আদ–দ্বীন হাসপাতালের রোগী স্থানান্তর নিয়ে উদ্বেগ

আদ–দ্বীন হাসপাতালের রোগী স্থানান্তর নিয়ে উদ্বেগ
Advertisement
Advertisement

আদ–দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্তকে ঘিরে রোগী ও তাদের স্বজনদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

হাসপাতাল বন্ধ বা কার্যক্রম সীমিত করার নির্দেশের পরিপ্রেক্ষিতে অনেকে বলছেন, এতে গুরুতর অবস্থায় থাকা রোগীদের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে এবং বিকল্প ব্যবস্থা ছাড়া হঠাৎ স্থানান্তর বাস্তবসম্মত নয়।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে সেখানে ৪১৬ জন রোগী ভর্তি আছেন। এছাড়া ১১ জুন বহির্বিভাগে (ওপিডি) প্রায় ১ হাজার রোগীকে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়েছে। বিশেষায়িত ইউনিটগুলোতেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সংকটাপন্ন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, এনআইসিইউতে ৬০ জন নবজাতক, আইসিইউতে ২০ জন এবং সিসিইউতে ৪ জন রোগী চিকিৎসাধীন আছেন।

হাসপাতালের বাইরে উদ্বিগ্ন অবস্থায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায় এক মাঝবয়সী ব্যক্তিকে। তিনি টাইমস অব বাংলাদেশকে বলেন, তার মেয়েকে দুই দিন আগে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বৃহস্পতিবার সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে সন্তান জন্ম দিয়েছেন মেয়ে।

তিনি বলেন, ‘এখন কি করবো বুঝতে পারছি না। আজ সিজার হলো, বেরিয়ে যাওয়ার অবস্থাও নেই আমার মেয়ের। হঠাৎ করে এরকম সিদ্ধান্ত দিলে কি করব আমরা? এখনও ঠিক করে বুঝছিই না কি সিদ্ধান্ত দিলো। সব ঠিকঠাক থাকলে আগামী পরশু হয়তো চলে যাবো।’

আরও পড়ুন

আরেকজন রোগীর স্বজন শেখ রেজোয়ানুল ইসলাম জানান, তার রোগী প্রায় এক মাস ধরে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন। বর্তমানে সিসিইউতে আরও কয়েকজন রোগী সংকটাপন্ন অবস্থায় আছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তার দাবি, চিকিৎসা চলমান অবস্থায় হঠাৎ করে প্রতিষ্ঠান বন্ধ হলে রোগীদের জন্য জটিল পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।

তিনি বলেন, ‘রোগী স্থানান্তরের মতো অবস্থায় না থাকায় জরুরি পরিস্থিতিতে কীভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, সিসিইউ ও ডায়ালাইসিসের মতো জরুরি সেবা হঠাৎ বন্ধ হলে রোগীদের জীবনঝুঁকি বাড়বে। বিকল্প পরিকল্পনা ছাড়া এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয় বলেও তিনি মত দেন।

ডায়ালাইসিস সেবার ওপর নির্ভরশীল আরেক রোগী আব্দুল মতিন বলেন, হঠাৎ সেবা বন্ধ হলে তা জীবনসংকট তৈরি করতে পারে। তার ভাষায়, ‘ডায়ালাইসিস ছাড়া বেঁচে থাকা সম্ভব নয় এবং নতুন স্থানে চিকিৎসা স্থানান্তর করা আমার জন্য বাস্তবসম্মত নয়।’

তিনি আরও বলেন, তুলনামূলকভাবে সাশ্রয়ী খরচে চিকিৎসা পাওয়ায় অনেক রোগী এই প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভরশীল। প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ হলে চিকিৎসা ব্যয় বহুগুণ বেড়ে যেতে পারে বলেও তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

এ বিষয়ে আদ–দ্বীন ফাউন্ডেশনের পরিচালক (কোম্পানি অ্যাফেয়ার্স) তারিকুল ইসলাম মুকুল সাংবাদিকদের বলেন, ‘সরকারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আমরা আপিল করব। তার আগ পর্যন্ত স্বাভাবিক কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারার জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কাছে আহ্বান জানাচ্ছি।’

ফাউন্ডেশনের আইন কর্মকর্তা শিহাব শাহরিয়ার বলেন, ‘আমাদের অনেক ক্রিটিকাল রোগী আছে, তাদের অন্য হাসপাতালে নিতে সময় লাগবে। দ্রুত আমরা সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করব।’

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাসপাতাল শাখার উপপরিচালক আবু আহমেদ শাফি জানান, ‘আর নতুন কোনো রোগী ভর্তি করা যাবে না। ভর্তি রোগীদের অবস্থা বুঝে দ্রুত স্থানান্তরের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad