পাকিস্তানের জনপ্রিয় গায়ক আতিফ আসলামের কনসার্ট বাতিলের পর টিকেট বিক্রির অর্থ ফেরত না দেওয়ায় ইভেন্ট আয়োজক প্রতিষ্ঠান ‘চলঘুরি লিমিটেড’ ও ‘মেইন স্টেজ ইনক’ এর ম্যানেজিং ডিরেক্টরসহ মোট পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।
সোমবার সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার আহসান হাবীব ভূঁইয়া বাদী হয়ে চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জাকির হোসেনের আদালতে এ নালিশী মামলার আবেদন করেন। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগকে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন।
চলঘুরি লিমিটেডসহ মামলায় পাঁচ অভিযুক্তরা হলেন, কাজী রাফসান, ব্রিতি সাবরিন খান, চলঘুরি লিমিটেডের ম্যানেজিং ডিরেক্টর আসিফ ইকবাল, ও প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান সিইও প্রমি ইসলাম।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, প্রধান অভিযুক্ত আসিফ ইকবাল খান ও ব্রিতি সাবরিন খান অপর আসামিদের যোগসাজশে কনসার্ট আয়োজনের জন্য প্রয়োজনীয় সরকারি অনুমতি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত না করেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে ব্যাপক প্রচারণা চালান এবং টিকেট বিক্রি শুরু করেন।
চলতি বছরের নভেম্বরের ১৬ তারিখ এ নাম্বার আসামীর দ্বারা পরিচালিত ফেইসবুক পেইজে একটি চমকপ্রদ বিজ্ঞাপন প্রচার করা হয় , উপমহাদেশের প্রখ্যাত কণ্ঠশিল্পী জনাব আতিফ আসলাম ঢাকায় লাইভ কনসার্ট করতে আসার ব্যপারে সম্মতি জানিয়েছেন। প্রথমে অনুষ্ঠান আয়োজনের স্থান প্রকাশ করা না হলেও পরবর্তীতে ওই পেইজেই জানানো হয়, অনুষ্ঠানটি পূর্বাচল নিউ টাউনে অবস্থিত আন্তর্জাতিক বানিজ্যমেলা প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হবে।
এতে আরও বলা হয়, এক নম্বর আসামীর এমন প্রচারণার ফলে সংবাদটি ভাইরাল হয়ে যায়। এ সময়ই দুই নম্বর আসামী ওই প্রচারণার বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়ানোর জন্য তার ‘মারভেল’ নামক ইন্সটাগ্রাম একাউন্ট থেকে কথিত কনসার্টের পক্ষে ব্যাপক প্রচার প্রচারণা চালাতে থাকেন।
এরপর অনেক সময় অতিবাহিত হলেও কনসার্টটি না হওয়ায় ভুক্তভোগীরা টাকা ফেরত চান বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়।
অভিযোগপত্রে বলা হয়, মামলার আসামিরা বিভিন্ন সময়ে অনলাইনের মাধ্যমে কিছু টাকা দেন এবং পরে কয়েকটি তারিখ দিয়ে এক পর্যায়ে ডিসেম্বরের ১২ তারিখ ফেইসবুকে জানান, সরকার কনসার্টটির অনুমতি দেয়নি। আগামী নির্বাচনের পর এটি অনুষ্ঠিত হবে। এরপরই বাদী আসামিদেরকে এ ঘটনায় টাকা ফেরত ও ক্ষমা চাওয়ার জন্য ৪৮ ঘন্টা সময় দিয়ে লিগ্যাল নোটিশ পাঠান।
কিন্তু আসামিরা ক্ষমা না চাওয়ায় কনসার্ট বাতিলের পর মামলার অন্যান্য স্বাক্ষীদের ৮৬ হাজার ৬৩২ টাকাসহ টিকিট কাটা অনেকের অর্থ প্রতারণা করে হাতিয়ে নেওয়ার দায়ে বাদী মামলাটি করেন।
মামলায় আরও উল্লেখ করা হয়, আসামিরা তাদের পাওনা টাকা ফেরত না দিয়ে টালবাহানা শুরু করেন, যা পরিকল্পিত প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের শামিল।


