ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ‘কঠিন পরীক্ষা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
কাকরাইলে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটের হলে বিএনপির উদ্যোগে দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ৯০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় তিনি এই মন্তব্য করেন। সোমবার ১৯ জানুয়ারি ছিল জিয়াউর রহমানের জন্মবার্ষিকী। দিবসটি পালনে দুই দিনব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে এই আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমরা নির্বাচন চাই। আমরা জনগণের কাছে যাব। জনগণ যদি আমাদেরকে গ্রহণ করে, আমরা আছি। আর যদি বাদ দেয়, আমরা বিরোধী দলে থাকব।’
পরীক্ষাটা খুব কঠিন উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এই নির্বাচনে নির্ধারিত হবে, দেশ কি লিবারেল ডেমোক্রেটদের হাতে থাকবে নাকি উগ্রপন্থী রাষ্ট্রবিরোধী লোকজনের মধ্যে থাকবে? আমাদেরকে অবশ্যই সেই উদারপন্থি রাস্তা বেছে নিতে হবে, গণতন্ত্রের রাস্তা বেছে নিতে হবে, মানুষের কল্যাণের রাস্তা বেছে নিতে হবে।’
এসময় জামায়াতে ইসলামীর অতীত ভূমিকার সমালোচনা করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘ধর্মকে ব্যবহার করে, মানুষকে বিভ্রান্ত করে, ভুল বুঝিয়ে বলছে, দাঁড়ি পাল্লায় ভোট দিলে নাকি বেহেশতে যেতে পারবে। তাহলে আর নামাজ পড়া, আল্লাহর কাছে কমপ্লিট সারেন্ডার করা, ঈমান আনা, এগুলো দরকার নাই নাকি?’
তিনি বলেন, আজ দেশের প্রতিটি মানুষ ভোটের জন্য উন্মুখ হয়ে আছে, বাংলাদেশের জাতীয়তাবাদের রাজনীতি, তারেক রহমানের নতুন রাজনীতি, আধুনিক রাজনীতি যা বাংলাদেশকে পাল্টে দেবে তা গ্রহণ করার জন্য মানুষ উন্মুখ হয়ে আছে। তখন তারা আবার বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে ধর্মের নামে।
যারা নির্বাচন নিয়ে হুমকি-ধামকি দিয়েছে তাদের প্রতি ইঙ্গিত করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘অনেকে নির্বাচন হবে কিনা, নির্বাচন করতে দেব না, কত কী বলেছিল। ভেতরে ভেতরে খবর নিয়ে দেখেন তাদের তিনটা ভোট নাই। নির্বাচন হোক, দেখা যাবে কে কতটা ভোট পায়।’
প্রয়াত জিয়াউর রহমানের বর্ণাঢ্য জীবনের কথা উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘একজন অনন্য নেতা ছিলেন তিনি। তার নেতৃত্বে আলাদা একটা ভূখণ্ড তৈরি হয়েছে। স্বাধীন একটা ভূখন্ড তিনি এই জাতিকে উপহার দিয়েছেন। গত কয়েকদিন আগে আমাদের আরেকজন নেত্রী সমস্ত জীবন দিয়ে আমাদের জন্য কাজ করে গেছেন আমাদের গণতন্ত্র মুক্ত করেছেন, আমাদেরকে পথ দেখিয়েছেন, সেই নেত্রীকে আমরা হারিয়েছি। এরপর তাদেরই উত্তরসূরী তারেক রহমান। তিনি সেই পতাকা তুলে ধরেছেন।’
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সভাপতিত্বে ও সহদপ্তর সম্পাদক তারিকুল ইসলাম তেনজিংয়ের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সপু।


