বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ঢাকায় অবতরণ’।
প্রতিবেদনে বলা হয়, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কয়েক সপ্তাহ আগে ঢাকায় ফিরেছেন।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ১৭ বছর পর এমন এক সময় তারেক রহমান বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তন করেছেন, যখন নতুন ধরনের অশান্তি ও রাজনৈতিক অস্থিরতা দেশকে গ্রাস করেছে। জনপ্রিয় তরুণ নেতা শরিফ ওসমান বিন হাদির হত্যাকাণ্ড ঘিরে বাংলাদেশে সহিংস প্রতিবাদের ঘটনা ঘটেছে।
দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়া
দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়ার শিরোনাম, ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান’: ১৭ বছর পর বাংলাদেশে ফিরে মার্টিন লুথার কিংকে স্মরণ করলেন বিএনপির তারেক রহমান।”
কলকাতার আনন্দবাজার পত্রিকা
কলকাতার আনন্দবাজার পত্রিকা লিখেছে, ‘সপরিবার বাংলাদেশে ফিরলেন তারেক রহমান! ১৭ বছর পর খালেদা-পুত্রের প্রত্যাবর্তন আশা জোগাচ্ছে বিএনপিকে’।
দ্য নিউইয়র্ক টাইমস
যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের শিরোনাম ‘১৭ বছর নির্বাসনে থাকার পর বাংলাদেশের সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রীর প্রত্যাবর্তন’।
প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী পদে শীর্ষ প্রতিদ্বন্দীদের একজন তারেক রহমান ঢাকায় ফিরেছেন। তিনি প্রায় দুই দশক ধরে নির্বাসনে ছিলেন।
দেশে তাকে একাধিক মামলা মোকাবিলা করতে হয়েছিল। পুরোদমে নির্বাচনী মৌসুম শুরুর প্রাক্কালে তিনি দেশে ফিরলেন।
টিআরটি ওয়ার্ল্ড
তুরস্কের গণমাধ্যম টিআরটি ওয়ার্ল্ডের প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার অন্যতম দাবিদার তারেক রহামন দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসন থেকে দেশে ফিরেছেন।
আরব নিউজ
সৌদি আরবে গণমাধ্যম আরব নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, দীর্ঘ ১৭ বছরেরও বেশি সময় নির্বাসিত জীবন কাটিয়ে দেশে ফিরেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
বৃহস্পতিবার তাকে স্বাগত জানাতে ঢাকার রাজপথে লাখো সমর্থক ভিড় করেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সুযোগ্য পুত্র তারেক রহমান কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে একটি বাসে চড়ে বিশাল জনতাকে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান।
ঢাকার বিমানবন্দর থেকে সংবর্ধনাস্থল পর্যন্ত রাস্তার দুই পাশে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে জনতা জাতীয় ও দলীয় পতাকা নেড়ে, স্লোগান দিয়ে এবং ব্যানার ও ফুল হাতে তাকে অভিবাদন জানায়।
সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট
সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়, দীর্ঘ ১৭ বছরের স্বেচ্ছায় নির্বাসিত জীবন কাটিয়ে আনন্দিত ও উল্লসিত লাখো সমর্থকের উষ্ণ অভ্যর্থনার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে ফিরেছেন প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা এবং সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী তারেক রহমান।
প্রতিবেদনে বলা হয়, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ছেলে এবং বিএনপির উত্তরসূরি তারেক রহমান ঢাকার বিমানবন্দরে অবতরণের পর দলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।


