ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনার পর আদ-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল করে কোনো ভুল করেননি বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
মঙ্গলবার সকালে হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট হাসপাতালে হাম চিকিৎসা প্রোটোকল ক্লিনিক্যাল ম্যানেজমেন্ট গাইডলাইনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আদ-দ্বীন হাসপাতালে একটা বদ্ধ ঘর। সেখানে কোনো জানালা নেই। সেই বদ্ধ ঘরে এসি বন্ধ রেখে ছয় শিশু মারা গেলো। তাদের কর্তৃপক্ষের কেউ রুম ভিজিট পর্যন্ত করল না, ভাবা যায়। ওই বদ্ধ ঘরে কোনো অক্সিজেন নেই আর কার্বন-ডাই-অক্সাইড ছাড়ছে ১৬-১৭ জন মানুষ। সেখানে কতক্ষণ কেউ টিকে থাকতে পারে?’
তিনি যোগ করেন, ‘ছয় শিশু যখন কাঁদছিল তখন একজন নার্স একটা শিশুকে বাইরে নিয়ে গেলো, বাইরে যেতেই সে সুস্থ। আবার তাকে ওই রুমে আনল। কেন? তখনই তো বোঝার কথা শিশুর ওখানে কোনো সমস্যা হচ্ছে। বাকিদেরও তাহলে বাইরে নিতে হবে। তারা তা করল না।’
তাদের শাস্তি দেওয়া ঠিক হয়েছে কিনা প্রশ্ন তুলে সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘আমরা তাদের লাইসেন্স বাতিল করেছি। ছয় বেবিকে কেয়ারলেসলি রেখে মেরে ফেলবে অথিরিটিকে আঙুল দেখিয়ে। আমার মনে হয় না আমি ভুল করেছি।’
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘শুধু প্যাথলজির নয়, মগবাজার আদ-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে। তবে আদ-দ্বীন হাসপতালের অন্য শাখা থাকলে তা চলতে বাধা নেই।
গত ২৭ মে ভোররাতে আদ-দ্বীন হাসপাতালের অস্ত্রোপচার পরবর্তী ওয়ার্ডে কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে ছয় নবজাতকের মৃত্যু হয়। এই ঘটনার পর স্বাস্থ্য অধিদপ্তর (ডিজিএইচএস) তিন সদস্যের উচ্চ-পর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করে। কমিটির প্রতিবেদনে হাসপাতাল ব্যবস্থাপনায় একাধিক ত্রুটি, পরিবেশগত সমস্যা ও ওয়ার্ডের দায়িত্বে থাকা চিকিৎসক-নার্সদের অবহেলা চিহ্নিত করা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওয়ার্ডটি নবজাতক বা অস্ত্রোপচার-পরবর্তী রোগীদের জন্য উপযুক্ত ছিল না। সেখানে পর্যাপ্ত আলো ও বায়ুচলাচলের অভাব ছিল। শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাটি ছিল অপর্যাপ্ত, কাজ করত অনিয়মিতভাবে।
তদন্তে আরও দেখা গেছে, ঘটনার সময় ওয়ার্ডে কোনো ডাক্তার উপস্থিত ছিলেন না। নবজাতকদের অবস্থার অবনতি হলেও তারা সময়মতো চিকিৎসা পায়নি।


